পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮০ টন। একই সঙ্গে মৌ চাষিরা সরিষাখেতের পাশে বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। এতে মধু উৎপাদন বাড়ছে এবং সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা সরিষা চাষ থেকে লাভ পাচ্ছেন। পাশাপাশি মধু উৎপাদনকারী মৌ চাষিরাও ভালো আয় করছেন। ঈশ্বরদীতে সরিষা চাষ ও মধু উৎপাদন কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ঈশ্বরদীতে সরিষা আবাদ বাড়ছে। তিন বছর আগে এই এলাকায় ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হতো। তবে বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টরে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষার আবাদ হচ্ছে। সাঁড়া, পাকশী, সলিমপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, সাহাপুর, ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে সরিষা চাষ হয়। তবে সলিমপুর, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নে সরিষা আবাদ বেশি হচ্ছে। এবার ঈশ্বরদী উপজেলায় সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮০ টন।
এই অঞ্চলে সরিষা চাষে নতুন ধরনের উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার করা হচ্ছে। বারী-৯, বারী-১৪, বারী-১৫, বীনা-৯ এবং টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ করা হচ্ছে। সাঁড়া গোপালপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বক্স স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মৌ চাষি সুমন কবির ঈশ্বরদীতে মধু উৎপাদনের জন্য এসেছেন। তিনি সাঁড়া গোপালপুর এলাকায় সরিষাখেতের পাশে ১৮৩টি মৌ বক্স স্থাপন করেছেন।
সুমন কবির জানান, তিনি ২০ দিন আগে ভাঙ্গুড়া থেকে ঈশ্বরদীতে এসেছেন মধু উৎপাদন শুরু করতে। প্রথমে সরিষাখেতের পাশে বক্স নিয়ে আসতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে থাকা-খাওয়াসহ তার মোট খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তবে ২০ দিনে তিনি ২০ মণ মধু পেয়েছেন। ১০ দিনের মধ্যে আরও ১৫ থেকে ১৬ মণ মধু পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। প্রতি মণ মধু ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হলে, ৩৫ মণ মধু বিক্রি করে তিনি প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লাভ করবেন।
মৌ চাষি সুমন কবির জানান, প্রতিটি বক্সে ১০ হাজারেরও বেশি মৌমাছি বাসা বাঁধে এবং মধু সংগ্রহ করে। তবে আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকায়, কুয়াশার কারণে মৌমাছিরা বক্স থেকে বের হতে পারছে না। এই পরিস্থিতি না থাকলে আরও বেশি মধু পাওয়া সম্ভব ছিল।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, সরিষা চাষের সঙ্গে মধু উৎপাদন কার্যক্রমের সংমিশ্রণ কৃষকদের জন্য লাভজনক। সরিষা চাষিরা সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌমাছিরা সরিষার পরাগায়নে সহায়তা করছে। এতে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌ বক্স স্থাপন করে মধু উৎপাদন করায় মৌ চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন।