কুমিল্লার লালমাইয়ে এবার কুকুর দিয়ে কামড়ানোর ভয় দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ভুশ্চি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৮ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত একই গ্রামের আবাদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে আবাদ উল্যাহর বিরুদ্ধে লালমাই থানায় মামলা করেন।
এদিন দুপুরেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের এই অভিযোগ নিয়ে মীমাংসা করতে শনিবার রাত ১০টার দিকে শিশুটির বাড়িতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর। বৈঠকে উভয়পক্ষের সদস্যদের দ্বারা গঠিত জুরিবোর্ডের মাধ্যমে বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃদ্ধের পক্ষে ২ হাজার টাকা সালিশের সভাপতির কাছে জমা দিয়ে রায় কার্যকরও করা হয়েছিল। কিন্তু রাত ২টায় স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের একটি টিম ও পুলিশের একটি টিম সালিশ বৈঠকস্থলে পৌঁছালে সালিশদাররা পালিয়ে যান। তখন সেনা ও পুলিশ সদস্যরা শিশুটির মুখে ধর্ষণের বর্ণনা শুনে বৃদ্ধকে আটক করে।
ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলার বিবরণে জানা যায়, নির্যাতিত শিশুটি স্থানীয় একটি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভুশ্চি গ্রামের হিরন মিয়ার পরিত্যক্ত রান্নাঘরে শিশুটিকে কুকুর দিয়ে কামড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে বৃদ্ধ আবাদ উল্যাহ। ১০ দিনের ব্যবধানে একইভাবে শিশুটিকে তিনবার ধর্ষণ করে। গত ৭ মার্চ দুপুরে বাড়ির অন্য শিশুদের মাধ্যমে জানতে পেরে তার মা জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি ধর্ষণের বর্ণনা দেয়।
শিশুটির চাচা আবদুল হালিমকে বলেন, 'নির্যাতিত শিশুটির ধর্ষণের অভিযোগের বর্ণনা শুনে গ্রামের মাতব্বররা বৃদ্ধ আবাদ উল্যাহকে সালিশ বৈঠকে নিয়ে আসতে বললে শনিবার রাত ১০টায় গ্রামের কয়েকজন ছেলে তাকে একটি চা দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আসে। বৈঠকে দুই পক্ষের জুড়িদাররা একমত হয়ে বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তার পক্ষে ২ হাজার টাকা জমা করে রায় কার্যকরও করা হয়েছিল। খবর পেয়ে রাত ২টায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা আসলে সালিশ বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে পুলিশও আসে। অভিযোগের বর্ণনা শুনে তারা বৃদ্ধকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সালিশ বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ভুশ্চি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান মিন্টু বলেন, 'গ্রামের গণ্যমান্যদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে শনিবার রাতে সালিশ বৈঠক হয়েছে। শিশুটির ওষুধ খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা রায় করেছিল সালিশের বিচারকরা। বৃদ্ধের পক্ষে সর্দারের কাছে ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে রায়ও কার্যকর করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাত ২টায় সেনাবাহিনীর টিম গিয়ে বৃদ্ধকে আটক করে নিয়ে গেলে সালিশ বৈঠক সমাপ্ত হয়ে যায়।'
ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেদোয়ান হোসেন বলেন, 'লালমাই আর্মি ক্যাম্পের একটি টিম যাওয়ার পর খবর পেয়ে আমরা শিশুটির বাড়িতে যাই। ভিকটিম ও তার পরিবারের কথা শুনে আমরা বৃদ্ধকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। আমরা যাওয়ার আগে বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক চলছিল বলে শুনেছি।'
ওসি শাহ আলম বলেন, 'ভিকটিমকে মেডিকেল চেকআপের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'
জহির শান্ত/জোবাইদা/