দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর গত বছরের (৮ ডিসেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পিপলস হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মনেয়াবাদ গ্রামের হালিমা বাপের বাড়ির এনি আক্তার। পর্যায়ক্রমে তাদের নাম রাখা হয়েছে আরিশফা ওয়াহিদ, শরীফ ওসমান হাদি, জান্নাত ওয়াহিদ, ফরিদা ইয়াসমিন সুমি ও আবরার ফাহাদ।
বর্তমানে ওই পাঁচ সন্তান মা-বাবার পাশাপাশি দাদা লিয়াকত আলী ও দাদি নূরনাহার বেগমের পরম যত্নে বেড়ে উঠছে। তবে মায়ের বুকের দুধে পাঁচ সন্তানের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তাই প্যাকেটজাত দুধ ক্রয়, চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য খরচ যোগ করতে পরিবারটি এক প্রকার হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়াও জন্মের পরে পাঁচ সন্তানকে চট্টগ্রাম নগরীর পার্ক ভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা এবং অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে পরিবারটি।
এর প্রেক্ষিতে (১৪ মার্চ) খবরের কাগজের অনলাইন ও ছাপা সংস্করণে ‘ সাতকানিয়ায় ৫ শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই সংবাদটি সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে তিনি ওই পাঁচ শিশুর জন্য ঈদ উপহার নিয়ে তাদের দেখতে যান। একই সময় শিশুদের মা এনি আক্তারের জন্য পুষ্টি জাতীয় খাবার ক্রয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জসি বলেন, ‘খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানবিক কার্যক্রম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পাঁচ শিশুকে ঈদ উপহার এবং তাদের মায়ের জন্য পুষ্টি জাতীয় খাবার ক্রয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি। এছাড়াও ওই শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছি। পাশাপাশি এমন মানবিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য খবরের কাগজ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
ওই শিশুদের দাদা লিয়াকত আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম সাহেব ঈদ উপহার নিয়ে আমার নাতি-নাতনিদের দেখতে আসায় আমাদের পুরো পরিবার আনন্দিত। এছাড়াও সব বিপদ-আপদে তিনি আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
আরিফুল/রিফাত/