ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

রক্তিম সাজে সেজেছে সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৯ পিএম
রক্তিম সাজে সেজেছে সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান
সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান। ছবি : খবরের কাগজ

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তায় নবযৌবনের সাজে সাজতে শুরু করেছে প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতিই রক্তের লালে লাল হয়ে আহ্বান জানাচ্ছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিমুল বাগানে আবারও জমেছে প্রাণের মেলা। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ফুল, পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত পরিবেশ এবং সব বয়সী মানুষের পদচারণা, সব মিলিয়ে মানুষ এবং প্রকৃতি মিলে নবপ্রাণের সঞ্চার হয়েছে। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা আর কোলাহলময় একঘেয়েমি জীবনে একটু স্বস্তির আশায় পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব মিলে হেসে-খেলে, গানে-গানে আড্ডায় সময় পার করেছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। যাপিত জীবনের অস্থিরতা ভুলে কিছু সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে আনন্দে কাটাতে দেশ-বিদেশের মানুষ এসেছেন শিমুল বাগানে। 

তাহিরপুর সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা। এই উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকার একপাশে মেঘালয় পাহাড়; অন্যপাশে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান। আর এই দুইয়ের বুক চিরে বারিকের টিলার কোলঘেঁষে বয়ে গেছে যাদুকাটা নদী। যাদুকাটা নদীতে পানি কম থাকায় পড়ে আছে বালুচর। বছরের এ সময়টাতে এসে শিমুল বাগান, মেঘালয় পাহাড়, বারিকের টিলা আর যাদুকাটা নদী সব মিলে অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজ চোখে দেখতে প্রতিদিন মানুষের ছুটে আসছেন এখানে। আর এই শিমুল বাগান একেক সময় একেক রূপ নেয়। বর্ষায় শিমুল বাগান সবুজপাতায় আবৃত থাকে আর বসন্তে পাতা ঝরে গিয়ে রক্তিম আভায় সাজে পুরো এলাকা।  তবে মেঘালয় পাহাড় কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলেও সৌন্দর্যে এতটুকু কমতি হয় না। মেঘালয় পাহাড়, যাদুকাটা নদী, বালুচর- সেই সঙ্গে শিমুল ফুলের রক্তিম আভায় লাউড়েরগড়কে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।  শিমুল ফুলের তেমন কোনো বিশেষ গন্ধ না থাকলেও এর সৌরভ ছড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে। আর এই সৌরভ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি মানুষকেও আকৃষ্ট করছে।  

অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে ছবি তুলে সেই সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। আর তাই তো শিমুল বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন। কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে গলা ছেড়ে গান গাইছেন, আবার কেউ ঘোড়ায় চড়ছেন। কেউ কেউ ছবি তুলছেন; আবার কেউ শিমুল ফুলের মালায় মাথায় পরিয়ে দিচ্ছেন প্রিয়জনকে। যে যার মতো করে সময়টা উপভোগ  করছেন। 

জানা যায়, ২০০৩ সালে জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি প্রথমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ৩৩ একর জমির ওপর এই বাগান গড়ে তোলেন। এই বাগানে প্রায় ২ হাজার ২৩টি শিমুল গাছ রয়েছে। আর এখন প্রায় সবগুলো গাছেই ফুল ফোটে। প্রথমে শুধু তুলা সংগ্রহের জন্য গাছ লাগানো হলেও এখন মানুষের বিনোদনের জন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  জয়নাল আবেদীন মারা যাওয়ার পর তার সন্তানরা এই বাগানের দেখভাল করেন; এই বাগানের পরিচর্যা করেন। 

শিমুল বাগানের স্বত্বাধিকারী সাবেক চেয়ারম্যান রাকাব উদ্দিন বলেন, শিমুল বাগান প্রথমে তুলা সংগ্রহের জন্য করা হলেও পরে এই বাগানের ফুলের সৌন্দর্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়লে দর্শনার্থীরা এই বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান। তাই পর্যটকের কথা মাথায় রেখে বাগানকে সুসজ্জিত করা হয়। দর্শনার্থী যাতে আরও নিরিবিলিতে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, তাই রিসোর্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছরই বাগানকে নতুন নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে।

শিমুল বাগান যেভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী অথবা সায়েদাবাদ ফকিরাপুল থেকে এনা, শ্যামলী, হানিফ, মামুন পরিবহনসহ যাত্রীবাহী বাসে সুনামগঞ্জ আসতে সাড়ে ৭শ থেকে সাড়ে ৮শ ভাড়া লাগবে। ঢাকা থেকে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাস ছেড়ে আসে। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকেও একই সময়ে বাস ছেড়ে যায়। সুনামগঞ্জ শহর থেকে তাহিরপুরের শিমুল বাগানে যেতে হলে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল, সিএনজি, লেগুনা, প্রাইভেট কার ভাড়া নিতে পারবেন। এক মোটরসাইকেলে দুইজন যেতে পারবেন। শিমুল বাগানে যেতে ভাড়া লাগবে ৪০০ টাকা। সিএনজিতে গেলে ২ হাজার টাকা। বেশি মানুষ এক সঙ্গে যেতে চাইলে পুরোনো বাসস্টেশন থেকে লেগুনা ভাড়া নেওয়া যাবে। সারা দিনের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খচর পড়বে। 

