পাঁচ ধরনের কাজ করার দ্বারা রোজা ভেঙে যায়। যথা—১. সহবাস করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯১৩১) ২. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা। (আদ্দুররুল মুখতার, হাদিস: ২/৪০৯-৪১০) ৩. ইচ্ছা করে বীর্যপাত ঘটানো। (আদ্দুররুল মুখতার, হাদিস: ২/৩৯৯) ৪. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা। (তিরমিজি, হাদিস: ৭২০) ৫. নারীদের হায়েজ (মাসিক) ও নেফাস (প্রসূতি অবস্থা) শুরু হলে। (আলমুহিতুল বুরহানি, হাদিস: ১/৪০১)
যেসব কারণে রোজা ভাঙে না—১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি-ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা। (বুখারি, হাদিস: ১/২৫৯) ২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা। (আলমাওসুআতুত তিব্বিয়া আলফিকহিয়া, পৃষ্ঠা: ৬২৪) ৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)। (তিরমিজি, হাদিস: ৭২০) ৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪১৪) ৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৭৮) ৬. ইনজেকশন নেওয়া। (কিতাবুল আসল: ২/১৫০) ৭. ভুলক্রমে পানাহার করা। (মুসলিম, হাদিস: ১১৫৫) ৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া। (মাবসুতে সারাখসি: ৩/৬৭) ৯. নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪১৪) ১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৪/৩১৩) ১১. ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬৮) ১২. দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩৯৬) ১৩. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো, গলার ভেতর যাতে না পৌঁছায়। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬৮) ১৪. স্ত্রীর দিকে তাকানোর কারণে বীর্যপাত হলে। (বুখারি, হাদিস: ১/২৫৮) ১৫. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়, ছোলার দানার চেয়ে কম পরিমাণ হয়, তখন ভাঙবে না। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২০২)
যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়—১. বিনা ওজরে কোনো জিনিস মুখে দিয়ে চিবানো। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯২৭৭) ২. গরমের কারণে বারবার কুলি করা। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪১৯) ৩. টুথ পাউডার, পেস্ট, কয়লা বা অন্য কোনো মাজন দ্বারা রোজার দিনে দাঁত পরিষ্কার করা। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/১৪১) ৪. বিনা ওজরে জিহ্বা দ্বারা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯২৭৭) ৫. বদমেজাজি স্বামীর জন্য স্ত্রীর তরকারির স্বাদ গ্রহণ করার অনুমতি আছে। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪১৬) ৬. রোজা অবস্থায় কারও গিবত (পরচর্চা, পরনিন্দা) করা। (বুখারি, হাদিস: ১৯০৪) ৭. মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। ৮. অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা কিংবা পাঠ করা। (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩৪৭৯) ৯. ঝগড়া-বিবাদ করা। (বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)
লেখক : খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