ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ট্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছো তুমি মেঘবন্দি কুলাউড়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার লাল সবুজের দেশ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে আছে যারা? উত্তরখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল  চালকের বেদনা বৃষ্টি হয়ে ঝরে ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, মামা-ভাগ্নির মৃত্যু আষাঢ় আকাশ ছোঁয়া বর্ষামুখ জনবল নেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সাদা কালো সময় পোকার টুর্নামেন্ট নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন নেইমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানে অস্ত্র ও কার্তুজসহ ডাকাত গ্রেপ্তার অধ্যাপক আবদুল করিম: অনন্য মনীষা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান দেবেন না: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতার জন্য মানুষই বেশি দায়ী নিরাপদ ও বহিরাগতমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ দিল্লির রাজপথ থেকে লোকসভায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার বিনিদ্র এলিজি চেতনায় নজরুল: সু-সম্পাদিত একটি দুর্লভ আকর-গ্রন্থ কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি পদোন্নতি-পদায়নে টানাপোড়েনে প্রশাসন ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনছে নরওয়ে মতলবে তুলার মিলে আগুনে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের একটি গোপন স্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর যুদ্ধের জন্য নতুন ড্রোনের প্রদর্শন করে। ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর কয়েকটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। এ ছাড়া উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিও সরবরাহ করেছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলেছে, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানকে রাশিয়া দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়ে আসছে।

এর আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানকে রাশিয়া সহায়তা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলাদা তদন্তের তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সিআইএর অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ইরাকের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরও কিছু সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে: গোয়েন্দা নথি

পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ওই নথি দেখেছেন বলে দাবি করেন। তবে নথিটির সুনির্দিষ্ট উৎস প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি সংযোজিত ইরানি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের একটি দুর্বল অংশে আঘাত করে ছিদ্র করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। তবে সেই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি সত্যিই সিআইএর মতো সংবেদনশীল স্থাপনার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা হবে বড় ধরনের বার্তা। এর অর্থ, ওয়াশিংটন যখন ইরান যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে, তখন মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলার পর এ সন্দেহ আরও বেড়েছে। ওই হামলায় ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এতে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।

এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গোপন সিআইএ স্থাপনা

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত সংস্করণের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে কোমেটা-এম নামে একটি উন্নত স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল। একই সঙ্গে এটি সহজে জ্যাম করা যায় না। মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। তবে ক্রেমলিন তখন প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেয়।

বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের মধ্যে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন রয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং গোপন অপারেশন পরিচালনার বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়।

সূত্রগুলো হামলার শিকার হওয়া স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। একটি সূত্র বলেছে, একাধিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।

রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার

মার্কিন গোয়েন্দারা এখন তদন্ত করছেন, রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে নিখুঁত টার্গেটে হামলা করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে। কয়েকজন তদন্তকারী মনে করছেন, ইরানের লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসই ছিল। সে ক্ষেত্রে সিআইএ স্টেশনটি কাকতালীয়ভাবে আঘাতের শিকার হতে পারে। আবার কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশই এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।

সাবেক সিআইএ স্টেশনের প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেছেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় এ ধরনের সহায়তা অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষায়, দুই দেশই নিজেদের প্রভাব বলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনতে বা পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চায়। সূত্র: রয়টার্স।

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ এএম
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কহার কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশও রয়েছে তালিকায়।

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার আইনি বৈধতা ছিল না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নে বিকল্প আইনি পথ অনুসন্ধান শুরু করে।

গত মাসে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয়, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতির মতো বিষয়গুলোর সংশোধন শুরু করবে, যা সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন গ্রিয়ার, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করে এমন অনুশীলনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ ব্যবহার করে কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায়, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬০টি দেশের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।

কার্যালয়টি আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন পর্যন্ত ১০টি দেশ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক তদন্তের পর আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর যারা এখনো এমন পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে শুল্কহার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গ্রিয়ার বলেন, যেসব দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, তা উৎসাহব্যঞ্জক। এসব দেশ যাতে কার্যকরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও আগ্রাসী বাণিজ্যনীতির ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত বহন করছে।

হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-এমনটি প্রমাণ করা অনেক দেশের জন্যই কঠিন হবে। ফলে নতুন শুল্কের আওতা থেকে বেরিয়ে আসাও তাদের জন্য সহজ হবে না।

অন্যদিকে, এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি কাটলার মনে করেন, নতুন এই শুল্কের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে। তবে কিছু পণ্যকে শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে এর সামগ্রিক প্রভাব কিছুটা সীমিত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্কে অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদার দেশই অসন্তুষ্ট হবে। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।

বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

নতুন শুল্ক আরোপের পর এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি দেশ।

ব্রাজিল সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘খামখেয়ালি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটি অভিযোগ করেছে, শ্রমিকদের অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র তার সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির স্বার্থে ব্যবহার করছে।

ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের জবাবে দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা নিজেদের ‘পারস্পরিকতা আইন’ অনুযায়ী পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দিকেও গুরুত্ব দেবে।

এর আগে চলতি মাসেই ব্রাজিল থেকে আমদানি করা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে গরুর মাংস ও কফির মতো কয়েকটি পণ্যকে ওই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জাপান সরকার নতুন শুল্ক আরোপে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, দেশটির বাণিজ্য কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনেই পরিচালিত হয়।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল এই শুল্ককে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে তার সরকার। সূত্র: বিবিসি

এসজি/

অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশ নিয়েই অনশন করছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জে পি নাড্ডা) ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন তিনি।

এর আগে, জিতেন্দ্র সিং ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর সঙ্গে কথা বলে সরকার আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে আশ্বাস দেন। পরে জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের হাতে সরকারের আশ্বাসপত্র তুলে দেন।

হাসপাতালে ওয়াংচুকের স্ত্রী ও উপস্থিত অন্যদের সামনে সরকারের আশ্বাসপত্র পড়ে শোনান জে পি নাড্ডা। তিনি বলেন, ‘গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

নাড্ডা আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা খুশি যে সোনম স্যার ২৬ দিন পরে তার অনশন শেষ করেছেন। আপনার অসাধারণ সাহস এবং ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ স্যার। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোটা দেশের চেতনাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার জীবন এই দেশের কাছে খুবই মূল্যবান।’

তিনি আরও জানান, সোনাম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এসজি/

যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জর্জিয়ার মারিয়েটার হুইলার হাইস্কুলে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে গত কয়েক মাসে একের পর এক জোরালো দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি ততই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক শুনানিতেও বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্চে তিনি দাবি করেন, ইরানের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এমনকি নেতৃত্বও নেই। এপ্রিলে বলেন, দেশটি আর পাল্টা লড়াই করতে পারবে না। মে মাসে তার ভাষ্য ছিল, ইরানের সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতেও তিনি বলেন, ইরানের আর কোনো সামরিক শক্তি অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। এসব হামলায় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও আহতও হন।

এর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে আসে, ইরানের এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি দ্রুত বিভিন্ন সক্ষমতা পুনর্গঠনও করছে। পরে ট্রাম্প নিজেও কয়েকবার স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন, পুরো অভিযান শেষ হতে চার সপ্তাহের বেশি লাগবে না। কখনো তিনি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ, আবার কখনো চার থেকে ছয় সপ্তাহের কথা বলেন। তার দাবি ছিল, অভিযান নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে। 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। বরং সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার ট্রাম্প আবারও হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ থামার বদলে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার যে পূর্বাভাস তিনি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা সত্য হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

১৩ জুলাই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই এখন হরমুজ প্রণালির রক্ষক।’ 

পরে আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ‘আমরাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণে। ইরান কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণে নেই।’ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ জোরদার করলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরান ওই এলাকায় একাধিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ইরানের হয়রানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ওমান উপকূলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

তেলের দাম কমার দাবি

জুনের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শিগগিরই যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ৮ জুলাইও তিনি বলেন, তার ক্ষমতায় আসার সময়ের চেয়েও তেলের দাম কমে গেছে। এমনকি তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, তেলের দাম ‘দ্রুতগতি’তে কমছে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার দ্রুত বাড়তে থাকে।
গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭ ডলারে ওঠে, যা প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলার। দুই ধরনের তেলের দামই যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।

এদিকে গত বুধবার জর্জিয়ায় এক ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, শিগগিরই তেলের দাম ধসে পড়বে। তিনি এ জন্য দেশবাসীকে ‘আরও একটু সময়’ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র: সিএনএন 

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের একটি গোপন স্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর যুদ্ধের জন্য নতুন ড্রোনের প্রদর্শন করে। ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর কয়েকটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। এ ছাড়া উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিও সরবরাহ করেছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলেছে, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানকে রাশিয়া দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়ে আসছে।

এর আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানকে রাশিয়া সহায়তা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলাদা তদন্তের তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সিআইএর অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ইরাকের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরও কিছু সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে: গোয়েন্দা নথি

পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ওই নথি দেখেছেন বলে দাবি করেন। তবে নথিটির সুনির্দিষ্ট উৎস প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি সংযোজিত ইরানি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের একটি দুর্বল অংশে আঘাত করে ছিদ্র করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। তবে সেই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি সত্যিই সিআইএর মতো সংবেদনশীল স্থাপনার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা হবে বড় ধরনের বার্তা। এর অর্থ, ওয়াশিংটন যখন ইরান যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে, তখন মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলার পর এ সন্দেহ আরও বেড়েছে। ওই হামলায় ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এতে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।

এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গোপন সিআইএ স্থাপনা

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত সংস্করণের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে কোমেটা-এম নামে একটি উন্নত স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল। একই সঙ্গে এটি সহজে জ্যাম করা যায় না। মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। তবে ক্রেমলিন তখন প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেয়।

বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের মধ্যে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন রয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং গোপন অপারেশন পরিচালনার বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়।

সূত্রগুলো হামলার শিকার হওয়া স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। একটি সূত্র বলেছে, একাধিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।

রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার

মার্কিন গোয়েন্দারা এখন তদন্ত করছেন, রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে নিখুঁত টার্গেটে হামলা করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে। কয়েকজন তদন্তকারী মনে করছেন, ইরানের লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসই ছিল। সে ক্ষেত্রে সিআইএ স্টেশনটি কাকতালীয়ভাবে আঘাতের শিকার হতে পারে। আবার কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশই এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।

সাবেক সিআইএ স্টেশনের প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেছেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় এ ধরনের সহায়তা অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষায়, দুই দেশই নিজেদের প্রভাব বলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনতে বা পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চায়। সূত্র: রয়টার্স।

৭৪ বছর পর মিলল আটলান্টিকে হারিয়ে যাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
৭৪ বছর পর মিলল আটলান্টিকে হারিয়ে যাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ
ছবি: সংগৃহীত

উড্ডয়নের মাত্র ৯ মিনিট পর আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন বিমান সংস্থা প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের (প্যান অ্যাম) একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ ৭৪ বছর পর উদ্ধার করেছেন অনুসন্ধানকারীরা। আধুনিক সোনার প্রযুক্তি ও পানির নিচে পরিচালিত ড্রোনের সহায়তায় সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ডিসকভারি চ্যানেলের ‘এক্সপেডিশন আননোন’ দলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য আসে। উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘ডিপ সি ভিশন’ও অংশ নেয়।

ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানের ইসলা গ্রান্দে বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে প্যান অ্যামের ‘ডগলাস ডিসি-৪ ফ্লাইট ৫২৬এ’। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৪ জন যাত্রী এবং পাইলটসহ পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ১২ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রুসহ মোট ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। বাকি সবাই নিহত হন।

এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাস ম্যাথিউস বলেন, ‘এত বছর পর বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও আবেগের।’ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতিও তারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, পুয়ের্তো রিকোর উত্তর উপকূল থেকে কিছু দূরে সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে ধ্বংসাবশেষটি পাওয়া গেছে। ১৯৫২ সালের পর একাধিকবার অনুসন্ধান চালানো হলেও আগে এর কোনো সন্ধান মেলেনি। এবার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোনার প্রযুক্তি ও পানির নিচে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করে বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটির তিন নম্বর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তখন বিমানটি মাত্র ৩৫০ ফুট উচ্চতায় ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে আবার পুয়ের্তো রিকোয় ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানটি ৫৫০ ফুট পর্যন্ত উঠলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চার নম্বর ইঞ্জিনও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন জন সি. বার্ন জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন এবং সমুদ্রে বিমান নামানোর প্রস্তুতি নেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, ‘ইসলা গ্রান্দে বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত মাইল উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রে অবতরণের চেষ্টা করবেন।’ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিমানটি পানিতে অবতরণ করে। তবে আঘাতের সময় সেটি দুই টুকরো হয়ে যায়। অনেক যাত্রী ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তাল ঢেউ ও ঠান্ডা পানির কারণে অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে সমুদ্রপথে পরিচালিত উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। যাত্রীদের জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

দুর্ঘটনার তদন্তে আরও উঠে আসে, বিমানটির ইঞ্জিন দীর্ঘদিন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশেও ত্রুটি ছিল, যা উড্ডয়নের আগে শনাক্ত করা যায়নি। তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন। যদিও পাইলটের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, পরে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দায়মুক্তি পান।

দুর্ঘটনার পর কয়েক দশক ধরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে একাধিক অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও অনুসন্ধান করা হলে তা ব্যর্থ হয়। এবার আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অনুসন্ধানকারীরা ধ্বংসাবশেষের প্রায় সাড়ে তিন লাখ ছবি ধারণ করেছেন। তবে দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

সূত্র: আনন্দবাজার