সুনামগঞ্জে পৌঁছে বাস কাউন্টারের পাশেই থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরে ভালোমানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল ইন, আয়ান বাবা, হোটেল ওমর, প্যালেসে এসি নন-এসি রুম আছে। এসব হোটেলে শুধু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এক রাত থাকতে ১ হাজার থেকে দুই হাজার ৫শ টাকা খরচ পড়বে। আর মাঝারি মানের হোটেলে এক রাত ৫শ থেকে এক হাজার টাকা খরচ পড়বে। খাবার হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে পানশি রেস্টুরেন্ট, রোজ গার্ডেন, হক, মোল্লা, রাজধানী, অ্যাম্ব্রশিয়া। 

ভাসমান বই

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
ভাসমান বই
বই জাহাজের অভ্যন্তরে

আপনি জাহাজে ঘুরতে পছন্দ করেন। আর পছন্দ করেন বই পড়তে। জাহাজের ডেকে বসে, সাগরের ঢেউয়ে দোল খেতে খেতে কোমল হাওয়ায় যদি কখনো বই পড়ার সুযোগ পান, তাহলে? নিশ্চয়ই আপনি আনন্দে লাফিয়ে উঠবেন। আর জানতে চাইবেন, আছে নাকি এমন সুযোগ?

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি বই আছে, জলে ডাঙায়। আপনি যদি বই পড়ে সাগরের নোনা হাওয়ায় বই পড়ার আনন্দ পেতে চান, তাহলে জলে ডাঙায় বইটি পড়তে পারেন। আর যদি মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা আপনি নিজেই নিতে চান, তাহলে আপনার জন্য একটি জাহাজ কিন্তু তৈরি হয়েই আছে। জাহাজের নাম এমভি লোগোস হোপ। লোগোস হোপকে বইয়ের জাহাজও বলা যায়। জাহাজটিতে রয়েছে ৫০ হাজারের ওপর বই। এই ৫০ হাজার বই থেকে নিজের পছন্দের বই পড়তে পড়তে আপনি পাড়ি দিতে পারবেন, এ বন্দর থেকে ও বন্দর। এ দেশ থেকে ও দেশ। এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশ।

বই জাহাজের কেবিন ক্রু

যাত্রীবাহী জাহাজ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সাল থেকে। তবে বইয়ের জাহাজ হিসেবে লোগোস হোপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫০টা দেশের ৪৮০টা বন্দরে বই পর্যটক হিসেবে ঘোরাঘুরি করছে। আর এই বই জাহাজটি প্রদর্শন করেছেন প্রায় পাঁচ কোটি দর্শক। ‘জ্ঞানের আদান-প্রদান, সাহায্য ও আশার সহযোগিতা’ এই স্লোগান নিয়ে প্রত্যেক বন্দরে নোঙর ফেলে লোগোস হোপ।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডন বন্দরে বই জাহাজ

১৩২ মিটার দীর্ঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইবাহী এই জাহাজে বইপ্রেমীদের সেবায় নিয়োজিত আছেন ৬০টি দেশের ৪০০ জন্য স্বেচ্ছাসেবী। জাহাজটি পরিচালনা করে জার্মানির দাতব্য সংস্থা ‘গুড বুকস ফর অল’।

আপনি যদি এই হাজাজের সেবা পেতে চান তাহলে আপনাকে এখন ছুটতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার গকেবেরহা বন্দরে। বন্দরটির আদি নাম পোর্ট এলিজাবেথ। এ বন্দরে জাহাজটি ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অবস্থান করবে। এরপর এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডন বন্দরে অবস্থান করবে ২০ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবিন ও কেপটাউন বন্দরে ২৫ জুন পর্যন্ত কাটিয়ে নামিবিয়ার ওয়ালভিস বে বন্দরে নোঙর ফেলবে ৪ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত।

জাহ্নবী

 

সাহিত্য পর্যটন

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
সাহিত্য পর্যটন

প্রিয় লেখক বা কবির বাড়ি, জন্মস্থান বা স্মৃতিময় স্থানে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে থাকে অনেকেরই। বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখকদের স্মৃতিময় স্থানেও ঘুরে বেড়াতে যান অনেকেই। যেখানে রয়েছে সেই লেখকের জীবন ও সাহিত্যকর্মের নানা নিদর্শন। বাংলাসাহিত্যের পাঁচ বিখ্যাত কবি ও লেখকের স্মৃতিময় স্থান সম্পর্কে জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ।

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি

রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত স্থান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ গ্রামে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। কুষ্টিয়া শহর থেকে দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। যৌবনের উল্লেখযোগ্য সময় এই কুঠিবাড়িতে কাটিয়েছিলেন কবিগুরু। রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে পদ্মানদীর কোলঘেঁষা এ অঞ্চলের জমিদারি পেয়েছিলেন।

এরপর ১৮৮৯ সালে জমিদার হয়ে এখানে পা রাখেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯০১ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে জমিদারি করেন। এ সময় তিনি এখানে লেখেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, গীতাঞ্জলীসহ বেশ কিছু রচনা। এখানে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, প্রমথ চৌধুরীসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব।

কুঠিবাড়িজুড়েই রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র। প্রায় ৩০ বিঘা আয়তনের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে আড়াই বিঘা জমিতে। তবে আয়তনের সম্পূর্ণ জায়গাজুড়েই রয়েছে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর শিল্পকর্ম। ভবনটিতে রয়েছে বিভিন্ন আকারের ১৬টি কক্ষ। ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল কবির লেখালেখির ঘর। কুঠিবাড়ির ছাদ থেকে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং জ্যোৎস্না উপভোগ করতেন রবীন্দ্রনাথ।

আরাম কেদারা, চঞ্চলা ও চপলা নামের দুটো স্পিডবোট, ৮ বেহারার পালকি, পল্টুন, টি টেবিল, কাঠের চেয়ার, সোফাসেট, পালংক এবং কবির আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্মসহ নানান জিনিসপত্র রয়েছে এখানে। আরও আছে কবিগুরুর লেখা চিঠিসহ বিভিন্ন বয়সের তোলা ছবি।

এ কুঠিবাড়িতে প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ জাতীয় পর্যায়ে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। এ সময় দর্শনার্থী, দেশ-বিদেশের রবীন্দ্র গবেষক ও গুণীজনসহ রবীন্দ্র ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয় কুঠিবাড়ি।

নজরুল জাদুঘর

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে সরকারিভাবে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে আনা হয়। কবিকে বসবাসের জন্য ধানমন্ডির ২৮ নম্বর লেকপাড়ে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। কবি এখানেই তার জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন। সেই বাড়িটাই নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর নজরুল জাদুঘর করা হয়।

ঠিকানা: নজরুল ইনস্টিটিউট, কবি ভবন, ভাষাসৈনিক বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী সড়ক, বাড়ি ৩৩০ বি, রোড ১৫ (পুরোনো ২৮) ধানমন্ডি, আবাসিক এলাকা, ঢাকা ১২০৯।

এই ভবনের পঞ্চম তলায় রয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট গ্রন্থাগার। এই গ্রন্থাগারটি গড়ে তোলা হয়েছে নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের ওপর গবেষণা করার উপযোগী করে। নজরুল ইনস্টিটিউট গ্রন্থাগারের বইয়ের অধিকাংশ বই-ই রয়েছে কবি নজরুল বিষয়ক।

 সবমিলিয়ে এই গ্রন্থাগারে রয়েছে ১০ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। কবি নজরুল বিষয়ে এখানে রয়েছে সব দুর্লভ বই। রয়েছে কবির স্বহস্তে লেখা গান এবং কবিতার বইয়ের পাণ্ডুলিপি। এছাড়া রয়েছে কবির গানের একটি বিশেষ সংগ্রহ। জাদুঘর স্থাপিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৪ এপ্রিল। উদ্বোধন করেন কবির দুই পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী ও উমা কাজী। জাদুঘরের নিচেরতলায় রয়েছে ৪টি কক্ষ। ওগুলোতে রয়েছে কয়েকটি আলমিরা ও নজরুলের বিভিন্ন সময়ের প্রায় ১০৯টি আলোকচিত্র। সরকারী ছুটি বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে।

পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি

ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লি কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি। কুমার নদের পাশে কবির বাড়িতে রয়েছে পুরোনো ৪টি টিনের ঘর। বসতবাড়ির বিভিন্ন রুমে রয়েছে তার ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ির চত্বরে প্রদর্শন করা আছে। নদীর সামনে বিশাল জায়গায় রয়েছে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থা্ন। বাড়ির উত্তরে রাস্তার পাশে কবির কবরস্থান।

পল্লিকবি জসীম উদ্দীন ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ থেকে ডালিম গাছের তলে চিরশায়িত রয়েছেন। জসীম উদ্দীনের বাল্যকাল, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটাই কেটেছে এ পল্লিতে, সেখানকার মাঠেঘাটে, নদী তীরে, চরে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ ছাড়া জসীম উদ্দীনের বাড়ির আঙিনায় নির্মাণ করা হয়েছে জসীম উদ্দীন সংগ্রহশালা।


মধু পল্লী

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িটি বা মধু পল্লী যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে অবস্থিত। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালে এই বাড়িতেই জন্ম নেন। তার শৈশবও এখানেই কাটে। এখানে রয়েছে তার ব্যবহার করা কয়েকটি ভবন, পুকুরঘাট এবং কবির নানা স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র, যা নিয়ে জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে । যশোর শহর থেকে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।

বর্তমানে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাহায্যে কবির স্মৃতি নিদর্শন এবং আলোকচিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি জাদুঘর।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংস্কার করা এই দোতলা বাড়িটিতে রয়েছে মোট ছয়টি কক্ষ। এর মধ্যে ওপরে রয়েছে তিনটি এবং নিচে রয়েছে তিনটি কক্ষ। এর নিচতলায় রয়েছে কবি পরিবারের একটি মন্দির আর মধুসূদন জাদুঘর। মধুসূদন জাদুঘরে আছে কবির ব্যবহার করা খাট, চেয়ার ও আলমারি। এর পাশে রয়েছে একটি ছোট পাঠাগার। এই ভবনের একদম উত্তরদিকে আছে ছাদহীন দেয়ালঘেরা একটি অসাধারণ নির্মাণশৈলীর একটি কক্ষ। বাড়ির প্রবেশপথের সামনে রয়েছে ১৯৮৪ সালের শিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাসের নির্মিত কবি মধুসূদন দত্তের একটি ভাস্কর্য।

জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা

জীবনানন্দ দাশের জন্ম বরিশালের ধানসিঁড়ি নদীর তীরে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে যে বাড়িটিতে কবি থাকতেন, সেটির নাম এখন ‘ধানসিঁড়ি’। তার স্মৃতিবিজড়িত ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার।

কলি

 

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের জেলা শেরপুর

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৩ পিএম
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের জেলা শেরপুর
ছবি : খবরের কাগজ

‘পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে’, এ স্লোগানে শেরপুর জেলাকে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা গারো পাহাড় বেষ্টিত সীমান্তবর্তী জেলা এটি। এ জেলার রয়েছে শাল-গজারি, ইউকিলিপটাস-আকাশমনি, সেগুন-মেহগিনিসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালি ঘেরা ঊঁচু নিচু টিলা। আর পাহাড়ি এই টিলা বেয়ে সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝর্ণা, ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোনো প্রকৃতি প্রেমির হৃদয়কে আন্দোলিত করবে। 

