বর্ষবরণ উৎসব, নবান্ন উৎসব, পিঠা উৎসব, বৈশাখী উৎসব, ফাল্গুনী উৎসব, ঈদ উৎসবসহ জীবনে অনেক ধরনের উৎসবের নাম আমরা শুনেছি, পালনও করেছি। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন উন্মুক্ত কান্না উৎসবের কথা? এবার চট্টগ্রামে এমন ব্যতিক্রমী এক কান্না উৎসব পালন করা হয়েছে। যেখানে সবাই নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে শুধু কান্নাই করেছেন। সবার জন্য উন্মুক্ত এ উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা স্মরণ করেছেন নিজেদের পুরোনো দিনের কষ্টের কথা, বেদনাবিধুর দিনগুলোর কথা। হারানো সেসব দিনে ফিরে গিয়ে নোনাজল ছেড়েছেন আপন মনে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর সিআরবির শিরীষতলায় অনুষ্ঠিত এ কান্না উৎসবে ২৫ জন বিভিন্ন বয়সের তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছেন। তারা সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উৎসবটির বার্তা পেয়েছিলেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে স্নাতকোত্তর করা টুটুল চৌধুরী নামে এক যুবক এ উৎসবের আয়োজন করেছেন। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন আর্ট ওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এর মাসখানেক আগে তিনি গবাদিপশু, পোষা পাখি ও প্রাণীদের নিয়ে নগরীর সাগরিকায় একটি ব্যতিক্রমী মানববন্ধন আয়োজন করেছিলেন।
কান্না উৎসবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিআরবির শিরীষতলায় গোল হয়ে বসে আছেন ২৫ জন তরুণ-তরুণী। চারিদিকে মাস্ক, পেঁয়াজ, স্যালাইন ও হেডফোন দিয়ে সাজানো হয়েছে। আর মাঝখানে তারা সবাই কান্না করছেন। প্রত্যেকের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। কান্না উৎসবে অংশ নেওয়া কলেজপড়ুয়া চৈতী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অনুভূতিগুলো যদি প্রকাশ না করি, তাহলে ভেতরে এক ধরনের বিষণ্ণতা তৈরি হবে। একসময় এটি মানুষকে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। এ জন্য অনুভূতি প্রকাশ করা প্রয়োজন।’
আয়োজক টুটুল চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘কান্না করা অনেক ইমোশনের একটি, যা অনেকটা হাসির বিপরীত। কিছু মানুষ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কান্না করতে পারে না। কান্না ইমোশনটা লজ্জা, গোপনীয়তা, গ্লানিকর ও হীনম্মন্যময় আচরণে পরিণত করে, যা মূলত পুরুষশীলতা প্রাধান্য পায়। ফলে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা, ভায়োলেন্স, হ্যারেজমেন্ট স্ট্রেস, নেগলিজেন্স, অ্যাটাকিং মোড, আই এম দ্য বেস্ট আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা সবাই অবচেতন মনে দুঃখ ভারাক্রান্ত থাকি। কিন্তু সেটা আমরা চেপে রাখি। একসময় যা আমাদের বিকৃত মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অবসাদগ্রস্ততার দিকে নিয়ে যায়। তাই মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য অনুভূতি প্রকাশ করা দরকার। আর এ জন্য এই আয়োজন।’