বান্দার বিশেষ প্রয়োজনে অথবা শারীরিক-মানসিক, পারিবারিক-সামাজিকভাবে দুশ্চিন্তায় পতিত হলে আল্লাহতায়ালার কাছে চাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সালাতুল হাজত। বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সালাতুল হাজতের ভূমিকা অনন্য। সালাতুল হাজতের শাব্দিক অর্থ হলো প্রয়োজনের নামাজ। বৈধ কোনো প্রয়োজনের জন্য আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে সালাতুল হাজত বলে। (ইবনে মাজাহ, ১৩৮৪-১৩৮৫)
সালাতুল হাজতের গুরুত্ব ও ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেকোনো প্রয়োজনে সালাতুল হাজতের নামাজ পড়তেন এবং সাহাবিদের এ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিতেন। কোরআন শরিফে আল্লাহতায়ালা এ নামাজের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, হে ঈমানদাররা, তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা: ১৫৩)
হাদিস শরিফেও সালাতুল হাজতের ব্যাপারে অনেক বর্ণনা এসেছে। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রয়োজন সামনে আসত, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবু দাউদ: ১৩২১)
অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির আল্লাহর কাছে বা মানুষের কাছে কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, সে যেন উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহতায়ালার প্রশংসা ও নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করে। (তিরমিজি: ৪৮১)
সালাতুল হাজত যখন পড়ব, যেভাবে পড়ব: সালাতুল হাজত পড়ার আলাদা কোনো নিয়ম নেই। অন্যান্য নামাজের মতোই। নিষিদ্ধ সময় (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, দ্বিপ্রহর) ও মাকরুহ সময় ব্যতীত অন্য যেকোনো সময় পড়া যাবে। উত্তমভাবে অজু করে হাজতের নিয়ত করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে এবং নামাজ শেষে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা ও নবি কারিম (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে আল্লাহর কাছে নিজ ভাষায় বৈধ প্রয়োজনের জন্য দোয়া করবে।
তবে হাদিসে এ দোয়াটির কথা বর্ণিত হয়েছে, উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম। সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আসআলুকা মুজিবাতি রহমাতিকা ওয়া আজা ইমা মাগফিরাতিকা অয়াল গনিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন লা তাদালানা- জাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হাজাতান হিয়া লাকা রিযান ইল্লা কজাইতাহা ইয়া আর হামার রাহিমিন।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি ধৈর্যশীল ও মহামহিম। মহান আরশের মালিক আল্লাহতায়ালা খুবই পবিত্র। সব প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালার জন্য। (হে আল্লাহ!) আমি তোমার কাছে তোমার রহমত লাভের উপায়গুলো, তোমার ক্ষমা লাভের কঠিন ওয়াদা, প্রত্যেক ভালো কাজের ঐশ্বর্য এবং সব খারাপ কাজ থেকে নিরাপত্তা চাইছি। হে মহা অনুগ্রহকারী! আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা কর। আমার প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয় তা পরিপূর্ণ করে দাও। (তিরমিজি, ৪৭৯; ইবনে মাজাহ, ১৩৮৪)
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক