ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪ স্কুলছাত্রী সিলেটে জীবিত উদ্ধার নোবিপ্রবির সঙ্গে জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মিলল পাটখেতে নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন, পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত ইউআইইউ স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের উদ্যোগে ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে বখাটেদের ছত্রভঙ্গ ও ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএসসিসির অভিযান মন্ত্রীত্ব হারিয়েও উষ্ণ অভ্যর্থনায় দীপেন দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কেঁচো: মাটির নীরব শ্রমিক, কৃষির অদৃশ্য নায়ক চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যা রোটারি ইন্টারন্যাশনালের বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফাইন্যান্স এশিয়ার তিন পুরস্কার পেল আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস বালুর নিচে মিলল বিদেশি মদের মজুত, আটক বাড়ির মালিক Golden Touch বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের আহ্বান চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির নোয়াখালীতে মডেল মসজিদের খতিবের মরদেহ উদ্ধার জন্মদিনে ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায় সিক্ত জয়া আহসান ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের প্রয়াত নাট্যজগতের কিংবদন্তি বিজয়া মেহতা পুশইনের পর শূন্যরেখা থেকেই নিখোঁজ তিন যুবক পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে সিইও হওয়ার গল্প শোনালেন শরণ রাস্তার সংস্কার চাই শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র দরজায় কাফনের কাপড়, চিরকুটে হুমকির বার্তা! রাবি ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর খাবারের স্বল্পতা এল নিনো: জলবায়ুর অস্থিরতা ও বাংলাদেশের ঝুঁকি

ঈশ্বরদীতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজে লাভবান কৃষক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২২ এএম
ঈশ্বরদীতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজে লাভবান কৃষক
কৃষক মো. জাহাঙ্গীরের খেতে উৎপাদিত পেঁয়াজ দেখছেন একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/খবরের কাগজ

কয়েক বছর আগেও পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ কম ছিল। তবে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। কয়েকটি জাতের মধ্যে নাসিক (রেড) এন–৫৩ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বেশি। নাসিক (রেড) এন–৫৩ জাত থেকে বিঘাপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ মণ এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ থেকে প্রতি বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ উৎপাদন হয়।

উপজেলার দাদাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন আড়াই বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ পেয়েছেন। শুধু তিনি নন, এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই এবার লাভবান।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় লক্ষীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নে।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষক জালালউদ্দিন তিন বিঘা জমিতে মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, 
‘তিন বিঘা জমিতে চারা লাগাতে হয়েছে ১০ মণ। বিঘাপ্রতি উৎপাদন ৪৮ থেকে ৫০ মণ। মোট উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ১৫০ মণ। চারা ও সব মিলিয়ে তিন বিঘায় খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। তিনি ইতোমধ্যে এক বিঘা জমির পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। বাকি দুই বিঘার পেঁয়াজ পর্যায়ক্রমে বিক্রি করবেন। ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে ১৫০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করলে দাম দাঁড়াবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তার লাভ হবে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।’

একই ইউনিয়নের দাদাপুর গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আড়াই বিঘা জমিতে এ বছর নাসিক (রেড) এন–৫৩ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এ জাতকে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বলা হয়। জুলাই–আগস্টে চারা রোপণ করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১১০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছে। বাজারে বিক্রি করেছেন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। এক বিঘায় ১১০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘শুধু মো. জাহাঙ্গীর নয়, ঈশ্বরদীর পেঁয়াজ চাষিরা সবাই এবার লাভবান।’ তিনি জানান, ‘কৃষি প্রণোদনার আওতায় নির্ধারিত সময়ে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি কমাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, আগে শুধু শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হতো। এখন প্রণোদনা পাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজও উৎপাদন করছে কৃষকরা। এতে ঈশ্বরদীতে উৎপাদন বেড়েছে। এখানে বিঘাপ্রতি ১০০ মণের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন আবাদে উৎসাহী হচ্ছেন।’

ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় কৃষক আবুল কালামের সবজির জমি। ছবি: খবরের কাগজ

ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। সেখানে মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় সফল চাষী আবুল কালাম।

মাত্র ২০ শতাংশ জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করছেন। সনাতন পদ্ধতিকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে এসেছে আশাতীত অর্থনৈতিক সাফল্য।

আবুল কালাম কেবল নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, সৃষ্টি করেছেন অন্যের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় নিয়মিত কাজ করছেন আরও ছয়জন কৃষক। আধুনিক ও নিরাপদ সবজি চাষে তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো ধামরাইয়ের কৃষকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অনেক বেশি হয়। এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে ‘গ্যাপ ফসলে পার্টনার সিস্টেম’ ব্যবহার করে একই জমিতে আরও বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, মালচিং পেপার ব্যবহারের কারণে জমিতে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের ফলে সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাটির ওপর মালচিং পেপার বিছানোসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবুল কালাম বলেন, ২০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে কৃষি আবাদ করছেন। প্লাস্টিক মালচিং পেপার দিয়ে জমি ঢেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তিনি জমির  বিভিন্ন অংশে পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছেন নানা ধরনের সবজি। ​করলা, শশা ​,ধুন্দল ​ও লাউ চাষ করে লাভবানও হয়েছেন তিনি। এবার সবজি চাষে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, নরমাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ​মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারছে না, মাটির আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় থাকছে এবং সার ও সেচের অপচয় অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে পদ্ধতিগত চাষাবাদ এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে প্রতিটি ফসলের গাছই বেশ সতেজ এবং ভালো ফলন দিচ্ছে। তার এমন চাষ দেখে অনেক শিক্ষিত যুবকও সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জামান বলেন, “গতবার আবুল কালাম দুটি জমিতে করলা চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মালচিং ছাড়া জমি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করলেও, আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা জমি থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেন। এই পদ্ধতিতে খরচ ও পোকার আক্রমণ কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি।”

ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক আবুল কালামের প্রজেক্টে আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার নিশ্চিত করেছি, এমনকি তাকে জৈব সার তৈরি করাও শিখিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জমিতে ধূমপান ও পানাহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের হ্যান্ডগ্লাভস ও নির্দিষ্ট পোশাক পরে কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য পুরো জমি নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “মালচিং ও পার্টনার পদ্ধতিতে একই জমিতে সারাবছর কীভাবে বেশি লাভজনক ও নিরাপদ ফসল ফলানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আবুল কালামের মতো কৃষকদের মাধ্যমে আমরা বেকার শিক্ষিত যুবকদেরও কৃষিতে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করছি।”

রুহুল/এএফ

সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ, সার, গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। 

পরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ’কৃষক দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত কৃষকেরা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে আউশ ও আমন ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি অধিক ফলন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. জফলুল হক (ফজলু) মেম্বার এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ খান।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের হাতে বীজ, সার, গাছের চারা ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

 ইমরান/খাদিজা রুমি/

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, আর্থিক উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি ও আইএফএডির সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিসে ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত  হয়। 

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। 

পার্টনার কংগ্রেসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি  ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন।

এ ছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্থানীয় কৃষক কৃষাণীরা এ কংগ্রেসে অংশ নেন।

ফয়সল আহমেদ/অমিয়/

বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর
আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল/ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান এই প্রথম বিদেশি ফল আলুবোখারা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত আম, জাম বা লিচুর বাগান দেখা গেলেও, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও মসলা জাতীয় এই বিদেশি ফল চাষ করে রীতিমতো সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।

তার এমন সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আলুবোখারার বাগান করতে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তার বাগান দেখতে ও আলুবোখারা কিনতে।

বাগান মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার গাছ পেয়েছিলাম। বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে আলুবোখারার গাছগুলো রোপণ করি। গাছ রোপনের এক বছর পর না বুঝে অনেকটা রাগ করে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলি। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে। তবে দুই বছর পর গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ বছরই আরো আধিক পরিমান জমিতে বাণিজ্যিক আকারে আলুবোখারার বাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আলুবোখারা একটি বিদেশি ও মশলা জাতীয় ফল। আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি মাসে ফুল আসে। ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর জুন মাসের দিকে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এ গাছ পরিচর্যা ও সার-ঔষধ খুব বেশী প্রয়োজন হয়না। সাধারণ সবজী জাতীয় ফসলের মতো সার-ঔষধ ও পরিচর্যা করলেই হয়।

