চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে গরুর ফ্যাশন শো। জেলায় তৃতীয়বারের মতো শুরু হওয়া এই শো চলবে দুই দিনব্যাপী। এ বছরের শোতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। এতে প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে দেড় লাখ টাকার টিকিট। গরুর এই ফ্যাশন শো উপভোগ করেছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহরের আবাহনী মাঠে এই শোর উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. নজরুল ইসলাম, শো’র উদ্যোক্তা বোরহানুল আলম চৌধুরী ও বিভিন্ন ফার্মের কর্ণধাররা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবাহনীর বিশাল মাঠে চলছে ক্যাটেল এক্সপো-২০২৪। এক্সপোর সামনে গেট দিয়ে প্রবেশ সংরক্ষিত করা হয়েছে। বাইরে স্থাপন করা হয়েছে টিকিট কাউন্টার। দর্শকরা সেখান থেকে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করছেন। ভেতরে অর্ধশতাধিক ফার্মের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। মাঠের সামনে বড় আকারে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বেলুন উড়িয়ে শোর উদ্বোধনের পর সেখানে একে একে আনা হয় বিশালদেহী সব গরু। মঞ্চে গরু তোলার পর নানাভাবে অঙ্গভঙ্গি করানো হয়। মানুষরা সেগুলো দারুণভাবে উপভোগ করেন। কখনো কখনো গরুগুলো পুরো মাঠ কাঁপিয়ে তুলছে। আর দর্শকেরা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।

এ বিষয়ে শোর উদ্যোক্তা বোরহানুল আলম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটি সারা দেশের প্রথম ক্যাটেল এক্সপো। চট্টগ্রামের অনেক গরুপ্রেমী আছেন, এটি তাদেরও মিলনস্থল। অনেক খামারি আমাদের শোতে অংশ নিয়েছেন। হলেস্ট্রেইন, ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়ালসহ ভারতীয়, পাকিস্তানি, আমেরিকান অনেক দেশের নানা প্রজাতির গরু উঠেছে। দেড় লাখ থেকে ২৫-৩৫ লাখ টাকা দামের গরুও ওঠে। দেশে প্রথম আমরা গরুর ফ্যাশন শো আয়োজন করেছি। এটি মানুষকে যেমন আনন্দ দেবে, তেমনি ফার্ম মালিক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে। এই শোতে তরুণ উদ্যোক্তাদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে গরুকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা যায়। একই সঙ্গে আমরা ক্রেতাদেরও জানাচ্ছি কীভাবে আমাদের গরুগুলো বড় করছি। আমাদের মাংসের মান কতটা ভালো। দেশীয় এগ্রোকে আমরা প্রমোট করছি। সামনে আসছে কোরবানি। নতুন নতুন ফার্মগুলো পরিচিত হতে পারছে এটার মাধ্যমে। তা ছাড়া চট্টগ্রামের গরুর আলাদা একটি ঐতিহ্য আছে। সেটিও আমরা তুলে ধরছি।’
ফ্যাশন শো দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, ‘মানুষের ফ্যাশন শো’র কথা আমরা শুনছি এবং দেখেছিও। কিন্তু আমরা কখনো গরুর ফ্যাশন শো দেখিনি। ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দারুন উপভোগ করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার বলেন, ‘এটির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ডেইরি খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। তাদের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করা। একই সঙ্গে এখানে একটি যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। গত দুবারের চেয়ে এবারের আয়োজন আরও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। দিন দিন এই আয়োজন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমি আশা করি, এই এক্সপোর মাধ্যমে খামারিরা উৎসাহিত হবে। স্মার্ট লাইভ স্টক, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে এই এক্সপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’