ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ট্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছো তুমি মেঘবন্দি কুলাউড়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার লাল সবুজের দেশ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে আছে যারা? উত্তরখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল  চালকের বেদনা বৃষ্টি হয়ে ঝরে ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, মামা-ভাগ্নির মৃত্যু আষাঢ় আকাশ ছোঁয়া বর্ষামুখ জনবল নেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সাদা কালো সময় পোকার টুর্নামেন্ট নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন নেইমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানে অস্ত্র ও কার্তুজসহ ডাকাত গ্রেপ্তার অধ্যাপক আবদুল করিম: অনন্য মনীষা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান দেবেন না: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতার জন্য মানুষই বেশি দায়ী নিরাপদ ও বহিরাগতমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ দিল্লির রাজপথ থেকে লোকসভায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার বিনিদ্র এলিজি চেতনায় নজরুল: সু-সম্পাদিত একটি দুর্লভ আকর-গ্রন্থ কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি পদোন্নতি-পদায়নে টানাপোড়েনে প্রশাসন ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনছে নরওয়ে মতলবে তুলার মিলে আগুনে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জর্জিয়ার মারিয়েটার হুইলার হাইস্কুলে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে গত কয়েক মাসে একের পর এক জোরালো দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি ততই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক শুনানিতেও বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্চে তিনি দাবি করেন, ইরানের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এমনকি নেতৃত্বও নেই। এপ্রিলে বলেন, দেশটি আর পাল্টা লড়াই করতে পারবে না। মে মাসে তার ভাষ্য ছিল, ইরানের সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতেও তিনি বলেন, ইরানের আর কোনো সামরিক শক্তি অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। এসব হামলায় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও আহতও হন।

এর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে আসে, ইরানের এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি দ্রুত বিভিন্ন সক্ষমতা পুনর্গঠনও করছে। পরে ট্রাম্প নিজেও কয়েকবার স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন, পুরো অভিযান শেষ হতে চার সপ্তাহের বেশি লাগবে না। কখনো তিনি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ, আবার কখনো চার থেকে ছয় সপ্তাহের কথা বলেন। তার দাবি ছিল, অভিযান নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে। 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। বরং সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার ট্রাম্প আবারও হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ থামার বদলে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার যে পূর্বাভাস তিনি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা সত্য হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

১৩ জুলাই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই এখন হরমুজ প্রণালির রক্ষক।’ 

পরে আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ‘আমরাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণে। ইরান কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণে নেই।’ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ জোরদার করলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরান ওই এলাকায় একাধিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ইরানের হয়রানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ওমান উপকূলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

তেলের দাম কমার দাবি

জুনের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শিগগিরই যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ৮ জুলাইও তিনি বলেন, তার ক্ষমতায় আসার সময়ের চেয়েও তেলের দাম কমে গেছে। এমনকি তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, তেলের দাম ‘দ্রুতগতি’তে কমছে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার দ্রুত বাড়তে থাকে।
গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭ ডলারে ওঠে, যা প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলার। দুই ধরনের তেলের দামই যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।

এদিকে গত বুধবার জর্জিয়ায় এক ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, শিগগিরই তেলের দাম ধসে পড়বে। তিনি এ জন্য দেশবাসীকে ‘আরও একটু সময়’ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র: সিএনএন 

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ এএম
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কহার কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশও রয়েছে তালিকায়।

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার আইনি বৈধতা ছিল না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নে বিকল্প আইনি পথ অনুসন্ধান শুরু করে।

গত মাসে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয়, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতির মতো বিষয়গুলোর সংশোধন শুরু করবে, যা সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন গ্রিয়ার, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করে এমন অনুশীলনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ ব্যবহার করে কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায়, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬০টি দেশের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।

কার্যালয়টি আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন পর্যন্ত ১০টি দেশ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক তদন্তের পর আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর যারা এখনো এমন পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে শুল্কহার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গ্রিয়ার বলেন, যেসব দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, তা উৎসাহব্যঞ্জক। এসব দেশ যাতে কার্যকরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও আগ্রাসী বাণিজ্যনীতির ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত বহন করছে।

হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-এমনটি প্রমাণ করা অনেক দেশের জন্যই কঠিন হবে। ফলে নতুন শুল্কের আওতা থেকে বেরিয়ে আসাও তাদের জন্য সহজ হবে না।

অন্যদিকে, এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি কাটলার মনে করেন, নতুন এই শুল্কের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে। তবে কিছু পণ্যকে শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে এর সামগ্রিক প্রভাব কিছুটা সীমিত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্কে অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদার দেশই অসন্তুষ্ট হবে। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।

বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

নতুন শুল্ক আরোপের পর এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি দেশ।

ব্রাজিল সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘খামখেয়ালি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটি অভিযোগ করেছে, শ্রমিকদের অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র তার সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির স্বার্থে ব্যবহার করছে।

ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের জবাবে দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা নিজেদের ‘পারস্পরিকতা আইন’ অনুযায়ী পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দিকেও গুরুত্ব দেবে।

এর আগে চলতি মাসেই ব্রাজিল থেকে আমদানি করা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে গরুর মাংস ও কফির মতো কয়েকটি পণ্যকে ওই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জাপান সরকার নতুন শুল্ক আরোপে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, দেশটির বাণিজ্য কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনেই পরিচালিত হয়।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল এই শুল্ককে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে তার সরকার। সূত্র: বিবিসি

এসজি/

অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশ নিয়েই অনশন করছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জে পি নাড্ডা) ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন তিনি।

এর আগে, জিতেন্দ্র সিং ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর সঙ্গে কথা বলে সরকার আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে আশ্বাস দেন। পরে জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের হাতে সরকারের আশ্বাসপত্র তুলে দেন।

হাসপাতালে ওয়াংচুকের স্ত্রী ও উপস্থিত অন্যদের সামনে সরকারের আশ্বাসপত্র পড়ে শোনান জে পি নাড্ডা। তিনি বলেন, ‘গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

নাড্ডা আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা খুশি যে সোনম স্যার ২৬ দিন পরে তার অনশন শেষ করেছেন। আপনার অসাধারণ সাহস এবং ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ স্যার। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোটা দেশের চেতনাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার জীবন এই দেশের কাছে খুবই মূল্যবান।’

তিনি আরও জানান, সোনাম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এসজি/

যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
যুদ্ধের বাস্তবতায় ভুল প্রমাণিত ট্রাম্পের চার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জর্জিয়ার মারিয়েটার হুইলার হাইস্কুলে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে গত কয়েক মাসে একের পর এক জোরালো দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি ততই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক শুনানিতেও বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্চে তিনি দাবি করেন, ইরানের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এমনকি নেতৃত্বও নেই। এপ্রিলে বলেন, দেশটি আর পাল্টা লড়াই করতে পারবে না। মে মাসে তার ভাষ্য ছিল, ইরানের সেনাবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতেও তিনি বলেন, ইরানের আর কোনো সামরিক শক্তি অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। এসব হামলায় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও আহতও হন।

এর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে আসে, ইরানের এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি দ্রুত বিভিন্ন সক্ষমতা পুনর্গঠনও করছে। পরে ট্রাম্প নিজেও কয়েকবার স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন, পুরো অভিযান শেষ হতে চার সপ্তাহের বেশি লাগবে না। কখনো তিনি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ, আবার কখনো চার থেকে ছয় সপ্তাহের কথা বলেন। তার দাবি ছিল, অভিযান নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে। 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। বরং সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার ট্রাম্প আবারও হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ থামার বদলে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
এতে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার যে পূর্বাভাস তিনি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা সত্য হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

১৩ জুলাই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই এখন হরমুজ প্রণালির রক্ষক।’ 

পরে আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ‘আমরাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণে। ইরান কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণে নেই।’ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ জোরদার করলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরান ওই এলাকায় একাধিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ইরানের হয়রানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ওমান উপকূলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

তেলের দাম কমার দাবি

জুনের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শিগগিরই যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ৮ জুলাইও তিনি বলেন, তার ক্ষমতায় আসার সময়ের চেয়েও তেলের দাম কমে গেছে। এমনকি তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, তেলের দাম ‘দ্রুতগতি’তে কমছে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার দ্রুত বাড়তে থাকে।
গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭ ডলারে ওঠে, যা প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলার। দুই ধরনের তেলের দামই যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।

