কক্সবাজারের টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে স্বর্ণের কানের দুলের জন্য তাহমিনা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর তাকে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল রবিবার শাহ পরীর দ্বীপের ডাঙ্গুরপাড়া এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন নুর হাফেজ ও আল কামাল।
তাহমিনা আক্তার (৭) সাবরাং ইউনিয়নের ডাঙ্গুরপাড়ার আবদুল জলিলের মেয়ে। সে স্থানীয় এরশাদুল কোরআন ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত শনিবার রাত ৯টায় রাস্তার পাশে স্থানীয়রা সন্দেহজনক একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। বস্তার মধ্যে তাহমিনার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তাহমিনা আক্তারের বাবা জলিল বলেন, ‘তাহমিনা গতকাল (শনিবার) সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। ছুটির পর বাড়িতে ফিরে না আসায় আমরা তাকে খোঁজাখুঁজি করি। পরে রাত ৮টার দিকে রাস্তার ওপরে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। তারপরও কারা, কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার ধারণা কানে থাকা স্বর্ণের দুলের জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’
তাহমিনার প্রতিবেশী নুর ফাতেমা বলেন, ‘শনিবার সকালে নুর হাফেজ আমার কাছে তাহমিনাকে নিয়ে আসেন। আমাকে শিশুটির কানের দুলগুলো রেখে দিতে বলেন। আমি বলছি, সে তো আমার কেউ না, আমি কেন রাখব? এরপর নুর বলেন, তাহমিনাকে মেরে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেব। কানের দুলগুলো বিক্রি করে তোমাকেও টাকা দেব। এ কথা বলে চলে যায় আর ফিরে আসেনি।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার রাতে শাহ পরীর দ্বীপের ডাঙ্গুরপাড়া এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তাহমিনা আক্তার নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধারণা করছি শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।’