কয়েক বছর আগেও পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ কম ছিল। তবে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। কয়েকটি জাতের মধ্যে নাসিক (রেড) এন–৫৩ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বেশি। নাসিক (রেড) এন–৫৩ জাত থেকে বিঘাপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ মণ এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ থেকে প্রতি বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ উৎপাদন হয়।
উপজেলার দাদাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন আড়াই বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ পেয়েছেন। শুধু তিনি নন, এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই এবার লাভবান।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় লক্ষীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নে।
লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষক জালালউদ্দিন তিন বিঘা জমিতে মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। তিনি বলেন,
‘তিন বিঘা জমিতে চারা লাগাতে হয়েছে ১০ মণ। বিঘাপ্রতি উৎপাদন ৪৮ থেকে ৫০ মণ। মোট উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ১৫০ মণ। চারা ও সব মিলিয়ে তিন বিঘায় খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। তিনি ইতোমধ্যে এক বিঘা জমির পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। বাকি দুই বিঘার পেঁয়াজ পর্যায়ক্রমে বিক্রি করবেন। ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে ১৫০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করলে দাম দাঁড়াবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তার লাভ হবে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।’
একই ইউনিয়নের দাদাপুর গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আড়াই বিঘা জমিতে এ বছর নাসিক (রেড) এন–৫৩ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এ জাতকে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বলা হয়। জুলাই–আগস্টে চারা রোপণ করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১১০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছে। বাজারে বিক্রি করেছেন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। এক বিঘায় ১১০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘শুধু মো. জাহাঙ্গীর নয়, ঈশ্বরদীর পেঁয়াজ চাষিরা সবাই এবার লাভবান।’ তিনি জানান, ‘কৃষি প্রণোদনার আওতায় নির্ধারিত সময়ে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি কমাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, আগে শুধু শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হতো। এখন প্রণোদনা পাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজও উৎপাদন করছে কৃষকরা। এতে ঈশ্বরদীতে উৎপাদন বেড়েছে। এখানে বিঘাপ্রতি ১০০ মণের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন আবাদে উৎসাহী হচ্ছেন।’