ওই সব পাহাড়ি টিলার উপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নানা সম্প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে উচু-নিচু পাহাড়ের মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসিদের ঘর-বাড়ির দৃশ্য মন ছুয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি এ জেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন সমৃদ্ধ স্থান। ভ্রমণ পিপাসুরা ইট, কাঠ, কংক্রিট আর পাথুরে নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে ছুটে আসেন এসব পার্কে। এরইমধ্যে মধুটিলা ইকোপার্ক, গজনী অবকাশ, রাজার পাহাড়, নাকুগাঁও স্থল বন্দর, অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র, রাবার বাগান, পানিহাটা-তারানি, মাইসাহেবা জামে মসজিদ, সীমান্ত সড়ক, জমিদারবাড়ি অন্যতম। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকৃতির নিপূণ ছোঁয়ার রংতুলিতে আঁকা ছবির মতো সৌন্দর্য দেখতে শেরপুরে ছুটে আসেন ভ্রমন পিপাসুরা।

মধুটিলা ইকোপার্ক

প্রকৃতির সবুজ লীলা ভূমি শেরপুর জেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র নালিতাবাড়ী উপজেলায় স্থাপিত ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’। প্রায় সারাবছর ভ্রমণপিয়াসীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে এই পার্ক। সীমান্তবর্তী এই পার্কের চারপাশে উচু নিচু পাহাড়ি টিলা, কৃত্রিম লেক আর সবুজের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। শেরপুর জেলা শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলা। এ উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে ময়মনসিংহ বনবিভাগের ব্যবস্থাপনায় মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চুড়া বন বীটের আওতায় ৩৮০ একর বনভূমিতে গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে ২০০০ সালে নির্মিত হয় মধুটিলা ইকোর্পাকটি।

এই পার্কটির প্রধান ফটক পেরিয়ে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারি সারি গাছ। রাস্তার ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দুইপাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ি ঢালু রাস্তা। এরপরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্যকন্যা, মাছ ও পাখির ভাষ্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি ছুটে গেছে কৃত্রিম লেকের দিকে। এই লেকের উপরে স্বকীয় দূতি ছড়াচ্ছে মনমুগ্ধকর ষ্টারব্রিজ। এসব দেখে প্রাণ পায় নবচেতনা, মন হারায় প্রকৃতির মাঝে। লেকের প্যাডেল বোটে চরে ঘুরাফেরার পর পাহাড়ের চুড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের উঁচু নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণ পিপাসুরা। 

মধুটিলা ইকোপার্কে ঢুকতে জনপ্রতি টিকিট ১০ টাকা, গাড়ী পার্কিং খরচ- বড় বাস ২০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, সিএনজি ৫০ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা। এছাড়া এখানে আলাদা আলাদা ফি দিয়ে প্যাডেল বোট চালানো, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠা, শিশু পার্কে প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত শুধু দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য (ভ্যাটসহ) ৬ হাজার ৯০০ টাকার বিনিময়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সুসজ্জিত মহুয়া নামের রেষ্ট হাউজ রয়েছে। 

গজনী অবকাশ

ভারত সীমান্তঘেঁষা উঁচু-নিচু পাহাড়বেষ্টিত এই পর্যটনকেন্দ্রে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গারো পাহাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব এক লীলাভূমি। আর তাই শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীর ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশের পাদদেশে অবস্থিত সারি সারি শাল, গজারি, সেগুনগাছ; ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতা-পাতার বিন্যাস, যা প্রকৃতি ও পর্যটকের মনে নিশ্চিত দোলা দিয়ে যাবে।

শেরপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০কিলোমিটার দূরত্বে ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গজনী অবকাশ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে এর অবস্থান। গড়ে ওঠার পর থেকেই প্রতিবছর ক্লান্ত জীবনের ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে অবসরে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন এই গজনী অবকাশ কেন্দ্রে। 

শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে পাহাড়ের বুকজুড়ে তৈরি হয়েছে সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে, যেখানে পায়ে হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যাবে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। উঁচু পাহাড় কেঁটে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। এ ছাড়া রয়েছে আগত শিশু দর্শনার্থীদের জন্য চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক, সেখানে ফ্লাইওভার গজনী এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে শিশু কর্নার, সুপার চেয়ার, নাগরদোলা ও মেরিগো। গজনী অবকাশে থাকছে শেরপুর জেলা ব্র্যান্ডিং কর্নার। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার জন্য এবার নতুন তৈরি করা হচ্ছে ক্যাবল কার। এছাড়াও রয়েছে ক্রিসেন্ট লেক, লেকের ওপর রংধনু ব্রিজ, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক, মাটির নিচে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াতের জন্য ড্রাগন ট্যানেল। অবকাশকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ সাইট ভিউ টাওয়ার। ৮০ বর্গফুট উচ্চ এ টাওয়ারে উঠলে দেখা যাবে পুরো গজনী অবকাশের পাহাড়ি টিলার অপরূপ সৌন্দর্যময় সবুজ দৃশ্য।

রাজার পাহাড়

শেরপুর জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় টিলা, শাল গজারীর বন, পাহাড়ের নিচে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। সেখানেই আছে সুবিশাল ও রোমাঞ্চকর রাজা পাহাড়। পর্যটকদের কাছে শেরপুরে অন্যতম আকর্ষণ হলো রাজার পাহাড়। শেরপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ৪১ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী উপজেলার কর্নঝোড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাজার পাহাড়ের অবস্থান। এটি জনপ্রিয় বিনোদন স্পট। 

