সিজদা মানে নম্র হওয়া বা মাথা নত করা। আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে জমিনে মাথা ঠেকানো হলো সিজদা। বান্দার সিজদায় আল্লাহ খুশি হন। বান্দা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সিজদায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া পাঠ করতেন। যথা—
এক.
বাংলা উচ্চারণ: সুবহানা রাব্বিয়াল আলা
বাংলা অর্থ: আমার প্রতিপালক সুমহান ও পবিত্র। (সহিহুল জামে, হাদিস: ৪৭৩৪)
দুই.
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় কখনো কখনো তাসবিহের সঙ্গে এ দোয়াটি পড়তেন—
বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলি।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসলিম, হাদিস: ৪৮৪)
তিন.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় কখনো কখনো তাসবিহের সঙ্গে এ দোয়াটিও পড়তেন—
বাংলা উচ্চারণ: সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালা ইকাতি ওয়ার রুহ।
বাংলা অর্থ: সকল ফেরেশতা এবং জিবরাইলের প্রতিপালক পবিত্র। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৩)
চার.
আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সিজদা করতেন তখন বলতেন—
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, ওয়া আনতা সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাজি খালাকাহু, ওয়া চাওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সামআহু, ওয়া বাসারাহু তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকিন।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার জন্যই সিজদা করছি। একমাত্র তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল ওই সত্তার জন্য সিজদাবনত হয়েছে, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, সুসমন্বিত আকৃতি দিয়েছেন এবং তাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা কত কল্যাণময়। (নাসায়ি, হাদিস: ১১২৭)
পাঁচ.
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খুঁজতে লাগলাম। আমার হাত তার পা মোবারকের তলাতে ঠেকল। তখন তিনি মসজিদে উভয় পায়ের পাতা খাড়া অবস্থায় সিজদায় ছিলেন। তখন তিনি বলছিলেন—
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বি রিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বি মুআ ফাতিকা মিন উ কুবাতিকা ওয়া আউজুবিকা মিনকা লা উহসি সানাআন আলাইকা আংতা কামা আসনাইতা আলা নাফসিকা।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। আর তোমার শাস্তি থেকে পরিত্রাণ চাই। তোমার প্রশংসা করে শেষ করা যায় না। তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য, যেমন তুমি নিজেই করেছ। (ইবনে মাজাহ হাদিস: ৩৮৪১)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক