ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সুসম্পর্ক স্থাপনে হজ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে বজ্রঝড়ের শঙ্কা বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সেমিফাইনাল, আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ফাইনাল, হবে কি পাগলাটে বিশ্বকাপ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩ ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক মিশ্র এআই ক্রলার ব্লক করবে ক্লাউডফ্লেয়ার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সব হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় ৬ নির্দেশনা An Honest Farmer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৭ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট সাতক্ষীরায় দাবি না মানলে ৬ জুলাই থেকে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি খাগড়াছড়িতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতা আটক আমেরিকা: ২৫০ বছরের স্বাধীনতার আলো, সংগ্রাম আর স্বপ্নের এক অনন্য ইতিহাস উত্তর ফটিকছড়িবাসীর ‘ন্যায্য স্থানে’ উপজেলা সদর চেয়ে আল্টিমেটাম সিলেট সীমান্তে ভারতীয় ৪ এয়ারগান জব্দ প্যারাগুয়ে ম্যাচে নেই ফরাসি তারকা চুয়ামেনি স্বৈরাচারী পথেই বর্তমান সরকার, বড় ধরনের পরিবর্তন আসন্ন: জিএম কাদের কৃষক কার্ডের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না : কৃষিমন্ত্রী ধামরাইয়ে বিদ্যুৎসংকটেও বাড়তি বিল! দিশেহারা গ্রাহক সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আখাউড়ার যুবক নিহত স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচে ইংল্যান্ড দলে ভায়াগ্রা ব্যবহারের অনুমতি চকবাজারে আশিক টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট কেপ ভার্দে ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তুলে মেসির দুষ্টুমি

‘আমার আইয়ুবরে তোমরা ফিরিয়ে এনে দাও’

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৪, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
‘আমার আইয়ুবরে তোমরা ফিরিয়ে এনে দাও’
ছবি: খবরের কাগজ

‘আমার আইয়ুবরে তোমরা ফিরিয়ে এনে দাও, আমি আমার ছেলেরে আমার বুকে ফিরে পেতে চাই। আমি টাকা-পয়সা কিছুই চাই না। তোমরা প্রধানমন্ত্রীরে কওগো আমার ছেলেরে আমার বুকে ফিরিয়ে এনে দিতে। আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে আমি টাকা, ঘর-বাড়ি জমিজমা সব বিক্রি করে দিব রে।’ 

এই আহাজারি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজে থাকা ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খানের মায়ের।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে বৃদ্ধা হোমায়রা বেগম এভাবে বিলাপ করতে থাকেন।

বাংলাদেশি ২৩ নাবিকের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খান। প্রায় এক মাস আগে তার বাবা আজহার মিয়া মারা যান। এখনো মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। এর মধ্যেই পরিবারের ছোট ছেলে জলদস্যুদের কবলে পড়ায় আইয়ুবের মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কিছুক্ষণ পরপরই ছেলের ছবি বুকে চেয়ে আর্তনাদ করেন।

আইয়ুব লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাখালিয়া এলাকার মৃত আজহার মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি রাখালিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এক বছর ইন্টার্নি করছেন।

তার মা হোময়রা জানান, সোমবার বিকেলে আইয়ুব তার সঙ্গে শেষবার কথা বলেছে। মঙ্গলবার তার অন্য ছেলেদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কেউ তাকে কিছু জানায়নি। গত রাতে তিনি নাতিনের কাছ থেকে শুনে মেঝো ছেলেকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চান। মেঝো ছেলে তাকে জানিয়েছে আইয়ুবের জন্য চিন্তা না করতে। 

ভারত মহাসাগরে আইয়ুবদের জাহাজ সোমালিয়ান জলদস্যুরা অস্ত্র ঠেকিয়ে কব্জা করেছে। এসব শোনার পর থেকেই কান্নাই তার সম্বল, সারা রাত তিনি ঘুমাতে পারেননি। আইয়ুবের কোনো খবরও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ছেলের কী অবস্থা। কোথায় আছে। কেমন আছে? এসব বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ‘আমি আমার বাবারে চাই। আমি আর কী চাইতাম। আমি দুদিন ধরে কোরআন শরিফ পড়ছি। আইয়ুবও পরশু কোরআন শরিফ পড়া শুরু করেছিল। আমার স্বামী মারা যাওয়ার ২০-২৫ দিন আগে সবশেষ আইয়ুব বাড়িতে এসেছিল। এক দিন থেকেই পরে চলে গেছে।’

আইয়ুবসহ ২৩ নাবিককে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। পরে তারা জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যায়।

মোহাম্মদ রফিকুল/ইসরাত চৈতি/অমিয়/

ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
নূরে আলম মনি। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে এবং বিধিবহির্ভূতভাবে এক রাজনৈতিক পদধারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলম মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৮ মে জারি করা ওই আদেশের পরদিন, ১৯ মে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নূরে আলম মনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে থাকা আইনিভাবে নিষিদ্ধ।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী অন্যত্র বদলি হওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জ্যেষ্ঠতার তালিকায় বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগ ওঠে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজের নন-ক্যাডার শিক্ষকদের ২৪ জনের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নূরে আলম মনির অবস্থান ছিল ১৩তম। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রথম পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় প্রকৃত জ্যেষ্ঠতার দ্বিতীয় স্থানে থাকা মাহমুদা সুলতানাকে চতুর্থ, তৃতীয় স্থানে থাকা মো. মোরাদুজ্জামানকে দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ স্থানে থাকা মিনাক্ষী প্রসাদ সাহাকে তৃতীয় দেখিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) আবেদন পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কলেজের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় সপ্তম অবস্থানে থাকা প্রভাষক শেখ মো. রহুল আমীন জীবন বলেন, ‘সব নিয়ম ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কীভাবে নূরে আলম মনি এই পদে এলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। এ-সংক্রান্ত কোনো অনাপত্তিপত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বঞ্চিত করে এই নিয়োগ দেওয়ায় কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে অথবা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরে আলম মনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনেই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, ‘নূরে আলম মনি আমাদের উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে আছেন। তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করার বিষয়টি আমি শুনেছি।’

অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠতার তালিকার অসঙ্গতি প্রসঙ্গে প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় তাড়াহুড়ো থাকায় তালিকায় কিছু ভুল হয়েছিল, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে।’

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. রুকন উদ্দিনের কাছেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপরের ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই।’ 

রিফাত/

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক
আটক জৌথান বম। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে জৌথান বম (৫২) নামে কেএনএফ এর এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে ৫৭ রাউন্ড কার্টুজ, একটি ওয়ার্লেস, ছুঁড়ি ও একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে থানচির দূর্গম শেরকর পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আটককৃত ব্যক্তি থানচি সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শেরকর পাড়ার গ্রামে লালপিয়ান বমের ছেলে।

জানা যায়, পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) এর সদস্যরা বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা থানচির দূর্গম বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল গত ২৮ জুন থেকে রুমা থানচির দূর্গম এলাকা গুলোতে সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে থানচির দূর্গম শেরকর পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় অস্ত্রসহ কেএনএফ এর এক সদস্য যোত্লাং বম নামে একজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার বলেন, থানচির দূর্গম এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএফ এর এক সদস্যকে সেনাবাহিনী আটকের পর পুলিশে কাছে হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রিজভী রাহাত/এসএন

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। 

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৪ এ সিআইসি কার্যালয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

এ সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়। প্রতিনিধি দল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এরপর প্রতিনিধি দল ডব্লিউএফপি পরিচালিত ই-ভাউচার আউটলেট পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল ভাউচারের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, উপকারভোগীদের পণ্য নির্বাচন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

পরবর্তীতে জাইকা সমর্থিত এনজিও ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর হোমস্টেড ভেজিটেবল গার্ডেনিং প্রকল্প পরিদর্শন করেন তারা।

এছাড়া সিএনআরএস পরিচালিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে রোহিঙ্গা নারীদের সেলাই, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে আইওএম পরিচালিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার এবং ইনফেকশাস ডিজিজ ট্রিটমেন্ট সেন্টার পরিদর্শন করেন।

এ সময় বহির্বিভাগ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, ল্যাবরেটরি, ওষুধ সরবরাহ, রেফারেল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন। প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রিদুয়ানুল সোহাগ/খাদিজা রুমি/ 

সাতক্ষীরায় দাবি না মানলে ৬ জুলাই থেকে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
সাতক্ষীরায় দাবি না মানলে ৬ জুলাই থেকে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

বেতন-ভাতা তিনগুণ বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ র‍্যালি করেছেন শাখা ডাকঘরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হলে আগামী ৬ জুলাই থেকে সারা দেশের প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি শাখা ডাকঘরে একযোগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি: নং বি-২০৩১), বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

শোভাষিনী শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এল্লারচর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. আক্তারুল ইসলাম, কাদাকাটি শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শিহাব উদ্দীন, তালা উপজেলার হরিহরনগর শাখার পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আজাদ, ভালুকা চাঁদপুর শাখার পোস্টমাস্টার বাবু অসিত কুমার মন্ডল, রসূলপুর শাখার পোস্টমাস্টার ফারহানা খান এবং জগন্নাথপুর শাখার পোস্টমাস্টার আজরাতু জান্নাতসহ অন্যান্যরা।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মাসিক বেতন ৪ হাজার ৪৬০ টাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ অবস্থায় তাদের জীবিকা নির্বাহে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কলম ধর্মঘট পালন করা হলেও তা থেকে কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে সারা দেশের প্রায় ২৩ হাজার ইডি কর্মচারী বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন-ভাতা ন্যূনতম তিনগুণ বৃদ্ধি এবং এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল কর্মচারীদের বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।

কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে দেশের ৮ হাজার ৫০০ শাখা ডাকঘরে একযোগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হবে, যা ডাকসেবায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাকির/রিফাত/

উত্তর ফটিকছড়িবাসীর ‘ন্যায্য স্থানে’ উপজেলা সদর চেয়ে আল্টিমেটাম

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
উত্তর ফটিকছড়িবাসীর ‘ন্যায্য স্থানে’ উপজেলা সদর চেয়ে আল্টিমেটাম
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে নতুন অনুমোদন পাওয়া উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তরের সদর ন্যায্য স্থানের পরিবর্তে দক্ষিণাংশেই স্থাপন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয়রা। এরমধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পেলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেন ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার ছিলেন। এ বাস্তবতায় বাগান বাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর- এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার, অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া এক লাখ ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রত্যাশা উপেক্ষা করা উচিত হবে না। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে আগে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড সাইল্ড হসপিটালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ প্রমুখ।

ইফতেখারুল/খাদিজা রুমি/