গারো পাহাড়ে যতগুলো পাহাড় আছে তার মধ্যে রাজার পাহাড়ের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। এ পাহাড়ের বৈশিষ্ট সিলেট বা বান্দরবানের পাহাড়ের মতো না হলেও, সবুজের ঐশ্বর্যে সে কারও চেয়ে কোন অংশে কম নয়। রাজার পাহাড়ের উৎপত্তি নিয়ে কিংবদন্তি অনেক ঘটনা আছে। স্থানীয়দের মতে, অতীতে পাগলা দারোগা নামে এক ব্যক্তি রাজার পাহাড়ের চূড়ায় বসবাস শুরু করেন। এখনও তার সন্তানেরা এই অঞ্চলে আছেন। তারাই এ পাহাড়ের কোণায় গড়ে তোলেন বিভিন্ন ফলের বাগান। পরে স্থানীয় আদিবাসীরাও এসব ফলের বাগান করা শুরু করে। 

নাকুগাঁও স্থল বন্দর

প্রতিদিন ভোর হলেই শ্রমিকরা দলে দলে ছুটে আসেন স্থলবন্দরে কাজ করতে। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা নয়াবিল ইউনিয়নে স্থাপিত দেশের অন্যতম নাকুগাঁও স্থলবন্দর এখন হাজারো শ্রমিকের কর্মস্থল। এই বন্দরটি আমদানি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন দিগন্তের পথ দেখাচ্ছে। এটি চালু হওয়ায় স্থানীয়রাসহ দেশের নানা প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করতে এসে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, দর্শনার্থীরাও আসেন এই বন্দর দেখতে। কারণ, বন্দরটি একেবারে ভারতের সাথে লাগোয়া। তাই দর্শনার্থীদের কমতি নেই এটি দেখার।

অর্কিট পর্যটন

প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে শেরপুরের অর্কিট পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুর জেলা শহরের মধ্যেই ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে অর্কিট পর্যটন কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের চারিদিকে রয়েছে সারি সারি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছ, মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাস আর আছে সান বাঁধানো পুকুর। সাদা বক পুকুরে চারপাশে বসে থাকে মাছ খাওয়ার জন্য। সবুজ বাতায়নে অর্কিড প্রাঙ্গণে খাঁচায় খেলা করছে বানর, টার্কি, খরগোশসহ দেশীয় বিভিন্ন জীবজন্তু। 

রাবার বাগান

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় রয়েছে রাবার বাগান। সারি সারি রাবার গাছ, ফলজ, শাল, গজারী ও সেগুনবনের বিন্যাস খুব সহজেই প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয়ে নিশ্চিত দোলা দিয়ে যাবে । পাহাড়ি র্ঝণা ও ঝোড়ার স্বচ্ছ জল হৃদয়ে তুলবে আনন্দের হিন্দোল। পাহাড়, বনানী, র্ঝণা এতসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও কৃত্রিম সৌন্দর্যের অনেক সংযোজন আছে তিনটি বাগানেই।

পানিহাটা-তারানি পাহাড়

ইট-পাথরের জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে ও প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে হলে আপনাকে আসতে হবে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা-তারানি পাহাড়ে। শেরপুর জেলা শহর থেকে ২৬কিলোমিটার দূরে পানিহাটা-তারানি পাহাড়। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সবুজ বন আর খরস্রোতা ভোগাই নদীর মিতালী আপনার মনকে উদ্বেলিত করবে। 

মাই সাহেবা মসজিদ

শেরপুর জেলা শহরে পা রাখলে প্রথমেই যে পুরোনো ঐতিহ্য চোখে পড়বে তার নাম মাইসাহেবা মসজিদ। চোখ বন্ধ করে শেরপুরের নাম নিলেও এই মাইসাহেবা মসজিদটি ভেসে আসে দর্শনার্থীদের নজরে। আনুমানিক আড়াইশ’ বছর আগে নির্মিত হয় মসজিদটি। তবে আধুনিক সংস্করণেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ। এর দুই পাশের সুউচ্চ ২টি মিনার চোখে পড়ে অনেক দূর থেকে। মাইসাহেবা মসজিদের সুউচ্চ মিনার শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যায়। মসজিদ এলাকায় প্রবেশের জন্য রয়েছে বিশাল দৃষ্টিন্দন গেইট।

আরও যা রয়েছে

জরিপ শাহের মাজার, বারদুয়ারি মসজিদ, গড়জরিপা দুর্গ, হযরত শাহ কামাল (রা) এর মাজার, কসবার মোঘল মসজিদ, ঘাঘড়া লস্কর খান জামে মসজিদ, সুতানাল দীঘি, রাবার ড্যাম, বন্যহাতির অভয়ারণ্য নয়াবাড়ির টিলাও শেরপুরের পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান।

যেভাবে আসবেন এসব যাওয়ায়

রাজধানী ঢাকার মহাখালীর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যেকোন বাসে অথবা ঢাকার যেকোন স্থান থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারে করে শেরপুর জেলায় আসা যায়। গাড়ীযোগে এ জেলায় আসতে তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লাগে। যেহেতু শেরপুর জেলায় ট্রেনের সুবিধা নেই। সেহেতু আপনি চাইলে ট্রেনেও আসতে পারেন। এজন্য আপনাকে ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে জামালপুর জেলা শহরে আসতে হবে। তারপর সেখানে থেকে সিএনজি, অটোরিক্সা বা বাসযোগেও মাত্র ৩০/৪০মিনিটের মধ্যে শেরপুর জেলায় আসতে পারবেন। এ জেলার সকল দর্শনীয়স্থানে যেতে হলে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি বা অটোরিক্সা ভাড়া করে যেতে পারবেন। শেরপুর সদর থেকে এসব দর্শনীয়স্থানে যেতে সময় লাগবে দূরত্ব ভেদে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগবে।

