বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল চালু হওয়ার পর থেকেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টানেলের ফায়ারবাক্স, নিয়ন্ত্রণ হারানো মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আহত হয়েছেন নৌ-বাহিনীর সদস্যও। এবার দুর্ঘটনা এড়াতে টানেলের ভেতর স্পিড ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গভীর রাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাড়ির বেপরোয়া গতি, চালকের গাফিলতি ও চোখে ঘুম এবং অসচেতনতার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন নগরবিদ ও টানেল কর্তৃপক্ষ।
টানেলের সহকারী প্রকৌশলী (টোল ও ট্রাফিক) তানভীর রিফা খবরের কাগজকে বলেন, ‘টানেল চালুর পর থেকে চালকদের সচেতন করার জন্য নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তবুও চালকরা অনেক ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম মানছেন না। ওভারস্পিডে গাড়ি চালানো, চোখে ঘুম থাকা অথবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে টানেলের ভেতর বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব টানেলে দুর্ঘটনা এড়াতে স্পিড ক্যামেরা বসানোর চিন্তা-ভাবনা করছি। কয়টি ক্যামেরা বসানো হবে, শাস্তি বা জরিমানার পরিমাণ কেমন হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
পরিবহন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘টানেলে দুর্ঘটনা এড়াতে গেলে প্রথমত চালকদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। টানেলের ভেতর চাকা ফেটে গেলে ওসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে। কাজেই চালকদের গাড়ি বের করার আগে চাকার অবস্থা, প্রেশার, জ্বালানি, ব্রেক ইত্যাদি বিষয় দেখে নিতে হবে। আর চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি না চালানোর জন্য চালকদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি টানেল কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা যদি স্পিড ক্যামেরা বসায়, এটা ভালো উদ্যোগ হবে। সেক্ষেত্রে গাড়ি শনাক্ত ও দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে।’
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওমর ইমাম বলেন, ‘টানেলের ভেতর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। অধিকাংশ চালক সেটা উপেক্ষা করেন। চালকদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় কিংবা অন্য কোনো কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে তা রাখার জন্য টানেলের ভেতরেই আলাদা জায়গা রাখতে হবে। সে ব্যবস্থাটা রাখা হয়নি। এতে করে দুর্ঘটনার কারণে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হবে। বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের টোল ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘টানেলের ভেতর মোটরসাইকেল, সিএনজি চলাচলের অনুমতি নেই। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্বোধনের শুরু থেকে চালকদের সচেতন করা হয়েছে। নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তবুও দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা ঘটার ক্ষেত্রে কারও তো হাত নেই। তাই চালকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
তারেক মাহমুদ/ইসরাত চৈতি/অমিয়/