চট্টগ্রামে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রার্থীর বিজয়ের পর প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পৃথকভাবে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাতজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (৩০) ও আলতাফ হোসেন (৩২) নামের তিন ব্যক্তি। অন্য আহতরা হলেন- সিরাজের ভাই মো. রহমান (১৭), রাকিব (১৮) সাব্বির (১৮) ও মিনজাহ (১০)।
রবিবার নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল থেকে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে ফটিকছড়িতে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ আসনের ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শেষে নৌকার জাল দেখিয়ে দিয়েছ কেন?- এমন প্রশ্ন করে স্থানীয় সংবাদকর্মী বেলাল উদ্দিনকে মারধর করেন। এতে মাথা ও কপাল ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। করিম, রাকিব, আনিসের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে জানান আহত বেলাল।
তিনি বলেন, ‘জাল ভোট পুলিশকে দেখিয়ে দিয়েছি। তাই আমার ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় আমার পাশে স্থানীয় কাউন্সিলর রাকিবুল আলম উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি আমাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি।’
এদিকে, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চৌমুহনি এলাকায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচএম আবু তৈয়বের কর্মী সিরাজুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। তারা সিরাজকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সিরাজের ভাই ছেলেসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন সিরাজ।
তিনি বলেন, ‘চৌমুহনী কেন্দ্রে নৌকার বিজয়ের পর তারা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে আমাদের হামলা চালায়। লম্বা কিরিচ দিয়ে আমাকে ও আমার ভাইদের এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার, শাহিদ, সাজ্জাদ, ইমনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। তারা ভোটের দিন বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। ভোটের পর ভোটকেন্দ্রের পাশে দোকানে পেয়ে আমাদের ওপর হামলা করে।’
ফটিকছড়িতে পৃথক হামলার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, উত্তর রাঙ্গামাটিয়া হামলার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি; কিন্তু অপর ঘটনায় এখনো অভিযোগ আসেনি।
চট্টগ্রাম নগরের চাঁন্দগাও মৌলভীপুকুর পাড়ে ওই আসনের জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালামের ভাইয়ের গাড়িতে হামলা হয়। এ ঘটনায় প্রার্থীর ভাই ছৈয়দ নুরুল ইসলাম আহত হন। এ ঘটনায় চাঁন্দগাও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
চাঁন্দগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর খবরের কাগজকে বলেন, ভোটের দিন ওই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল বিএনপি। তা আমরা প্রতিহত করি কিন্তু সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করার পর প্রার্থীর ভাইয়ের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে ধাওয়া দিয়েছে নৌকার সমর্করা। এ সময় ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেন আওয়ামী লীগের মোতাহেরুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। ফলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায় হুইপ সামশুল হককে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আবদুস সাত্তার/জোবাইদা/অমিয়/