টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ
দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।
মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।