টেকনাফের হোয়াইক্যং রৈক্ষ্যং পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে ১০ জন কৃষক অপহরণের ঘটনায় অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশে তৈরি ওয়ার শুটার গান (এলজি), তিনটি রামদা, পাঁচটি বড় দা উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন- হোয়াইক্যং রৈক্ষ্যং দক্ষিণ পাড়া এলাকার মো. নবী সুলতান (৩৫) ও বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার মো. সলিম (২৬)।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক মো. সলিম পুলিশকে বলেন, ‘ডাকাতি মামলায় কক্সবাজার কারাগারে ছিলাম, সেখান থেকে কিছুদিন আগে জামিনে এসেছি। কয়েকদিন ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিলাম। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকার মোর্শেদের নেতৃত্বে মোস্তফা, দেলোয়ার, বদরুজ, শফিক, রহিম, হেলাল, জসিমসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পাহাড়ে আস্তানা গড়ে তোলে। পুরো দলটি নিয়ন্ত্রণ করেন মোর্শেদ। তিনি পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয়রা কাজ করতে গেলে তাদের অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। আমাদের সঙ্গে কোনো রোহিঙ্গা জড়িত ছিল না। সবাই টেকনাফের বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লোকজন।’
উদ্ধার অপহৃতরা বলেন, ‘আমরা তিনজন পাহাড়ে পান বরজের কাজ করতে যাই। কাজ করার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা অপহরণ করে গহিন পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে ১০-১৫ জনের একদল ডাকাত আমাদের হাত, পা বেঁধে টাকার জন্য ব্যাপক মারধর করে। মারধর করে পরিবারের কাছে মুক্তপণ দাবি করে। পরবর্তী সময়ে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত এসেছি।’
তারা আরও বলেন, ‘পুলিশ যে দুইজনকে আটক করেছে তাদের মধ্যে মো. সলিম আমাদের চোখে কাপড় বেঁধে ব্যাপক মারধর করে এবং দুইজনকে ডাকাত দলের সঙ্গে পাহাড়ে দেখেছি।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, ‘গত দুইদিন আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং পাহাড়ে ১০ কৃষক কাজ করতে যান। কাজ করার সময় তাদের অপহরণ করে গহিন পাহাড়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডাকাত দলের সদস্যরা বুঝতে পেরে ১০ কৃষককে চাপের মুখে ছেড়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘পরে অপহরকারীদের আটকের জন্য পুলিশের দুটি টিম পাহাড়সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার ভুক্তভোগীদে দেওয়া তথ্য মতে, অপহরণের সঙ্গে জড়িত দুই অপহরণকারীকে আটক করা হয়। আটকরা অপহরণকারী দলের সদস্য বলে চিহ্নিত করেন ফেরত অপহৃতরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকার মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল পাহাড়ে ডাকাতের আস্তানা গড়ে তোলে। চিহ্নিত ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আটকের অভিযান চলমান রয়েছে।’
আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আগে ডাকাত ও অপহরণের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও নারী-শিশু অপহরণ মামলা করে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি ওসমান গনি।
এদিকে, বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং রৈক্ষ্যং বাদিবন্যা পাহাড় থেকে ১০ কৃষককে অপহরণ করে। ফেরত অপহৃতরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের করাচিপাড়া এলাকার মো. বেলালের দুই ছেলে মো. জুনায়েদ (১০) ও মোহাম্মদ নুর (১৩), একই এলাকার লেদু মিয়া ছেলে মো. শাকিল আহমেদ (১৫), শহর আলীর ছেলে ফরিদ হোসেন (৩০), নুরুল আমিন ছেলে আকতার হোসেন (২২), নাজির হোসেনেন ছেলে মো. ইসমাইল (২৭), নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. কামাল হোসেন (১২), মো. আমির হোসেন (১৫), ও হোয়াইক্যং রৈক্ষ্যং এলাকার আলী আকবরের ছেলে ছৈয়দ হোসন (২৬), মৃত কালা মিয়া ছেলে মো. ফজল কাদের (৪০)।
গত ৯ মার্চ টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব পানখালী এলাকা থেকে মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্র ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহ (৬)কে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ভোরে টেকনাফের হ্নীলার পানখালী এলাকায় পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায় অপরহরণকারীরা। অপহৃতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকার ফকির মোহাম্মদের ছেলে মো. রফিক (২২) শাহাজানের ছেলে জিহান (১৩), ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে শাওন (১৫), আব্দু রহিমের ছেলে মো. নুর (১৮) ও নুরুল আমিনের ছেলে আব্দু রহমান (১৫)।
মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) বিকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ৯নং ওয়ার্ড কম্বনিয়াপাড়া এলাকায় পাহাড় থেকে দুইজন ব্যক্তি অপহরণের শিকার হন। তারা হলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রোজার ঘোনা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে অলি আহমদ (৩২) ও কম্বনিয়াপাড়া এলাকার ফিরুজের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৭)।
শাহীন/জোবাইদা/