ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের

বান্দরবানে ভোটার বেড়েছে ৪১ হাজার, ভোটকেন্দ্র ৬টি

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৫ এএম
বান্দরবানে ভোটার বেড়েছে ৪১ হাজার, ভোটকেন্দ্র ৬টি
ছবি: খবরের কাগজ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০নং আসন বান্দরবানে গতবারের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ৪১ হাজার ১৫৬ জন। ভোটকেন্দ্র বেড়েছে আরও ৬টি।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৭ উপজেলার দুই পৌরসভাসহ মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ২৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৩ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৬ জন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৭৬টি ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১৮২টি। এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বেড়েছে ৬টি।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানে ১৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দুর্গম এলাকার ৬টি কেন্দ্র ‘হেলিসর্টি’ অর্থাৎ এই ৬টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও নির্বাচনকর্মীদের যেতে হবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। ৬টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলায় ব্যবহার করা হবে। ১৮২টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকবে ৭২৭টি।

বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিসার এসএম শাহাদাৎ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৩ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানে ১৭৬টি ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার ১৮২টি। ৬টি ভোটকেন্দ্র বেড়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে, আপাতত ভোটার সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’

রাহাত/সাদিয়া/অমিয়/

বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।

মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে এলাকাসীর মানববন্ধন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখল, হামলা, মামলাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে  বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলবাজি, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

এসব কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সৌদি আরব প্রবাসী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমি প্রবাসে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ করেছি। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে আমার ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখা হয়। এতে আমি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ দিকে এলাকাবাসীর মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজ বলেন, 'এসব অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত নই, কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় বুধবার ব্লক পিচিং ধসে যায়। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারও ধস দেখা গেছে। গত বুধবার সন্ধ‌্যার পর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ব্লক পিচিং অংশ ধসে গেছে। একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক পিচিং ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন এবং বালুভর্তি ড্যাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে ধস দেখা দিয়েছে।

জানা গে‌ছে, চিলমারী উপ‌জেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে বাঁধ কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ৭টি স্থানে বাঁধ কেটে রাস্তা করা হয়েছে। এসব সড়ক নির্মাণে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্লক পিচিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদী ভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধে ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষার জন্য ৪ কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা দেয়। গত বুধবার এই বাঁধের প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল আগের মাসের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তারা অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিটার পরিদর্শকরা গ্রাহকদের রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছেন। তারা এমন বিড়ম্বনার প্রতিকার চেয়েছেন। 

গ্রাহকদের দাবি, জুন মাসে তাদের লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হয়েছে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মাসের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু বিল এসেছে তুলনামূলক বেশি। কাউকে দ্বিগুণ, কাউকে তিন গুণ বিল গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব ও কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানান, তার দুটি মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। একটি মিটারে জুন মাসে বিল এসেছে ৬৫০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৮০৫৫ টাকা। অথচ একই মিটারে মে মাসে ৪২৫ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়। এ ছাড়া তার আরেকটি মিটারে মে মাসে ৩১০ ইউনিট ব্যবহারের বিল এসেছিল। জুন মাসে একই মিটারে ৪৫০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল এসেছে ৪৬০৩ টাকা। তিনি দাবি করেন, তার মিটারগুলো না দেখেই অনুমাননির্ভর রিডিং বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনির বাসিন্দা ফোরকান হাওলাদার জানান, তাকে প্রতি মাসে গড়ে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেওয়া হতো। কিন্তু কলোনির শতাধিক পরিবারকে এবার দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জহির হোসেন জানান, তার প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার বিল আসত। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বিল এসেছে। তিনিও দাবি করেন, মিটার পরিদর্শক অনুমাননির্ভর রিডিং জমা দেওয়ায় তাকে বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে। 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীনে ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ, তাদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেওয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। লোডশেডিংও ছিল। অথচ বিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউনিট দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট
মাগুরায় আয়োজিত নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাগুরায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে আয়োজন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। তবে আয়োজনের তুলনায় দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধিকাংশ দর্শক ছিলেন নার্সিং ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ দর্শকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত।

এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—জেলায় যেখানে অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, সেখানে জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেও কেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অংশগ্রহণ এত কম?

জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে জেলা অডিটোরিয়ামে  আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা), সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির এবং সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আলফাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইমতিয়াজ হোসেন।

জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস জানান, প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এর অংশ হিসেবে মাগুরায় তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তীতে বছরব্যাপী কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, নাটক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলবে।

দর্শক উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আকাশ সংস্কৃতি, মোবাইলনির্ভর বিনোদন এবং প্রযুক্তির প্রভাব রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণার কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, জেলার প্রায় ৫০টি সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে অনুদানপ্রাপ্ত ৩২টিসহ সব সংগঠনকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে এবং লিখিতভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরপরও প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হননি।

পার্থ প্রতিম দাস বলেন, আমরা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারি, সবাইকে জানাতে পারি। কিন্তু ঘর থেকে বের হয়ে অনুষ্ঠানে আসার মানসিকতা একজন সংস্কৃতিসেবীকেই তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানের মান আরও উন্নত করার সুযোগ অবশ্যই আছে। তবে দর্শককেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে তুলতেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এই বয়স থেকেই যদি তাদের মধ্যে নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক অনুরাগ তৈরি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা নিয়মিত দর্শক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে।

তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মীর মতে, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় সংস্কৃতিমনা মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হতে পারত।

এদিকে সম্প্রতি জেলা পর্যায়ে প্রায় ৮০ জন শিল্পীকে সরকারি অনুদানের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়মিত সরকারি অনুদান পাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে সেই শিল্পী ও সংগঠনগুলোর বড় অংশের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না বলেই মনে করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই। তাদের মতে, অনুদানপ্রাপ্ত শিল্পী ও সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলে দর্শক সংখ্যা যেমন বাড়ত, তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক বার্তা যেত।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস বলেন, অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই প্রত্যাশিত। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু সব সংগঠন থেকে প্রত্যাশিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ভবিষ্যতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের একাংশের মতে, দর্শক সংকটের পেছনে কেবল মানুষের অনাগ্রহ নয়, প্রচার-প্রচারণার কার্যকারিতা, অনুষ্ঠান আয়োজনের ধরণ, সময় নির্বাচন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠন ও শিল্পীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী কর্মসূচি শেষে বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, নাটক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী আয়োজনগুলোতে স্থানীয় দর্শক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অনুদানপ্রাপ্ত শিল্পীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

কাসেমুর রহমান/নাঈম