পয়লা বৈশাখের রাতে গুলশানের একটি বারের সামনে কয়েকজন নারী মারামারি করলে ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। গত ১৪ এপ্রিল রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার ওপর ৫-৬ জন নারীর মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। সঙ্গে থাকা কয়েকজন পুরুষ তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিষয়টি নজরে আনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন- শারমিন আক্তার মিম (২৪), ফাহিমা ইসলাম তুরিন (২৬) ও নুসরাত আফরিন।
ডিবি জানায়, রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ক্যাফে সেলেব্রিটা বারের সামনে কয়েক নারী মিলে মদ পান করে অন্য আরেক নারীকে মারধর করেন। ওই নারীরা অবৈধভাবে অতিরিক্ত মদ পান করে মাতাল হয়ে মারামারিতে জড়ান। তাদের কারও মদ পানের লাইসেন্স ছিল না। সেলেব্রিটা বার নারীদের কাছে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করায় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘বারের লোকজনের বেসামাল নারীদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। এই নারীরা বার থেকে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে প্রকাশ্যে মারামারিতে জড়ান। যা গুলশানের বাসিন্দারা দেখলেন এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিলেন। এই ভিডিও দেখে দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ ভাববে শহরের রাস্তায় নারীরা মাতলামি করে।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে বারগুলো লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রি করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’
মারধরের শিকার ভুক্তভোগী রিতা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ও আমার এক বন্ধু মিলে খাবার খেতে ওই রেস্তোরাঁয় যাই। একপর্যায়ে টয়লেটে গিয়ে দেখি চারজন মেয়ে একসঙ্গে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে জানালে, তারা মেয়েদের বের করে দেয়। পরে আমি রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় তারা আমার ওপর হামলা করে। আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে পারত। কিন্তু রাস্তার মধ্যে আমার কাপড় খুলে ফেলে আমাকে মারধর করে। আমি তাদের সঠিক বিচার চাই। কারণ রাস্তায় একজন মেয়ে হয়ে আরেকজন মেয়ের কাপড় খুলে ফেলতে পারে না।’