থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। ১৪ মার্চ গভীর রাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ৭ থানা ও ১২টি ওয়ার্ডের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন।
শনিবার (১৬ মার্চ) এসব কমিটি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রথম সহসভাপতির নেতৃত্বে কমিটির ১২ নেতা। ২০ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে রয়েছেন ৮ জন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অটোরিকশা চোর, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এমনকি স্বেচ্ছাসেবক দল করেন এমন লোকজন দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মো. আরমান হোসেন নবঘোষিত পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির সহসভাপতির পদ পেয়েছেন। আকবর শাহ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক ছিলেন যিনি, তিনি একসময় যুবদল করতেন।
৪০ নম্বর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন শাবু ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন সর্ববিদ্যা ১০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহসভাপতি সুজিত দাশ। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ, মনোয়ার জাহান মনি, মুহাম্মদ আজিজ মিসির, আব্দুর রশিদ লোকমান, মিনহাজুল আবেদীন সায়েশ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, সরফরাজ নেওয়াজ চৌধুরী রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ খান ও মো. সালাউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ অমান্য করে অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেছে। তাই তারা এসব কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করছেন।
অভিযোগ করা হয়, অস্বচ্ছ ও একতরফা এবং অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি করে পুরোনো ত্যাগীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড, মাদক কারবারি ও অসংখ্য মামলার আসামির নেতৃত্বে এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে ঘোষণা দিয়ে এসব অপরাধীকে কমিটিতে এনে ’৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাত্রির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, মহানগর সভাপতি ও সাধারণ মাইম্যান তৈরি করার জন্য লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা এবং একপেশে নানামুখী সিদ্ধান্ত সংগঠনকে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, সবাই একসঙ্গে বসে যেন যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের সেই নির্দেশনাও অমান্য করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫টি থানা ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০-এর মতো প্রার্থী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ফরম কিনে জমা দেন। সম্মেলন শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছিল কার্যকরী কমিটির সভা আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে এবং কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে প্রত্যেকটি কমিটিতে ত্যাগী, স্বচ্ছ ও পরিশ্রমীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো সভা আহ্বান করা হয়নি। কার্যকরী কমিটির কোনো সভা না ডেকেই তারা কমিটি গঠন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন গোপনীয়তার সঙ্গে।