১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যদের মতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরও সমান অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এক অকুতোভয় বীরের নাম রুবি খালকো। তার বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের শাল্টিমুরাদপুর (রমননগর) গ্রামে।
রুবি খালকো জানান, সে সময় তিনি নতুন বিয়ে করেছেন। নতুন জীবনে রঙিন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। তবে সে স্বপ্ন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করে দেশে। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা তাদের গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। সে সঙ্গে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে। জীবন বাঁচাতে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুড়বাড়ি। বাবা-মা এবং চার ভাই দুই বোনসহ হেঁটে তারা হিলিতে যান। এরপর হিলি হয়ে ভারতের বালুরঘাট কালিগঞ্জ শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। শরণার্থী ক্যাম্পে থাকলেও রুবি খালকোর মন পড়ে থাকে দেশে। দেশে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। রুবি খালকো দেখেন, শরণার্থী ক্যাম্প থেকে অনেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। রুবি খালকো সিদ্ধান্ত নেন তিনিও প্রশিক্ষণ নেবেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করবেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক নাম লেখান প্রশিক্ষণ তালিকায়। ওই সময় পরিবারের অনেকেই তার এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সব বাধা আর পিছুটান উপেক্ষা করে চলে যান শিলিগুড়ি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। দেশকে স্বাধীন করার সংকল্প নিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। সেখানে দীর্ঘ এক মাস প্রশিক্ষণ নেন রুবি খালকো। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ৬নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। তার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সদর উদ্দিন। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও বিভিন্ন এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন রুবি খালকো।
রুবি খালকো আরও জানান, কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধের মধ্যে পঞ্চগড়ের বোদার যুদ্ধটি ছিল অনেক ভয়ংকর। সেখানে তিনি কয়েকবার নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ছিলেন। সেখানে তারা বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছেন। এরপর ডিসেম্বরে ঠাকুরগাঁও এলাকায় যুদ্ধ শেষে রংপুর এলাকায় যাত্রা শুরু করে তাদের দল। রংপুর যাওয়ার পথে দেশ স্বাধীনের খবর আসে তাদের কাছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে চাকরির সুযোগ এসেছিল। তবে সেসব সুযোগ বাদ দিয়ে কৃষি কাজকে বেছে নেন রুবি খালকো।
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অতীতে মূল্যায়ন না হলেও বর্তমান সরকারের অধীনে যে সম্মানী পান তাতে সন্তুষ্ট তিনি। সরকারিভাবে পেয়েছেন একটি বীর নিবাস। স্ত্রীকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।