ময়মনসিংহের ত্রিশালে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া নারী ও শিশুদের লাশের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- আমেনা বেগম (২৫) এবং তার দুই ছেলে আবু বক্কর (৪) ও আনাস (২)।
আমেনা খাতুন উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে।
আমেনা বেগমের স্বামীর নাম আলী হোসেন। তিনি উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে।
বুধবার (২২ মে) সকালে বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
ওসি বলেন, আলী হোসেন কোনো কাজ না করে বেকার থাকতেন। তার স্ত্রী আমেনা মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাতেন। সম্প্রতি এনজিও থেকে টাকা তোলেন আমেনা। এনজিওর কিস্তি দেওয়া নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। গত ১৬ মে এনজিওর কিস্তি নিয়ে তাদের আবারও ঝগড়া হয়। পরে ওই দিনই স্ত্রী আমেনাকে ঢাকায় কাজে নেওয়ার কথা বলে দুই ছেলেসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান আলী হোসেন। এরপর থেকে আলী হোসেন ও আমেনার ফোন বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকায় নেওয়ার কথা বলে আলী হোসেন তার স্ত্রী-সন্তানদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করে বাড়ির পাশে নির্জনস্থানে মাটির গর্তে পুঁতে রাখেন। এ ঘটনায় রাতেই আমেনা খাতুনের মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে পলাতক আছেন আলী হোসেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কাকচর এলাকায় শিয়াল একটি শিশুর মরদেহ গর্ত থেকে টেনে বের করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে গর্ত খুঁড়ে মাসহ ও আরও এক শিশুর গলিত লাশ উদ্ধার করে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/জোবাইদা/অমিয়/