যেখানে রাত্রি যাপন করবেন

দর্শনার্থীরা শেরপুর এসে রাত্রিযাপন করতে চাইলে জেলা শহরে থাকতে হবে। কারণ, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ঘেঁষা সীমান্তবর্তী এ জেলার কোন পর্যটন কেন্দ্র বা দর্শনীয়স্থানে রাত্রিযাপনের কোন সুবিধা নেই। তবে, আপনি চাইলে স্ব স্ব উপজেলার ডাক বাংলোয় ভাড়া করে থাকতে পারবেন। তবে, জেলা শহরে বেশ কয়েকটি ভালোমানের আবাসিক হোটেল ছাড়াও রয়েছে জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের গেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। জেলা সদরের ভালোমানের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল সম্পদ, হোটেল আইসার ইন, হোটেল ফ্রিডম, হোটেল অবকাশ, হাসিম গেস্ট হাউজ অন্যতম।

রাজধানীতে বেড়ানো প্রিয়জনকে নিয়ে

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
রাজধানীতে বেড়ানো প্রিয়জনকে নিয়ে
আহসান মঞ্জিল

যে কেউ আজকাল ছুটির দিনটা একটু ভিন্নভাবে পালন করার সুযোগ পেলে ছাড়েন না। কিন্তু ঢাকায় কোথাও যাওয়ার, কাউকে নিয়ে একমুহূর্ত চুপ করে বসার জায়গার খুব অভাব হলেও প্রিয় রাজধানীতে আছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সুন্দর ও নির্মল কিছু জায়গা। জেনে নিন প্রিয় মানুষকে নিয়ে যেতে পারেন এমন কিছু জায়গার অবস্থান ও পরিচিতি। 

জাতীয় সংসদ ভবন

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনটি শুধু বাংলাদেশই নয়, বরং বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সেরা স্থাপত্যশৈলীর এক উদাহরণ। লুই কানের নকশায় নির্মিত ভবনটির সামনে থাকা খোলামেলা পরিবেশ ও কৃত্রিম লেকের পাশে বেশ ভালো সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়।

হাতির ঝিল

গুলশানের পাশেই অবস্থিত এক ব্যতিক্রমী সুন্দর জায়গা হাতির ঝিল। সন্ধ্যায় জায়গাটি বাহারি আলোয় সেজে ওঠে এবং ভ্রমণকেন্দ্রে পরিণত হয়। শান্তি ও স্বস্তির খোঁজে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এখানে আসেন। একপাশে সবুজ অন্যপাশে পানি; টলটলে জলের ওপর দিয়ে ছুটে চলা ওয়াটার বাসে চড়ে ঘোরা যায় পুরো হাতির ঝিল। 

জাতীয় জাদুঘর

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরটি সুসংগঠিত এবং নৃতাত্ত্বিক ও আলংকারিক দিক থেকে অনন্য। ভবনটির কক্ষগুলো শিল্প বিভাগ, ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্প বিভাগ, প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ এবং সমসাময়িক কিংবা বিশ্বসভ্যতা বিভাগের মতো বিভিন্ন বিভাগে সাজানো।

ভাসানি নভোথিয়েটার

রাজধানীর বিজয় সরণিতে আধুনিক এ নভোথিয়েটারটি অবস্থিত। ঘোরার মতো উপযুক্ত জায়গা না হলেও এখানে দেখা ও জানার আছে অনেক কিছু। তাই ব্যস্ত শহরে ঘুরতে না চাইলে এখানে ঘুরে আসা যায় সঙ্গীকে নিয়ে।

ধানমন্ডি লেক ও রবীন্দ্র সরোবর

ধানমন্ডি লেক ও এর পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলো বেড়ানোর জন্য ভালো জায়গা। এখানে রয়েছে সুন্দর মনোরম পরিবেশ। লেকে নৌকা করে ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও নির্মল গাছের নিচে বসে কিছুটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। ৮ নম্বর সেতুর কাছে রয়েছে রবীন্দ্র সরোবর, এটি বসার জন্য সুন্দর খোলা একটি জায়গা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা 

রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কার্জন হল অবস্থিত। ব্রিটিশ স্থাপত্যের নিদর্শন ও ঐতিহাসিক ভবনটির পুরোনো কাঠের সিঁড়িতে বসে খানিকটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায় নির্জনে। ভবনের পেছনে রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো মুসা খাঁ মসজিদ ও বিশাল পুকুর। কার্জন হল থেকে বেরিয়েই আছে দোয়েল চত্বর। সেখানে আপনি বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য কেনাকাটা করতে পারবেন। 

আরও আছে কিছু ছোট নার্সারি, যেখান থেকে আপনি বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় গাছ কিনতে পারবেন। দোয়েল চত্বরের অদূরেই আমাদের জাতীয় শহীদ মিনার। এ জায়গাটি বিকেলে বসার জন্য তরুণদের প্রিয়। এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণটি প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে অনেকেরই পছন্দের। তার পার্শ্ববর্তী টিএসসি এলাকাটিও সব সময়ই তরুণদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে থাকে। 