এদিকে গত বুধবার জর্জিয়ায় এক ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, শিগগিরই তেলের দাম ধসে পড়বে। তিনি এ জন্য দেশবাসীকে ‘আরও একটু সময়’ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র: সিএনএন 

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা, রুশ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের একটি গোপন স্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর যুদ্ধের জন্য নতুন ড্রোনের প্রদর্শন করে। ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর কয়েকটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। এ ছাড়া উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিও সরবরাহ করেছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলেছে, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানকে রাশিয়া দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়ে আসছে।

এর আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানকে রাশিয়া সহায়তা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলাদা তদন্তের তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সিআইএর অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ইরাকের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সিআইএ স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরও কিছু সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে: গোয়েন্দা নথি

পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ওই নথি দেখেছেন বলে দাবি করেন। তবে নথিটির সুনির্দিষ্ট উৎস প্রকাশ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি সংযোজিত ইরানি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের একটি দুর্বল অংশে আঘাত করে ছিদ্র করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। তবে সেই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি সত্যিই সিআইএর মতো সংবেদনশীল স্থাপনার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তা হবে বড় ধরনের বার্তা। এর অর্থ, ওয়াশিংটন যখন ইরান যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে, তখন মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলার পর এ সন্দেহ আরও বেড়েছে। ওই হামলায় ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এতে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।

এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গোপন সিআইএ স্থাপনা

উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত সংস্করণের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে কোমেটা-এম নামে একটি উন্নত স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল। একই সঙ্গে এটি সহজে জ্যাম করা যায় না। মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। তবে ক্রেমলিন তখন প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেয়।

বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের মধ্যে বিভিন্ন দেশে দূতাবাসভিত্তিক স্টেশন রয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং গোপন অপারেশন পরিচালনার বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়।

সূত্রগুলো হামলার শিকার হওয়া স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। একটি সূত্র বলেছে, একাধিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।

রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার

মার্কিন গোয়েন্দারা এখন তদন্ত করছেন, রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে নিখুঁত টার্গেটে হামলা করেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে। কয়েকজন তদন্তকারী মনে করছেন, ইরানের লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাসই ছিল। সে ক্ষেত্রে সিআইএ স্টেশনটি কাকতালীয়ভাবে আঘাতের শিকার হতে পারে। আবার কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশই এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।

সাবেক সিআইএ স্টেশনের প্রধান ও গোপন অভিযান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেছেন, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় এ ধরনের সহায়তা অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষায়, দুই দেশই নিজেদের প্রভাব বলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনতে বা পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চায়। সূত্র: রয়টার্স।

ককরোচ পার্টির আন্দোলন, ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ককরোচ পার্টির আন্দোলন, ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ও সরকারের জবাবদিহির দাবিতে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে তরুণদের সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তর ও সংসদ ভবন এলাকা গত দুই দিন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিপেটা এবং জলকামান ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার যুবক ও আন্দোলনকারীদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তরুণ সমাজ। জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হিসেবে গঠন করা হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। শুরুতে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে পথচলা শুরু করলেও নিটসহ একাধিক জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর এটি একটি বিরাট গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে তরুণদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, তারকা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে–মেডিকেল ও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বারবার প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর পুরো কাঠামো ঢেলে সাজিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার অনিয়মের কারণে যেসব শিক্ষার্থী মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির যন্তরমন্তর এলাকায় জমায়েত হয়ে সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে প্রায় ২০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও লাঠিপেটার ঘটনায় পুলিশ ও আন্দোলনকারী মিলিয়ে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বিক্ষোভস্থলে ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর পরও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। দিন দিন সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে।

এক বিক্ষোভরত তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার অধিকারের নিরাপত্তা চাই। লাঠি আর কাঁদানে গ্যাস দিয়ে আমাদের আওয়াজ থামানো যাবে না।

