চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মায়ের ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ দিন হাজতে থাকা মোস্তাকিকের মা নাসরিন আক্তার আর বেঁচে নেই।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর ৫টায় নগরীর একটি ক্লিনিকে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
নাসরিনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধর্মপুরে। তার দুটি কিডনি বিকল ছিল। সপ্তাহে তিন দিন করে মাসে ১২ দিন ডায়ালাইসিস করতে হতো তাকে। ২০১৪ সালে তার স্বামী মারা যান। মাদ্রাসাপড়ুয়া ২২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ মুস্তাকিম ও প্রতিবন্ধী মেয়ে নিয়ে ছিল তার সংসার। ছেলের টিউশনির টাকাতেই চলতো নাসরিনের ডায়ালাইসিসের খরচ।
গত বছরের ১০ জানুয়ারি মায়ের ডায়ালাইসিস করাতে চমেক হাসপাতালের যান মোস্তাকিম। ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে চমেক হাসপাতালের সামনের সড়কে কিডনি রোগী ও স্বজনদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুস্তাকিমকে আটকে করে পুলিশ। পরে তাকে ও অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর স্বজনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর মোস্তাকিমের মা বলেছিলেন, আমার ছেলে অপরাধী হলে মেনে নিতাম। ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ছেলেকে কারাগারে যেতে হলো। ছেলের মুক্তি না হলে আমাকেও কারাগারে নিয়ে যান। ছেলে ছাড়া এই দুনিয়াতে আমার আর কেউ নেই। পরে ১৫ জানুয়ারি আদালত তার জামিন দেন।
সে সময় মোস্তাকিমের ওপর পুলিশি হেফাজতে অমানবিক নির্যতনের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও এসআই আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে। পরে ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মুস্তাকিম। মামলার পর নাজিম ও আজিজ তিন মাসের ছুটিতে চলে যান। পরে নাজিমকে পাঁচলাইশ থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সে সময় গ্রেপ্তারের ঘটনায় মুস্তাকিমকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়ান বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচএআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
মোস্তাকিমের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফটিকছড়ি উপজেলার আজাদী বাজার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’
মনির/পপি/অমিয়/