চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রকাশ্যে নিলামে তোলা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেজি আপেল ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। নগরের আগ্রাবাদ এলাকার মেসার্স মাসুম এন্টারপ্রাইজ চায়না থেকে আমদানি করা আপেলগুলো নিলামে কিনে নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে মোট ১৩৭ জন বিডার (ক্রেতা) নিলামে অংশ নিয়েছেন। কাস্টমস আপেলগুলোর দাম দিয়েছিল ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। তবে নিলামে তোলা আপেলের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সবাই। দেরিতে নিলামে তুলে আপেলের মান খারাপ করায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করছেন নিলামে অংশগ্রহণকারীরা।
বিডাররা বলছেন, চার মাস আগে আপেলগুলো নিলামে তুললে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দেরিতে নিলামে তোলায় মোট আপেলের ২৫ ভাগ ভালো আছে। বাকিটা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নিলামে আপেলগুলো কিনে নেওয়া মেসার্স মাসুম এন্টাপ্রাইজের মালিক মোশাররফ হোসেন মাসুম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আপেলের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই পচা। আমি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে আপেলগুলো কিনেছি। আমার কাছে এটাও ঝুঁকি মনে হচ্ছে। এক কথায় আমি অন্ধকারে ঢিল ছুড়েছি। বাকিটা ভাগ্যের ব্যাপার’।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের মদিনা বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. জাকির হোসেন গত এপ্রিলে চীন থেকে ২৫ হাজার ৪৯৯ কেজি আপেল আমদানি করেছিলেন।
এদিকে ঢাকার আশুলিয়ার আমদানিকারক জার্মান কেমিক্যাল লিমিটেড চীন থেকে প্রিমিয়াম এনজাইম সলিউশন নামের কেমিক্যাল আমদানি করেছিলেন। কেমিক্যালগুলোও আজ নিলামে বিক্রি করা হয়। নগরের কোতোয়ালি এলাকার ব্যবসায়ী হাজি ফেরদৌস আলম কেমিক্যালগুলো নিলামে কিনে নেন। কাস্টমস হাউস এই কেমিক্যালের দাম চেয়েছিল ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৫ টাকা। আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেমিক্যালগুলোর মেয়াদ রয়েছে।
নিলাম অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. আবদুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
গত ৯ অক্টোবর ২৮ মেট্রিক টন মহিষের মাংস প্রকাশ্য নিলামে তোলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। ওই মাংসের দাম ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। কিন্তু মাংসের গুণগতমান না থাকায় সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা দাম দেয় শাহ মখদুম ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
ইফতেখারুল/সাদিয়া/অমিয়