চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মজিবুর রহমান মিলন নামে এক জাহাজ ভাঙা শিল্প মালিককে যাবজ্জীবন সাজা ও ১০০ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের বিশেষ বিভাগীয় জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মিলন মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীপুরের মৃত মোহাম্মদ বজলুর রহমানের ছেলে। তবে তিনি বর্তমানে নগরীর হালিশহরের এল ব্লকের হালিশহর হাউজিং এস্টেট এলাকায় বসবাস করছেন। রায় ঘোষণার সময় আসাসি মজিবুর রহমান পলাতক ছিলেন।
দুদক আইন ২০০৪-এর সিডিউলভুক্ত অপরাধ দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪২০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ কতে হবে।
বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্বপাড় শাখায় মজিবুরের মালিকানাধীন মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ৩৬ কোটি টাকা এলটিআরসহ ৪৫ কোটি টাকা এলসি মঞ্জুর করা হয়। দ্বিতীয় দফায় এলটিআর ঋণ সীমা ৩৬ কোটি টাকা থেকে ৭১ কোটি ২০ লাখ টাকায় এবং এলসি ঋণ সীমা ৪৫ কোটি টাকা থেকে ৮৯ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়। যা পরে ৮৯ কোটি টাকার রিভলভিং ঋণপত্র লিমিটের আওতায় স্থানীয়ভাবে মালপত্র সংগ্রহের জন্য ৪০ কোটি টাকার স্থানীয় ঋণপত্র খোলার আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এই ঋণপত্র মঞ্জুরের পরিপেক্ষিতে আসামি মজিবুর রহমান কোরিয়া থেকে এমভি জাং হাং নামে ১২ হাজার ৪৪৩ টন একটি জাহাজ আমদানি করেন। যা ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্কায়ন শেষে খালাস পায়। আর জাহাজের দাম হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৮ ইউএস ডলার পরিশোধ করে যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৪ টাকা।
সে সময়ে আসামির প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ কোটি এফডিআর জমা ছিল। মুহিব স্টিলকে মোট ৮২ কোটি ৮৯ লাখ ঋণ দেওয়া হয়। যা ২০১৭ সালে মে পর্যন্ত সর্বমোট ৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এরপর থেকে আসামি টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ২৪ মে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমতিক্রমে চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। আদালত ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নেন। ২০২২ সালে ২৮ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আজ বিকেলে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
দুদক চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে উভয় সাজা একত্রে চলবে।’