ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিপির সমাবেশে হামলার বিষয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে নিহত ৩ তরুণের দেহ মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংগাইরে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর মিরসরাইয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরির গার্ডরুমে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ২০৩০ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলবে ছয় দেশ পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন মাঠের বাইরের বিতর্কের জবাব বেলজিয়াম দিল মাঠেই শিবচরে হতদরিদ্র ৬ পরিবারের মাঝে গাভী বিতরণ যেভাবে চাকরি খুঁজবেন যেসব দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন পর্যটকরা গজারিয়ায় রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কেপ ভার্দে ধাক্কার পর মিশরকে নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ খেয়ে জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা বেরোবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীদের ফ্যান খুলে নেওয়ার অভিযোগ দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৬ সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ চট্টগ্রামে শিক্ষাসামগ্রী পেল দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. জুবাইদা রহমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন ট্রিলিয়নিয়ার তকমা হারালেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ ঘিওরে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওমানের উপকূলে ট্যাংকারে আগুন মিশরকে ‘দলগতভাবে’ রুখতে চান স্কালোনি বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ

আদা-চুইঝাল চাষে ময়নার বাজিমাত

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫২ এএম
আদা-চুইঝাল চাষে ময়নার বাজিমাত
আদাখেত পরিচর্যা করছেন ময়না বেগম।ছবি: খবরের কাগজ

ময়না বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের এক সফল নারী উদ্যোক্তা। পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ময়না তার সুপারি বাগানের ২৭ শতাংশ জমিতে ১ হাজার ৮০০ বস্তা আদা চাষ করেছেন। এর মাধ্যমে এক অনন্য কৃষি উদ্ভাবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এই চাষ পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ তার বাগানে আসছেন এবং আদা চাষের পদ্ধতি শিখতে আগ্রহী হচ্ছেন। 

আনসার ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে ময়না বেগমের কৃষি উদ্যোগের শুরু হয়েছিল। প্রশিক্ষণে কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি প্রথমে সুপারি বাগানের ফাঁকা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৭০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। এরপর এই চাষের পদ্ধতি এবং ফলন দেখে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ২৭ শতক জমিতে ১ হাজার ৮০০ বস্তা আদা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এতে তার কৃষি উদ্যোগে বিপুল সফলতা আসে। 

বস্তায় আদা চাষের পদ্ধতি খুবই লাভজনক। এটি কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ও সুবিধাজনক পদ্ধতি। ময়না বেগম জানান, বস্তায় আদা চাষ করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও যত্নের প্রয়োজন। প্রতি বস্তায় ৩টি করে আদা লাগানো হয় এবং বস্তাগুলো সুপারিগাছের ফাঁকে ফাঁকে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়। এতে মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কম হয় এবং ফলনও ভালো হয়। বস্তায় আদা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি পতিত বা ছায়াযুক্ত জমিতে সহজে করা যায়। এ ছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বস্তাগুলো সহজে সরিয়ে নেওয়া যায়। ফলে ফসলের ক্ষতি কম হয়। 

অন্যদিকে, ময়না বেগম শুধু আদা চাষেই সফল হননি, তিনি চুইঝাল গাছের চাষেও এগিয়ে গেছেন। মসলা ও ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এই চুইঝাল গাছের সংখ্যা তার বাগানে ৬৫০টি। চুইঝাল চাষের খরচ কম এবং এটি খুব কম পরিশ্রমে হয়। 

ময়না বেগমের এই উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি জানান, তার ইচ্ছা হলো বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্বুদ্ধ করা। এখন অনেক নারী এই পদ্ধতিতে আদা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং নিজেরাও চাষ শুরু করেছেন। 

ময়নার আদা চাষের সাফল্য এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন চিন্তা ও পদ্ধতির দিকে ধাবিত করেছে। বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা বেশি উৎপাদন করতে পারছেন এবং খরচ কমাতে পারছেন। ময়না বেগম বলেন, ‘আমার আদা চাষের পাশাপাশি চুইঝাল গাছের চাষও লাভজনক হয়েছে। আমি আশা করি, এই পদ্ধতিতে আদা চাষে ভালো লাভ হবে। অন্য কৃষকও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে।’ 

ময়নার উদ্যোগের প্রতি কৃষি কর্মকর্তাদেরও প্রশংসা রয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, ‘ময়না বেগমের মতো উদ্যোক্তা এখন বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ করছেন। তিনি সুপারি বাগানে বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে একটি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষকদের জন্য পরামর্শও গ্রহণ করছেন।’ 

জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কৃষকরা পাট চাষে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখলেও কাটার পর তা কোথায় জাগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সরকারি খাল-পুকুর লিজ হওয়া এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি না থাকায় উপযুক্ত জায়গার খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তারা।

জানা গেছে, সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাট নিয়ে স্বপ্ন দেখেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। তবে নানা প্রতিকুলতায় এবার জেলায় কমেছে পাটের চাষ। সদরের বুলুপাড়া, নিশির মোড়, বেলআমলা, কেশবপুর, দোগাছী, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত বছর ব্যাপক পাট দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের চিত্র আলাদা। এসব এলাকায় অনেকেই পাট চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসলের চাষ করেছেন।