শুধু নয়াদিল্লিতেই নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পাটনার মতো প্রধান শহরগুলোতেও ককরোচ পার্টির সমর্থনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ককরোচ মাস্ক পরে তরুণরা অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ প্রদর্শন করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ভারতে তরুণদের সবচেয়ে বড় স্বতঃস্ফূর্ত ও অহিংস আন্দোলনগুলোর একটি। সরকার প্রথম দিকে একে গুরুত্ব না দিলেও বিরোধী দলগুলোর সমর্থন এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়ার কারণে এখন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মোদি-রাহুলের তীব্র বাকযুদ্ধ

চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের তরুণদের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যারা তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তার দাবি, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং যারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে রক্ষা করেছে।

রাহুল গান্ধী তার বার্তায় বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে উৎসাহও দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এ কারণেই আজ দেশের লাখো শিক্ষার্থী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভে সমর্থন দিলেন বলিউড তারকারা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে। আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরগরম। এ পরিস্থিতিতে বলিউডের একাধিক তারকা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। কেউ রাজপথে নেমেছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেতা রাজকুমার রাও এক লিখিত বার্তায় বলেন, তরুণদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব দিয়ে শোনা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তবে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়; আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই দেশের উন্নতি চাই। আর সেই উন্নতির ভিত্তি হলো সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা।

নির্মাতা সুজিত সরকারও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে তা আইন ও শৃঙ্খলার সীমার মধ্যেই হওয়া উচিত।

অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা প্রথমে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়লে পরে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সমর্থন করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করা জরুরি। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী যেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। প্রীতি আরও লেখেন, তিনি গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখেন। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে অর্থবহ ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অসংখ্য মানুষ তাদের পাশে রয়েছে এবং তারা যেন আন্দোলন চালিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজের নতুন গান প্রকাশও স্থগিত করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আরমান মালিক। গত বুধবার মুক্তি পাওয়ার কথা তার নতুন গান ‘গয়া কাম সে’। আপাতত গানটি প্রকাশ করা হচ্ছে না। এক ভিডিও বার্তায় আরমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে গান প্রকাশ করার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গানটি প্রকাশ করবেন বলে জানান তিনি।

একই পথে হেঁটেছেন জনপ্রিয় র‌্যাপার হানি সিং। নতুন গানের টিজার প্রকাশ স্থগিত রেখে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমাদের দেশের তরুণরা অমর। ভোলেনাথ এ সময় তাদের শক্তি দিন।’

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং ও পাঞ্জাবি তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। অন্যদিকে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও অভিনেতা প্রকাশ রাজ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এদিকে গত বুধবার গভীর রাতে যন্তরমন্তরে উপস্থিত হন হুমা কুরেশি ও সাকিব সালিম। আর মুম্বাইয়ের মিছিলে যোগ দেন ইমরান খান। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীদের ধরনাস্থল দিল্লির যন্তরমন্তরে রাতে হঠাৎ উপস্থিত হন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি ও তার ভাই অভিনেতা-প্রযোজক সাকিব সালিম। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের আলোচনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সালমান খান ইনস্টাগ্রামে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বার্তা দেওয়ার পর থেকেই বিনোদন জগতের সমর্থন আরও জোরালো হয়। এর পর পরই মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে সরাসরি যোগ দেন অভিনেতা ইমরান খান। মিছিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কথা বলতে দেখা যায় তাকে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইমরান বলেন, ‘যারা কঠোর পরিশ্রম করেছে, তাদের দাবিকে নীরব করে দেওয়া হচ্ছে। এটি আমাদের দেশের ভবিষ্যতের লড়াই।

শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বলিউডের আরও একঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিনাত আমান, অনুরাগ কশ্যপ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, পূজা ভাট ও অদিতি রাও হায়দারি। মালয়ালম তারকা দুলকার সালমান ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন, ‘শিক্ষা মানে আশা ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি, সেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা হৃদয়বিদারক।’ এ ছাড়া জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং ও অনুভ জৈনও পোস্ট শেয়ার করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

তবে জ্যেষ্ঠ অভিনেতা অনুপম খের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই আন্দোলনকে যেন কোনো রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী দল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, আনন্দবাজার পত্রিকা।