এ বিষয় নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, সাধারণত আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাবিবুর রহমানের পাশে আছি। তাকে সার্বিক সহোযোগিতা করা হচ্ছে। 

নয়ন/ এএফ 

সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই
জুঁই খেতে কাজ করছেন চায়নিজ কৃষক।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর যখন ফুলের গুণগত মান ও বাজারদর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জুঁইচাষি, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে আবহাওয়া পূর্বাভাস। চীনের বৃহত্তম জুঁই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংচৌ শহর এখন আবহাওয়াভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে জুঁই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলছে।
মে’র শেষ দিকে হেংচৌর বিস্তীর্ণ মাঠে জুঁই ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সুগন্ধি ও চা শিল্পে ব্যবহৃত এই ফুল আবহাওয়ার প্রতি বেশ সংবেদনশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি ফুলের সুগন্ধ কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নষ্ট করে, অন্যদিকে খরা ও অতিরিক্ত তাপ কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত করে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
হেংচৌর ৬৬৭ হেক্টর আয়তনের জুঁই বাগান ‘চাইনিজ জেসমিন গার্ডেন’-এর ব্যবস্থাপক উ চিফু বলেন, জুঁই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। রোদেলা দিনে ফুলের সুগন্ধ বেশি থাকে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত ফুলের দামে ভালো প্রভাব ফেলে। পরপর তিন দিন বৃষ্টি না হলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
বর্তমানে হেংচৌতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুঁই চাষ হয় এবং বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফুল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনমূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এটি জড়িত।
স্থানীয় জুঁই শিল্পসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা হুয়াং ইয়াচি জানান, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি ১০টি জুঁই ফুলের মধ্যে প্রায় ৬টিই হেংচৌতে উৎপাদিত হয়। এখানকার জুঁই ফুলের পণ্য জাপান, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করছে। উ চিফু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে প্রতি হেক্টরে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান সেচ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিক্ষয় ও শিকড়ের ক্ষতিও এড়ানো যায়।
শুধু চাষিরাই নয়, আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্টরাও। কুয়াংসি চিনেং মডার্ন এগ্রিকালচারের পরিচালিত জুঁই-সুগন্ধি পণ্য শিল্পপার্ক ‘সিয়াংসিয়াং গার্ডেন’-এর মহাব্যবস্থাপক উ ইয়ুমিং বলেন, বৃষ্টির কারণে ফুলের গুণগত মান ও উৎপাদন কমে গেলে কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুঁই তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের সতেজতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর উচ্চ তাপমাত্রা পরিবহনজনিত ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল জুঁইজাত পণ্যের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম কাঁচামাল মজুত ও উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে।
জুঁই শিল্পকে আরও কার্যকর সহায়তা দিতে হেংচৌ ও কুয়াংসির রাজধানী নাননিংয়ের আবহাওয়া বিভাগ একটি ডিজিটাল জুঁই প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে স্থলভিত্তিক আবহাওয়া কেন্দ্র, রাডার এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস মডেলের তথ্য একত্রিত করে কৃষক ও চা উৎপাদকদের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া তথ্য, সতর্কবার্তা ও কৃষিসেবা সরবরাহ করা হয়।
হেংচৌ আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান কনা লি জানান, জুঁই ফুলের জন্য বিশেষভাবে ঝড়বৃষ্টি-ঝুঁকি পূর্বাভাস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আগের দিনের বৃষ্টিপাতের তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস একত্রে বিশ্লেষণ করে ফুল সংগ্রহ ও বাজারদরের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সাল থেকে খরা মোকাবিলা ও জুঁই বাগানের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৪ বার কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কান লি বলেন, আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল পদ্ধতিতে আবহাওয়া সেবাকে ডিজিটাল জুঁই প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পটির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সূত্র: সিএমজি