সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এক জালে বিপুল পরিমাণ নাগু মাছ ধরা পড়েছে। সাহে আহম্মদের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে প্রায় ৪ হাজার ৪৮০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১১২ মণ ওজনের নাগু মাছ ধরা পড়ে। এসব মাছ বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায়।
ট্রলারটি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট সংলগ্ন ফিসারিতে এসে পৌঁছায়। পরে ট্রলার থেকে মাছ গুলো নামিয়ে ফিশারিতে তোলা হয়।
ট্রলারের মালিক সাহে আহম্মদ জানান, গত ২৭ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে ট্রলারটি সাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলে ট্রলারটি নোঙর করা হয়। শনিবার সকালে হঠাৎ করে একটি বড় নাগু মাছের ঝাঁক জালে আটকে পড়ে। মাছের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরে আরেকটি ট্রলারের সহায়তায় সেগুলো ঘাটে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, ফিসারিতে তোলার পর মাছ গুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৮০ কেজি। পরে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে এসব নাগু মাছ ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির পর মাছ গুলো বরফ দিয়ে ফিশারিতে সংরক্ষণ করা হয়।
ট্রলারটির মাঝির দায়িত্বে ছিলেন রহিম উল্লাহ। অভিযানে ট্রলারটিতে মোট ২২ জন মাঝি ও মাল্লা অংশ নেন। বড় অঙ্কের মাছ ধরা পড়ায় ট্রলারের শ্রমিকদের মধ্যেও ছিল আনন্দ ও উৎসাহ।
এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়লে টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী ফিশারিতে মাছ ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় জমে। অনেকেই এত বড় পরিমাণ নাগু মাছ একসঙ্গে দেখতে ফিশারিতে আসেন। অনেকে কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা করে পিস হিসাবে বিক্রি করছে মাছ ব্যবসায়ীরা।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, সালেহ আহম্মদের মালিকাধীন ট্রলারে বিপুল পরিমাণ নাগু মাছ ধরা পড়েছে। ফিশারিতে আনা হলে তার কাছ থেকে মাছ গুলো ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে পিস হিসাবে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, চলতি মৌসুমে এমন বড় আকারের নাগু মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে যেমন জেলেদের লাভ হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় মাছ বাজারেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
শাহীন/মাহফুজ