চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে ট্রেন দেখানোর কথা বলে মুরগির ফার্মের মালিকের ছেলেকে অপহরণ করায় মোহাম্মদ নুর নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে কক্সবাজারের একটি রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল রবিবার গভীর রাতে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম।
জানা যায়, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদ মানবিক কারণে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ নুরকে তার মুরগির ফার্মে চাকরি দেন। পরে নুর ফরিদের ছেলে মিনহাজকে ট্রেন দেখানোর কথা বলে অপহরণ করে কক্সবাজার নিয়ে যায়। তারপর বিভিন্ন মুঠোফোনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানায়, গত ৮ ডিসেম্বর চুনতি এলাকার মুরগির ফার্ম থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন দেখানোর কথা বলে শিশু মিনহাজকে নিয়ে যায় নুর। পরে তাকে বিভিন্ন স্থান ঘুরানোর পর মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। দুই ধাপে মিনহাজের পরিবার ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। তারপরও শিশুটিকে না ছাড়ায় তার পরিবার থানায় অভিযোগ করলে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে কক্সবাজারের প্রিন্স রিসোর্ট থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং নুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে চাকরি ও বসবাস শুরু করেছে। এ কারণে দ্রুত অপরাধ করে পালানোর সুযোগ থাকে তাদের। প্রায় ৪০ ঘন্টার অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার প্রাণ ঝুঁকিতে ছিল। পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করছে। অপহরণ, ছিনতাই, ছুরি ঠেকাতে আমরা মাঠে রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার নুরের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো চক্র রয়েছে কি-না সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
শিশুর চাচা ফৌজুল কবির খবরের কাগজকে জানান, প্রায় দেড় মাস যাবত এই রোহিঙ্গা যুবক তার ভাইয়ের মুরগির খামারে চাকরি করেছিল। এই সুবাদে রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে শিশু মিনহাজের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। মাঝে মাঝে দোকানে নিয়ে নুর তাকে বিভিন্ন জিনিসও কিনে দিত। এই সুযোগে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
চুনতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে যেন আর কোনো রোহিঙ্গা যুবককে চাকরি বা বাসা ভাড়া না দেওয়া হয়। কারণ রোহিঙ্গারা এখন মানবিক নয় আগ্রাসী। ওরা ক্ষতিকর। এটা বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে।’
মুহিবুল্লাহ্/পপি/অমিয়/