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেন 

মিরপুরে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে দেশি-বিদেশি অনেক গাছ, পুকুর, খাল আর সরু রাস্তা; যেখানে আপনি কিছু সময় বসে কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ওয়ারীতে অবস্থিত বলধা গার্ডেনে রয়েছে মন জুড়ানো প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির গাছ, সুন্দর পুকুর। 

রমনা পার্ক

শাহবাগের পাশে অবস্থিত রমনা পার্ক প্রতিদিনই খোলা থাকে। এর ভেতরে আছে চমৎকার খাল, পায়ে চলার সরু পথ, অসংখ্য গাছ আর সবুজ ঘাসের লন। ভেতরে রয়েছে চাইনিজ রেস্তোরাঁ। 

আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা 

পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল এক সময় ঢাকার নবাবদের আবাসিক প্রাসাদ ও জমিদারির কাছারি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে জাদুঘর হিসেবে। তৎকালীন ঢাকায় এত সুন্দর ভবন আর ছিল না। একই নদীর তীরে লালবাগ এলাকায় অবস্থিত মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন লালবাগ কেল্লা। মূল তিনটি ভবনের সমন্বয়ে (মসজিদ, পরী বিবির সমাধি এবং দেওয়ান-ই-আম বা দরবার হল) স্থাপনাটি গঠিত। এখানে আরও আছে কিছু ফোয়ারা এবং সর্বসাধারণের জন্য শায়েস্তা খাঁর বাসভবনে তৈরি করা জাদুঘর। 

দিয়াবাড়ি 

নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত উত্তরার দিয়াবাড়ি সাম্প্রতিককালে ঢাকাবাসীর একটি পছন্দের বেড়ানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে। উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এই স্থানটি প্রিয়জনদের নিয়ে বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা। 

এসবের পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে আপনি বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন মূল্যমানের রেস্তোরাঁ পাবেন। তবে বেড়াতে যাওয়ার আগে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন- নিজের এবং প্রিয় মানুষটির নিরাপত্তা সবার আগে। কোনো নিরিবিলি এলাকায় গেলে চেষ্টা করুন সন্ধ্যার আগেই চলে আসতে।

দৃষ্টিনন্দন ১০ পর্যটন স্থান

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
দৃষ্টিনন্দন ১০ পর্যটন স্থান
পাখির চোখে স্পেনের বার্সেলোনা

পৃথিবীতে ঘোরার মতো হাজারও পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে উল্লেখযোগ্য। জনপ্রিয়তা, পর্যটক সমাগম, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দৃষ্টি নান্দনিকতা, সুযোগ-সুবিধাসহ নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব পর্যটন কেন্দ্র একেকটা একেক রকম। ২০২৩ সালে বিখ্যাত সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে সেরা ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি এবং জনপ্রিয় আরও চারটিসহ মোট দশটি পর্যটন কেন্দ্রের খবর।

১. ডমিনিকা

বলা হয় ক্যারিবিয়ান সৌন্দর্য সংরক্ষিত আছে ডমিনিকায়। পাহাড়ি সবুজ বলতে যা বোঝায়, সেটাই হচ্ছে উত্তর আমেরিকার ছোট্ট একটা দ্বীপদেশ ডমিনিকা। অভিযানপ্রিয় পর্যটকদের স্বর্গ ডমিনিকায় রয়েছে রেইন ফরেস্ট, জলপ্রপাত, উষ্ণ ঝরনা এবং আগ্নেয়গিরি। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ হাইকিং ট্রেইলও রয়েছে এখানে। ১১৫ মাইল বা ১৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ট্রেইলের নাম ওয়েটুকুবুলি ন্যাশনাল ট্রেইল। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একমাত্র সি-কায়াকিং ট্রেইলও রয়েছে এখানে। এসবের বাইরে পর্যটকদের আবাসনের দারুণ সব ব্যবস্থা তো আছেই। আর সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ডমিনিকা।

২. বার্সেলোনা, স্পেন

বিশ্বের ঐতিহাসিক শহরগুলোর একটি বার্সেলোনা। এই শহরে রয়েছে ১৭৬ বছর ধরে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত লিসিউ অপেরা। স্পেনের উত্তর-পূর্ব উপকূলের এই শহর স্পেনের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে আন্তোনি গাউদির নকশা করা বিস্ময়কর স্থাপত্য এবং অসম্পূর্ণ সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া। আছে সম্প্রতি সম্পন্ন করা ধর্মপ্রচারক লুক এবং মার্কের টাওয়ার, যা ভার্জিন মেরির টাওয়ারের সঙ্গে এসে মিশেছে। প্যাশন টাওয়ার বা অ্যাপসল টাওয়ারে উঠে শহরের দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলো দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে পর্যটকদের জন্য। আর এ সবকিছু মিলে বার্সেলোনা হয়ে উঠেছে পর্যটকদের পছন্দের একটি স্থান।

৩. তরেস দেল পাইন জাতীয় উদ্যান, চিলি

চিলির দক্ষিণের পাতাগোনিয়া অঞ্চলের এমন একটি স্থান এটি, যেখানে পর্বতমালা, হিমবাহ, হ্রদ ও নদীর দেখা মিলবে। বছরে পঁচিশ লাখেরও বেশি পর্যটকের আনাগোনা হয়, যার মধ্যে শতকরা ৫৪ ভাগই বিদেশি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জায়গা পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের।

৪. লাদাখ, ভারত

ভারতের উত্তরে কুনলুন পর্বতশ্রেণি এবং দক্ষিণে হিমালয় বেষ্টিত অঞ্চল লাদাখ। এই লাদাখেই রয়েছে ভারত ঘোষিত দেশটির প্রথম ডার্ক স্কাই রিজার্ভ অঞ্চল। স্থানটি লাদাখের রাজধানী লেহ থেকে ১৬৮ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে, হানলি গ্রামে। বছরের প্রায় ২৭০ দিনই এ গ্রামের রাতের আকাশ থাকে পরিষ্কার। আর সে কারণে জায়গাটি জ্যোতিপর্যটনের আদর্শ একটি কেন্দ্র। প্রাকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি লাদাখে কৃত্রিম বেশকিছু পর্যটন স্থান আছে। আর আছে বিখ্যাত সব মোগলাই খাবারের ব্যবস্থা। 

৫. চার্চিল, ম্যানিটোবা, কানাডা

মেরুপ্রভা বা অরোরা দেখার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। মেরুপ্রভা দেখার সবচেয়ে চমৎকার একটি স্থান হচ্ছে কানাডার ম্যানিটোবা রাজ্যের চার্চিল নামক জায়গা। এখানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বছরের ৩০০ দিনই রাতের আকাশে আলোর নৃত্য দেখা যায়। দৃষ্টিনন্দন আলোর নৃত্য দেখার জন্য অনেক পর্যটকের আনাগোনা ঘটে এখানে। এ ছাড়া হাজার হাজার বেলুগা তিমি গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের সাগরে প্রবেশ করে। ট্যুর অপারেটর কোম্পানিগুলো ‘সাগর ক্যানারি’ হিসেবে বিখ্যাত বেলুগার শব্দের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করায়।

৬. প্যারিস, ফ্রান্স

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান ফ্রান্সের প্যারিস। প্রধান আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন ভবন, ঐতিহাসিক ও আধুনিক আর্ট গ্যালারি ও জাদুঘরের কারণে বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ পর্যটকের কাছেই এ শহরের আকর্ষণ রয়েছে। খাবার-দাবার থেকে শুরু করে যানবাহনের সুবিধা আর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও আধুনিকতার সমন্বয় প্যারিসের বৈশিষ্ট্য। 
 
৭. বালি, ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বালি অন্যতম। জাভা ও লম্বুকের মাঝে বালি দ্বীপের অবস্থান। সাদা বালির সৈকত, পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, পুরোনো মন্দিরসহ রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান। বালির সূর্যাস্তের দৃশ্য, নীল জলের সৌন্দর্য, জঙ্গলের পাখির গানের সঙ্গে সংগীত, নৃত্য, শিল্প, ধর্ম এবং চিত্রকলায় বালিনিজ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। উষ্ণ আতিথেয়তার কারণেও পর্যটকদের মধ্যে বালি খুব জনপ্রিয়। 

৮. মালদ্বীপ

স্ফটিক স্বচ্ছ নীল পানি, দোলনা পামগাছ এবং চকচকে সাদা বালির জন্য বিখ্যাত মালদ্বীপ। সারা বছর এখানকার আবহাওয়া বেশ মনোরম। অ্যাডভেঞ্চার, হানিমুন বা অবসর ছুটি কাটানো পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ তুমুল জনপ্রিয়। মালদ্বীপে ৬০টিরও বেশি ডাইভ সাইট রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সেরা ডাইভিং গন্তব্যগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে। 

. সান্তোরিনি, গ্রিস

প্রায় ৬ হাজার দ্বীপের দেশ গ্রিস। এসব দ্বীপের মধ্যে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সান্তোরিনি। এ দ্বীপকে বিশ্বের অন্যতম গ্রীষ্মকালীন গন্তব্য হিসেবে ধরা হয়। এজিয়ান সাগরের সাইক্লেড দ্বীপগুলোর একটি এই সান্তোরিনির রয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য। আছে দর্শনীয় সূর্যাস্ত, ঐতিহ্যবাহী সাদা বাড়ি, পুরোনো দুর্গ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং মাছ ধরার বন্দর। এ ছাড়া আমাউদি উপসাগরের সূর্যাস্ত, প্রাগৈতিহাসিক থেরা মিউজিয়াম, ফোকলোর মিউজিয়ামের সঙ্গে আরও আছে ৩ হাজার ৬০০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের লাভার নিচে চাপা পড়া প্রাচীন মিনোয়ান বসতি- অ্যাক্রোটেরিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

১০. লোহিত সাগর, সৌদি আরব

২০৩০ সালের মধ্যে বছরে দশ কোটি পর্যটককে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি আরব। এ জন্য প্রাচীন ঐতিহ্যের স্থানের সঙ্গে নতুন করে তৈরি করা কিছু গিগা-প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। লোহিত সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডার্ক স্কাই রিজার্ভ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২৫ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখায় ম্যানগ্রোভ কায়াকিং, লোহিত সাগরের ৯০টি দ্বীপে নৌকাভ্রমণ এবং ৩০০ বছরের পুরোনো কাঠের জাহাজে করে নতুন নতুন সাগর এলাকায় ডুবসাঁতার ও ডাইভিংসহ নানা জলনির্ভর কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। আবার পায়ে হাঁটা পর্যটকদের জন্য গ্রানাইট পাহাড়ে হাইকিং, আগ্নেয় লাভা পাড়ি দিয়ে পাহাড়ি বাইকিং এবং পরিযায়ী পাখি ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য পানির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বিলাসবহুল হোটেল। আর সে কারণে নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বিশ্বের সেরা ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে সৌদি আরবের লোহিত সাগর।