আগামী ২০ দিনের মধ্যে শুরু হবে পাট কাটা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর কম। এ থেকে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ২৯৩ বেল।

কৃষকরা জানায়, বিঘাপ্রতি জমিতে পাট চাষ করতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেওয়ার জায়গা। আশেপাশের খাল, ছোট ছোট পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও মাছ চাষ করায় কমে গেছে জাগ দেওয়ার জায়গা। অনেকেই দূর-দূরান্তে উপযুক্ত জলাশয়ের খোঁজ করছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত খরচে বিকল্প ব্যবস্থা করছেন। অধিকাংশ কৃষক জানেন না, রিবন রেটিং পদ্ধতি, এতে জায়গাসঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

বেল আমলা এলাকার কৃষক গোপাল চন্দ্র বলেন, ‘পাট চাষ করে বাজারে ভাল দাম না পেলে লাভ হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা পাট জাগ দেওয়ার জায়গা নেই। এখন যাদের নিজস্ব পুকুর আছে তারাই পাট চাষ করে। সরকার থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাই না।’

করিমনগর গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। সেই হিসেবে আমরা পাটের দাম পাই না। পাট জাগ দেওয়ার জায়গার অভাবে এই এলাকায় এবার অনেকে পাট চাষ করেননি। পুকুর ভাড়া নিতে হয়। আবার নদীতে জাগ দিলে পাট ভেসে যায়। সরকারের পাট জাগ দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, আমরা জানিও না সেই পদ্ধতি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের কোনো খোঁজও নেয় না। সরকারের কাছে আবেদন এবার যেন আমরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাই।’

কেশবপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘এবার দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। কিন্তু কয়দিন পর পাট কেটে কোথায় জাগ দিব, সেই জায়গা খুজে বেরাচ্ছি। আশপাশে কোনো পুকুর নাই। সরকারি যেসব পুকুর ছিল তা লিজ দিয়েছে। অনেকের পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য পাট জাগ দেওয়া যায় না।’ 

একই গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাট চাষ করে বাজারে বিক্রি করতে গেলে সঠিক মূল্য পাই না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের দামে কমিয়ে দেয়। সরকারের কাছে অনুরোধ এবার যেন আমরা পাটের মূল্যটা পাই। পাটের টাকা পাটোক (শ্রমিককে) দিতেই চলে যায়। তাহলে আমাদের পাট চাষ করে লাভ কি?’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘অল্প পানিতে পাট পঁচানো যায়, বা রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগবালাই বিষয়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’ 

পাট চাষ কমার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে পাটকেন্দ্রিক অনেক শিল্প-কারখানা ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কারখানা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পাটের চাহিদা কিছুটা কমায় চাষও কমেছে। তবে সরকার থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে পাটের আবারও সুদিন ফিরে আসবে।’

সাগর/খাদিজা রুমি/

কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ এএম
কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে ৯০টি কীটনাশক স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে ঝিনাইদহ শহরের আল হেরা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিকাজকে আরও সহজতর করার লক্ষ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা (এডিপি) খাতের বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে এসব বিতরণ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী আজম মো. আবু বকর। 

তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের কৃষিখাতকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থার বিকল্প নেই। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. হাবিবুর রহমান, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কৃষি উপকরণগুলো সম্পূর্ণ সরকারি ক্রয়বিধি মেনে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এগুলো কেনা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা এটিকে একটি সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মাহফুজুর/খাদিজা রুমি/

গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা
ছবিঃ খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে পাট চাষে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল পাটের জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’।

চলতি মৌসুমে এই নতুন জাতের পাটের বাম্পার ফলন এবং মানসম্মত বীজ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। 

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশেই এই জাতের পাটের বীজ উৎপাদন করলে একদিকে যেমন কমবে আমদানি নির্ভরতা, অন্যদিকে ভারতীয় বীজ কেনা বাবদ দেশের অন্তত ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সমীর মজুমদার। বিগত কয়েক বছর ধরে বাজার থেকে বীজ কিনে করছিলেন পাটের চাষ। তবে সার, কীটনাশক ও সেচ দিয়েও সেসব বীজ থেকে আশানুরূপ ফলন পাননি তিনি। ফলে গুণতে হয়েছিল লোকসান। এরপর বিনা উপকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে পাটের বীজ নিয়ে নিজের তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেন ‘বিনা তোষাপাট-১’। এবছর তার জমির পাট অনেক ভালো হয়েছে। ফলে এ বছর লাভের আশা দেখছেন তিনি।   

শুধু সমীর মজুমদার নয়, আরও ২৫জন কৃষক বিনা উপকেন্দ্র থেকে পাটের বীজ নিয়ে রোপন করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি তারা।  

প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলায় ‘বিনা তোষাপাট-১’ লম্বায় বড় হওয়ার পাশাপশি এতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ অনেক কম। এ জাতের আঁশের ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২ টন থেকে প্রায় ৪ টন। এই পাটের জীবনকাল মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিন হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। 

প্রতি বছর তোষাপাটের বীজের জন্য একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। এছাড়া সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ না পাওয়া এবং চড়া মূল্যের কারণে প্রায়শই প্রান্তিক কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েন। 

‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট থেকে হেক্টর প্রতি প্রায় ১ হাজার কেজি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই সাথে পাটের পাতার ক্লোরোফিল এর ঘনত্ব বেশি থাকায় এই জাতের পাটের আঁশ ও বীজ উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা অর্থিকভাবে লাভবান হবেন। 

কৃষকরা যদি নিজেদের প্রয়োজনীয় বীজ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারেন, তবে বিদেশ থেকে পাটবীজ আমদানির আর প্রয়োজন হবে না। 

বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ‘বিনা তোষাপাট-১’ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিনা উপকেন্দ্র গোপালগঞ্জে মাঠ দিবসের আয়োজন করে। 

মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান। 

বিনা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে বিনা ময়মনসিংহের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুননবী মজুমদার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: হাবিবুর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তারসহ কৃষি কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।  

সুচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাজী শাবান বলেন, বিগত দিনে বিভিন্ন ধরনের পাট বীজ রোপন করে লোকসানের মুখোমুখি হয়েছি। তাই এবার বিনার কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাটের আবাদ করেছি। বর্তমানে ক্ষেতের পাটের ফলন ব্যাপক হয়েছে। পাট গাছ লম্বা হয়েছে ও আঁশ ও অনেক মোটা হয়েছে। আশা করি এবার লাভবান হবো।   

সুকতাইল ইউনিয়নের ১নং ইউপি সদস্য মান্নান শেখ মান্নু বলেন, ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট অনেক ভালো হয়েছে। এতে কৃষকেরা আগামী মৌসুমেও এই জাতটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। 

বিনা উপকেন্দ্র, গোপালগঞ্জ এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাত একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। ৫২ শতাংশের বিঘায় অন্যান্য জাতের তুলনায় ৪ থেকে ৫ মন ফলন বেশি হয়। তাই আমরা কৃষকদের ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাত চাষে পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করছি। এ জাতের পাটের জীবনকাল মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিন। ফলে কৃষকরা তাদের ফসল আগাম ঘরে তুলতে পারবেন, সেই সাথে একই জমিতে আরো ৪টি ফসল করতে পারবে।    

বিনা ময়মনসিংহ এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বলেন, এক সময় যখন পাটের দুর্দিন চলছিলো তখন গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের কৃষকদের জন্য ভারত থেকে বীজ আনা হতো। এ জাতের পাট চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাট বীজের আমদানি নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় আসার পাশাপশি ১০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।   

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ২৫ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ পাটের বীজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে অনেক সময় পাটের বীজের মান ভালো থাকে না। ফলে এ বছর বিনার পক্ষ থেকে “বিনা তোষাপাট-১” জাতের বীজ কৃষকদের দেয়া হয়। অন্যান্য জাতের তুলনায় এই জাতের পাট ভালো হয়েছে।  

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে দেশের সোনালী আঁশের গৌরব ফিরে আসবে বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বাদল সাহা/অদিতি/

মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। 

প্রত্যয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না।

কৃষক ফারুক আহমদ অভিযোগ করেন, আমার কৃষি কার্ড আছে, আমি একজন প্রকৃত কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও সংগ্রহ করেছি। এমনকি খাদ্য গুদাম থেকে ধান দেওয়ার জন্য বস্তাও দেওয়া হয়েছিল। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও আমার ধান নেওয়া হয়নি। 

কৃষক মোজাম্মেল সরকার বলেন, খাদ্য গুদামে সরকারি ভ্যাট, বস্তা ও শ্রমিক খরচের কথা বলে প্রতি বস্তা ধানের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আমি ৬৫ বস্তা ধান সরবরাহ করেছি। সে হিসেবে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

কৃষক সুদর্শন চন্দ্র জানান, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে তাকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অন্য কৃষকদের কাছ থেকেও আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত কৃষকরা সব ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ধান বিক্রি করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা খোলা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খালেদা আক্তার বলেন, ৭৫ মণ ধান বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট বাবদ ৫৪০ টাকা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। যদি কেউ এর বাইরে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৩০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ৪০০ জন কৃষককে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভ্যাট (আইটি) ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। কোনো কৃষক যদি অফিস সহকারীকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম আহমেদ জানান, কৃষি অফিসের প্রত্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের থেকেই ধান নিতে হবে, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাহাদাত হোসেন/অদিতি/

ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন, গাছের চারা, মরিচ এবং শাক-সবজি আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার বীজ বিতরণের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকদের মাঝে কৃষিপণ্য বিতরণ করা হয়ে।

কৃষিপণ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমাদুল হাসান। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পর্যায়ক্রমে ৪ হাজর ৬৪৪ জনের কৃষক মাঝে বিতরণ করা হবে।

বীজ ও সার সহায়তা হিসাবে প্রত্যেক কৃষক পাবেন ডিএপি-১০ কেজি, এমওপি-১০ কেজি ও ধানের বীজ ৫ কেজি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মমতাজ বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো.মনোয়ার হোসেন, সুষ্মি সাহা, বিআরবি চেয়ারম্যান হারুন অররশিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এএফ