ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী ‘মাদক ছাড়ুন, না হলে বিপদে পাশে কাউকে পাবেন না’ শিয়াল ও ছাগল বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা প্রজাপতির অভিমান মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি: কার্লোস তেভেজ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত

পেশায় পল্লী চিকিৎসক, আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
পেশায় পল্লী চিকিৎসক, আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা
ছবি : খবরের কাগজ

মাইন উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। এর আড়ালে গড়ে তুলেছেন বিশাল অস্ত্র ব্যবসার সিন্ডিকেট। তার তত্বাবধানে অস্ত্র যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক সশস্ত্র গ্রুপ, মাছের ঘের দখল ও ডাকাতদের কাছে। নতুন করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়েছে রামু উপজেলার ঈদগড়ের মাইন উদ্দিন সিন্ডিকেট। তৈরি করছে নতুন নতুন সব অস্ত্র। চাহিদা থাকায় অগ্রিম অর্ডার নিয়ে বসেছেন এই পল্লী চিকিৎসক। 

ধারণা করা হচ্ছে- চিকিৎসা পেশার আড়ালে পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন। এই চিকিৎসক অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রাখেন। বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামতেও তিনি পারদর্শী। চট্টগ্রামের বড় বড় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই চিকিৎসকের যোগাযোগ ছিল। সে নিজেও পেশাদার কারিগর হওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র বেচাকেনায় জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

এ ছাড়াও, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালুভেশন আর্মি (আরসা) ছাড়াও আরও চারটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ, গরু পাচারচক্র, মাছের ঘের দখলে বেশি অস্ত্র সরবারহ করতেন তিনি।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোররাতে ঈদগড় ইউনিয়নের ছগিরাকাটা তুলাতলী পাহাড়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পান র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় দুইজন অস্ত্র তৈরির কারিগর ও পল্লী চিকিৎসক মাইন উদ্দিনসহ চারজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। 

মাঈন উদ্দিন ছাড়াও আটক হয় জাফর আলম, লাল মিয়া ও সাহাবউদ্দিন। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ১০টি অস্ত্র ও ২২ রাউন্ড গুলি। 

তবে র‍্যাবের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় কারখানাটির মালিক ও প্রধান কারিগর মনিরুল হক।

নির্বাচনকালীন অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে জানিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন- আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তাপ ছড়াতে দুর্বৃত্তরা নতুন অস্ত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। এই কারখানায় তৈরি অস্ত্রের অর্ডার বেশি হয়েছে। যা ব্যবহার হতো নির্বাচনের সহিংসতায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব এ তথ্য জানতে পারে। 

বেশ কয়েকদিন ধরে দুগর্ম পাহাড়ে নজরদারি রাখার পর দীর্ঘ ২৪ ঘন্টার বেশি সময় পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা, নবী হোসাইন গ্রুপসহ বিভিন্ন ডাকাত, অপহরণের সাথে জড়িত গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করতো তারা।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জানান,  দীর্ঘদিন ধরে কারখানা গড়ে তুলে অস্ত্র তৈরি করে আসছিলো একটি চক্র। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারখানা থেকে দুইজন এবং বাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, মনিরুল হকের পৈতৃক পেশা অস্ত্র তৈরি। পৈতৃক সূত্রেই তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এনে গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরি করতেন। তারা অস্ত্র তৈরি করতে করতে এক্সপার্ট হয়ে গেছেন। কারখানাটির মালিক ও প্রধান কারিগর মনিরুল হক সবচেয়ে দক্ষ। 

র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়ক জানান, মাঈন উদ্দিন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনিই মিডিয়াম্যান হিসেবে কাজ করতো। মাঈন উদ্দিন এবং জাফর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে ডিমান্ড নিয়ে মনিরুল হককে জানাতো। তারপর চাহিদা অনুযায়ি অস্ত্র তৈরি করে সরবরাহ করতো। প্রতিটি অস্ত্রের দাম পড়তো ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। 

সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এমন অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।

ঈদগর সড়ক অপহরণ এবং ডাকাতির জন্য সবসময় আলোচনায় থাকে। সেখানকার মানুষ আতঙ্কে চলাচল করে সড়কটি দিয়ে। এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা চান এমন অভিযান অব্যাহত থাকুক।

