ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া

নওগাঁয় পুকুরে ডুবে যমজ ভাইয়ের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম
নওগাঁয় পুকুরে ডুবে যমজ ভাইয়ের মৃত্যু
ছবি : খবরের কাগজ

নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের পশ্চিম চকভবানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর নাম লক্ষণ ও রাম। তাদের বয়স তিন বছর। তারা চকভবানী গ্রামের সুজিত ওরাও এর ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সালাম বলেন, সকালের খেয়ে দুই ভাই বাড়ির পাশে খেলতে থাকে। খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির সামনে পুকুরে ডুবে যায়। পরে তাদের খোঁজাখুঁজির করে পুকুরে লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে গিয়েই শিশুরা পানিতে ডুবে মারা গেছে।

শফিক ছোটন/জোবাইদা/অমিয়/

লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ঘটছে ব্যাঘাত।

স্থানীয়রা জানান, চার দিন আগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বকুল/তামান্না রুপা

বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।

মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে এলাকাসীর মানববন্ধন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখল, হামলা, মামলাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে  বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলবাজি, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

এসব কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সৌদি আরব প্রবাসী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমি প্রবাসে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ করেছি। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে আমার ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখা হয়। এতে আমি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ দিকে এলাকাবাসীর মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজ বলেন, 'এসব অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত নই, কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় বুধবার ব্লক পিচিং ধসে যায়। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারও ধস দেখা গেছে। গত বুধবার সন্ধ‌্যার পর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ব্লক পিচিং অংশ ধসে গেছে। একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক পিচিং ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন এবং বালুভর্তি ড্যাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে ধস দেখা দিয়েছে।

জানা গে‌ছে, চিলমারী উপ‌জেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে বাঁধ কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ৭টি স্থানে বাঁধ কেটে রাস্তা করা হয়েছে। এসব সড়ক নির্মাণে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্লক পিচিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদী ভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধে ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষার জন্য ৪ কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা দেয়। গত বুধবার এই বাঁধের প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল আগের মাসের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তারা অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিটার পরিদর্শকরা গ্রাহকদের রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছেন। তারা এমন বিড়ম্বনার প্রতিকার চেয়েছেন। 

গ্রাহকদের দাবি, জুন মাসে তাদের লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হয়েছে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মাসের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু বিল এসেছে তুলনামূলক বেশি। কাউকে দ্বিগুণ, কাউকে তিন গুণ বিল গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব ও কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানান, তার দুটি মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। একটি মিটারে জুন মাসে বিল এসেছে ৬৫০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৮০৫৫ টাকা। অথচ একই মিটারে মে মাসে ৪২৫ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়। এ ছাড়া তার আরেকটি মিটারে মে মাসে ৩১০ ইউনিট ব্যবহারের বিল এসেছিল। জুন মাসে একই মিটারে ৪৫০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল এসেছে ৪৬০৩ টাকা। তিনি দাবি করেন, তার মিটারগুলো না দেখেই অনুমাননির্ভর রিডিং বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনির বাসিন্দা ফোরকান হাওলাদার জানান, তাকে প্রতি মাসে গড়ে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেওয়া হতো। কিন্তু কলোনির শতাধিক পরিবারকে এবার দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জহির হোসেন জানান, তার প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার বিল আসত। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বিল এসেছে। তিনিও দাবি করেন, মিটার পরিদর্শক অনুমাননির্ভর রিডিং জমা দেওয়ায় তাকে বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে। 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীনে ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ, তাদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেওয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। লোডশেডিংও ছিল। অথচ বিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউনিট দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।