ফেনীতে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তাদের অধিকাংশই শিশু। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা নিউমোনিয়ায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে স্বজনরা ভিড় করছেন হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
গত তিন দিনে জেলায় শুধু ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে সাড়ে ১ হাজার ১০০ শিশু রোগী। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সঠিকভাবে যত্ন নিলেই বাচ্চাদের এই ধরনের সমস্যা কমবে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ শিশুই ডায়রিয়া সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগী।’
সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু শহর থেকে নয়, রোগী আসছেন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও। বিপুলসংখ্যক রোগীর উপস্থিতিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের নার্স সুমাইয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার শিশু ওয়ার্ডে ২৬ বেডের বিপরীতে ৪৪ রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রোগী বেড়ে যাওয়ায় বেডে জায়গা না পেয়ে অনেকে মেঝেতে ও বারান্দায় চিকিৎসা দিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্স শ্যামলী রানী বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৭ বেডের বিপরীতে ৪৮ রোগী ভর্তি আছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। বিশেষ করে শিশুদের নিবিড় যত্নে দেখতে হয়। এরপরেও আমরা রোগীদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকা থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে এসেছেন শাহিন আলম। তিনি জানান, গত তিন দিন শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া সমস্যায় ভুগছে তার সন্তান। সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
শর্শদি থেকে আসা মিতালী বলেন, ‘মেয়ের বয়স দেড় মাস। দুই দিন হলো ঠাণ্ডা ও কাশির সমস্যায় ভুগছে। সন্তানের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’
ফাহমিদা জানান, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে তার দুই ছেলে। বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে এক বিছানায় চিকিৎসা নিচ্ছে তারা। শুধু ফাহমিদা নন, অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে তাদের শিশুসন্তান নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমরা রোগীর স্বজনদের পরামর্শ দিচ্ছি, শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হতে। বিশেষ করে গরম কাপড় পরানো, উষ্ণ গরম পানি পান করানো ও শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে বলছি।’
সিভিল সার্জন ডা. মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘শীতের কারণে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা জেনারেল হাসপাতাল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য। তাদের বিনা মূল্যে ওষুধ দিয়ে যাচ্ছি। তবে আতঙ্কের কারণ নেই।’ সঠিক সময়ে বাচ্চাদের যত্ন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আহ্বান জানান তিনি।