ঈদগড়ের বাসিন্দা মৌলভী ইলিয়াছ বলেন, এসব অপরাধীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিলো এক পুলিশ সদস্যেরও। সাধারন মানুষ তো প্রতিনিয়ত অপহরণ ও খুন হচ্ছেই। তাদের সিন্ডিকেটকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যার ফলে এ  অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকিতে। র‍্যাবের এ অভিযানটি মানুষের মধ্যে একটি সাহস তৈরি করবে। 

আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন- ‘মাইন উদ্দিন পেশায় চিকিৎসক। কখনো বুঝতেই পারিনি সে অপকর্ম করে যাচ্ছে। আমরা তো অবাক হয়েছি। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে অল্পদিনে।’

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক এএসপি জামিলুল হক বলেন, ‘গত এক বছরে প্রায় ১৩৫টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আর গুলি উদ্ধার হয়েছে ৬০০ রাউন্ড মতো। যার বেশিরভাগ যাচ্ছিলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীদের কাছে। নির্বাচন আসায় এখন চাহিদা আরও বাড়ছে।’

মুহিববুল্লাহ/অমিয়/

চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় জেতার পর গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে মাহিদুল (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নগরীর হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিদুল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কোনোপদিয়া এলাকার রাসেল গাজীর ছেলে। সে নগরের কলসির দীঘিরপাড় এলাকায় তার ভগ্নিপতির সাথে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

মাহিদুলের ভগ্নিপতি মো. রবিউল বলেন, শুক্রবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যান মাহিদুল। খেলার এক পর্যায়ে গোল করার পর আনন্দ প্রকাশ করতে গোলপোস্টের ওপর ঝুলে পড়েন। তখন লোহার গোলপোস্টটি ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এএফ/

৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ইয়াবা কারবারি জলমনি চাকমা তিন হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। 

শ্রক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি শহরের মারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সহযোগী জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ধোপ্পাছড়া এলাকার নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৬)কেও গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে জলমনি চাকমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা নিলো গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় 'গণঅধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সহ সভাপতি এস আই জলমনি চাকমাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে'। রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জলমনি চাকমা সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান  পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই আসামির হেফাজতে থাকা তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুজনই মাদক কারবারে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের স্হানীয় মূল্য সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক সেকান্দার বলেন, 'আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে'। 

'মাদক কারবার নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে' বলেও যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

 

গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি
মানিক মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার শোয়েব মুন্সি, অলি মুন্সি, নুহ মুন্সি, রাইশিমুল গ্রামের আল ইমরান খান, সাতুতী গ্রামের হাদিস, উজ্জ্বল এবং তারাকান্দা থানার বিসকা গ্রামের রিফাত খান।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, ছাত্রদল গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল কিনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে সতিষা এলাকার একটি রাস্তায় নিয়ে দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে শোয়েব মুন্সির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন একটি বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর গুরুতর আহত মানিককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনরা প্রথমে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে তার পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল।

নিহতের ভাই সুখ মিয়া জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মানিককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রিফাত/

রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূর, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টায় নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

মিনি ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন ছিলেন নারী প্রতিযোগী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

আয়োজকরা জানান, ‘রান ফর পদ্মা’ কেবল রাজশাহীর নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবেশ, নদী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার একটি গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ। নদী রক্ষার দাবি শুধু পরিবেশগত নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এ মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।

এনায়েত/এএফ

হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি
ইকরামুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর। 

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা উকিল উদ্দিন বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৫ জুন) অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের নামে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

একই মাদরাসার শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলেও এখনো ওই ছাত্রীর সন্ধান পায়নি পরিবার।

জানা গেছে, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একই মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা আক্তার ইভাকে (১৪) উত্ত্যক্ত করতেন। প্রেমের প্রস্তাবও দিতেন বলে পরিবারের দাবি।

ছাত্রীর পরিবার জানায়, ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইভা তার বান্ধবী সাদিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেক সময় পার হলেও বাড়ি না ফেরায় তারা সাদিয়ার বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। এ সময় সাদিয়ার মা জানান, ইভা তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, উপজেলার মান্দিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় ইভাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইকরামুল ইসলাম যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মুফতি বুরহান উদ্দীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে দীর্ঘ ৩৫ দিন পার হলেও মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ইভার সন্ধান এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, থানায় মামলা করার পরও তাদের মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হরিণাকুণ্ডু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক জাহিদ বলেন, ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের যশোরের কেশবপুরের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ট্র্যাকিং করতে সমস্যা হচ্ছে।

তবে দ্রুতই নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাওয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/