গরমে অনেকেই ঠাণ্ডা খাবার পছন্দ করো। পছন্দ করাটাই স্বাভাবিক। গরমে ঠাণ্ডা খেলে মনে হয় গরম বুঝি কম লাগবে। আর সে কারণে আইসক্রিম, কোমল পানীয়, ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি, বরফ দেওয়া জুস-খুব খাচ্ছো। যদিও চিকিৎসকরা বলেন, গরমে এতটা ঠাণ্ডা খাবার শরীরের জন্য ভালো নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। আমাদের সবার শরীর গরম থেকে হঠাৎ ঠাণ্ডা মানিয়ে নিতে পারে না। আর মানিয়ে নিতে পারে না বলেই নানান রকম সমস্যা তৈরি করে। সে কারণে অতিরিক্ত গরমে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা খাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে গরমে তো ঠাণ্ডা চাই।
চরম গরমে তাহলে এবার চরম ঠাণ্ডা একটা গ্রামের গল্প শোনাই। সে গ্রামের নাম ওইমিয়াকন। পৃথিবীর সবচেয়ে ঠাণ্ডা গ্রাম বলা হয় একে। যদিও অনেকেই ইয়াকুতস্ককে সবচেয়ে ঠাণ্ডা স্থান হিসেবে মনে করেন। তবে ওইমিয়াকনই হচ্ছে সবচেয়ে ঠাণ্ডা। ওই দুটো জায়গাই রাশিয়ায়। ওইমিয়াকন থেকে দুদিনের পথ ইয়াকুতস্ক।
এই যে এখন বাংলাদেশের তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে, দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের উপর দিয়ে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসও পেরিয়েছে কয়েক জায়গায়, এসময় ওইমিয়াকনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতকালে ওইমিয়াকনের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল গ্রাম হিসিবে চিহ্নিত ওইমিয়াকনের জনসংখ্যা ৫০০-এর আশপাশেই থাকে। কিন্তু কেন এত ঠাণ্ডা?
এত ঠাণ্ডার কারণ দুটো উপত্যকা। ওইমিয়াকনের পাশেই রয়েছে দুটো উপত্যকা। এই উপত্যকায় ওইমিয়াকন নদী থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আটকে থাকে আর ওইমিয়াকন গ্রামকে শীতল করে রাখে। এতটাই শীতল যে, বসন্ত আর শরতে তো পড়েই, গ্রীষ্মকালেও সেখানে বরফ পড়ে। কেবল গ্রীষ্মকালে সেখানকার তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর ওঠে। তাপমাত্রা মাইনাস ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেই সেখানকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯২৪ সালে এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মাইনাস ৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বছরে সবচেয়ে বড় দিনটার দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টার কাছাকাছি। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক একদমই নেই। প্রচণ্ড শীতের কারণে কোনো শস্য হয় না। গোটা গ্রামে রয়েছে একটি মাত্র দোকান যা সবার দরকার মেটায়। এখনো প্রচুর বাড়ি রয়েছে যাদের টয়লেট ঘরের বাইরে। নিজেদের গরম রাখার জন্য কয়লা আর কাঠ পুড়িয়ে আগুন জ্বালায় লোকজন। অনেক সময় কলমের কালিও জমাট বেঁধে যায়।
এই প্রচণ্ড গরমে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এই গ্রাম থেকে ঘুরে আসতে পারো। মনে হয় তাতে গরম কিছুটা হলেও কমবে। তবে ভুলেও গরমে ঠাণ্ডা খাবার খেও না যেন!
জাহ্নবী