খাগড়াছড়িতে এক বছরে ৩ হাজার ৩৮০টি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস না থাকা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকা এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব মামলা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা এসব মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২০০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর এসব মামলা থেকে জরিমানা আদায় হয়েছে ৯০ লাখ টাকা।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৪৪০টি পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে মালিকরা সেসব পরিবহন রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ১৫০ জন এবং হেলমেট না থাকায় ৩০০ জন মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর বাকি আড়াই হাজার মামলা হয়েছে অবৈধ পার্কিং ও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারসহ সড়ক পরিবহন আইন না মানার অপরাধে।
খাগড়াছড়িতে সড়কে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ যত্রতত্র পার্কিং। পর্যটন নগরী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সারা বছর অসংখ্য পর্যটকবাহী বাস ও অন্য যানবাহন আসে এ জেলায়। এ ছাড়াও বনজ শিল্প উন্নয়নে বাঁশ ও কাঠ রপ্তানি হয় খাগড়াছড়ি থেকে। তবে এত সংখ্যক পরিবহনের বিপরীতে জেলার বর্তমান পৌর বাস টার্মিনালটি আয়তনে খুবই সংকীর্ণ। ফলে টার্মিনালে গাড়ির সংকুলান না হওয়ায় চালকরা সড়কে পরিবহন পার্কিং করতে বাধ্য হন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। প্রায়ই সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু আইন প্রয়োগ করে এই পার্কিং সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য টার্মিনাল বিকেন্দ্রীকরণ কিংবা সম্প্রসারণ করা জরুরি।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সুপ্রিয় দেব বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ সুপারের নির্দেশ ও পরামর্শক্রমে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ। ২০২৩ সালে পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক, পথচারী ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অন্তত ৫০টি সভা, সেমিনার ও কর্মশালা হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে সচেতনতামূলক লিফলেট ও ফেস্টুন।’
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘এ জেলায় বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকারত্ব ঘোচাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দিনে দিনে শহরে পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনসচেনতা বৃদ্ধি অধিক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন জানতে হবে এবং তা মানতে হবে।’