পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সমতলের মতো যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ ছিল না। কেউ অসুস্থ হলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জেলার বাইরে নেওয়া যেত না। জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগত। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতেও ছিল ভোগান্তি। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন এক দিনেই জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া যায়। সারা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে উৎপাদিত ফসল কিনতে আসেন। চাইলেই অসুস্থ ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামসহ রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া যায়। আর এসব সম্ভব হয়েছে জেলাব্যাপী যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে।
শুধু সড়কে নয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ ও উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে পার্বত্য এই জেলার চেহারা এখন বদলে গেছে। সমতলের মতো এখানকার পাহাড়ি অঞ্চলেও মেলে নাগরিক সুবিধা। তবে স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের এসব প্রকল্পের সুফল স্থানীয়রা এখন ভোগ করতে পারছেন। তবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে এগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
বান্দরবান শহরের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বলেন, টানেলের মাধ্যমে নতুন বাস টার্মিনালের সঙ্গে পুরোনো টার্মিনালের সংযোগ স্থাপন হয়েছে। এতে দূরত্ব কমেছে প্রায় দুই কিলোমিটার। এ ছাড়া টানেলটির বদৌলতে এবার ফের চালু হবে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত নতুন বাস টার্মিনাল। এ টানেলটি এখন থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। নইলে আমরা ভবিষ্যতে এর সুফল ভোগ করতে পারব না।
বান্দরবান রোয়াংছড়ির ২নং তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মার্মা বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।’ একই এলাকার তারুম চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ে দৃশ্যপট বদলেছে। সড়কব্যবস্থা ভালো হওয়ায় খুব সহজেই এক জায়গায় গিয়ে দিনের মধ্যেই আবার ফিরে আসা যাচ্ছে। আগে হেঁটে যেতে সময় লাগতো ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, এখন গাড়িতে সময় লাগছে মাত্র ৩০ মিনিট। এ ছাড়া পাহাড়িদের সবচেয়ে কঠিনতম সময় ছিল রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া। সড়কব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এখন অল্প সময়ে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে।
গত ১৫ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ২৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪ শ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জেলার সাত উপজেলায় ১ হাজার ৯৮৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী জেলায় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাহাড়ি-বাঙলি সর্বস্থরের মানুষ যেন উন্নয়নের সুবিধাভোগী হন সেভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত জানান, জেলার সাত উপজেলায় ১ হাজার ৯৮৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ কোটি টাকার ব্যয়ে সাঙ্গু নদীর উপর নির্মিত বেতছড়া ব্রিজ ও ১১ কোটি ব্যয়ে দৃষ্টি নন্দন বান্দরবান টানেল।