বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নগরের ঈদগাহ এলাকায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের সরব উপস্থিতি। কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা আলাদাভাবে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বসেছে ভোটারদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য।
এ ছাড়াও কেন্দ্রের বাইরেও ব্যানার পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে চেষ্টা চালানো হয়েছে নানাভাবে।
এই কেন্দ্রে মোট ১২ হাজার ৬০৪ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৮৩১ জন ও নারী ভোটার আছেন ৭ হাজার ৭৭৩ জন। এই কেন্দ্রে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। আশা করছি, সারাদিন আমরা সুষ্ঠুভাবে নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ করতে পারবো।’
ভোটার মো. রিয়াদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যবস্থা বেশ ভাল। সবাই নিরাপদে ভোট দিতে পারছেন। আমাদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি।’
এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৬ লাখ ভোটার ২ হাজার ২২টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। চট্টগ্রামে দুইজন রিটানিং কর্মকর্তার অধীনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম, ১১টি আসনের রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
চট্টগ্রামে এবার ১৬ আসনে ভোটের মাঠে রয়েছেন ১২৫জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২২জন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্র মতে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মোট ভোটার ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৩ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২৮১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬১ জন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ২২টি। নির্বাচন কেন্দ্রে ভোটের বুথের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৪১টি। আর প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসারসহ চারজন সহকারী দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও বাকি দুইজন পোলিং অফিসার আছেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে স্টাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। এ ছাড়াও র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবির টহল টিম কাজ করছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্টু ভোটগ্রহণের জন্য আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভোটারদের নির্বাচনের কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং কোন ধরনের নাশকতা তৈরির সুযোগ নেই।’
চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারে দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘এক আসনে ছয়জন করে ১৬টি আসনে মোট ৯৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। আমরা আশা করছি, একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রসহ পুরো নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোয়াত, ডগ স্কোয়াড, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে স্ট্রাইকিং হিসেবে রাখা আছে। পাশাপাশি ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সে লক্ষে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য প্রয়োগ করেছি।’
তারেক মাহমুদ/সাদা/অমিয়/