শহরের নাম মাধবপুর। সেখানে ছিল এক ছোট্ট মেয়ে। ওর নাম খুকুমণি। সে ছিল খুব হাসিখুশি এবং চঞ্চল। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যেত, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত এবং সবসময় আনন্দে থাকত। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে এক দিন ঘটে গেল দুর্ঘটনা।
এক দিন খুকুমণি স্কুল থেকে বাড়ি আসার পর অসুস্থ অনুভব করতে লাগল। তার শরীরের তাপ বাড়তে লাগল। ঘুরতে লাগল মাথা। খুকুমণির মা দ্রুত তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেন। চিকিৎসক পরীক্ষা করার পর বললেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।’
খুকুমণি হতাশ হয়ে পড়ল। ‘ডেঙ্গু জ্বর! কিন্তু আমি তো সবসময় সতর্ক থাকি!’ সে বলল।
ডাক্তার হাসলেন এবং বললেন, ‘ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। এটি তখনই হয় যখন এডিস মশা কামড়ায়। তাই, সতর্ক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ডাক্তার খুকুমণির মাকে বললেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। ডেঙ্গু এমনিতেই সেরে যাবে। তবে পরবর্তী সময়ে যেন আর কারও ডেঙ্গু না হয় সেজন্য আপনাকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। মশা ধ্বংস করতে হবে এবং খুকুমণির সঠিক যত্ন নিতে হবে।’
মা বললেন, ‘ঠিক আছে, ডাক্তার বাবু। আমরা তা করব।’
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, মা প্রথমে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করলেন। মাটির টবে বা কোথাও পানি জমতে দেওয়া হলো না। খুকুমণির খেলার জায়গা পরিষ্কার করা হলো। মশারির ব্যবহারও শুরু হলো যাতে খুকুমণি রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারে।
কিন্তু খুকুমণির জ্বর খুব একটা কমছিল না। এর মধ্যে সে এক দিন বলল, ‘মা, আমি খেলতে যেতে চাই!’
মা বললেন, ‘তুমি এখন বিশ্রাম নাও, খুকুমণি। সুস্থ হওয়ার পর আবার খেলার কথা ভাবা যাবে।’
খুকুমণি কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভাবল, ‘আমি যদি সুস্থ না হই, তাহলে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে পারব না!’
দুপুরে, খুকুমণি ঘুমাতে গেল। স্বপ্নে দেখল, বন্ধুদের সবাই খেলছে, আর সে একপাশে বসে আছে। হঠাৎ সে একটি সুন্দর প্রজাপতি দেখল। প্রজাপতি তার কাছে এসে বলল, ‘খুকুমণি, তোমার সঠিক যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত পানি পান করতে হবে, ফলমূল খেতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। তাহলে তুমি দ্রুত সেরে উঠবে এবং খেলতে পারবে।’
ঘুম ভাঙতেই দেখল মা পাশে বসে আছে। খুকুমণি বলল, ‘মা, আমি স্বপ্নে প্রজাপতি দেখেছি। সে বলেছে নিজের যত্ন নিতে!’ মা হাসলেন। ‘দেখ, আমাদের শরীরের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। আমরা যদি সঠিকভাবে যত্ন নিই, তাহলে রোগ আমাদের থেকে দূরে থাকবে।’
এভাবে দিন কেটে গেল। খুকুমণি একটু একটু করে সুস্থ হতে লাগল। সে ফলমূল খেতে শুরু করল। প্রচুর পানি পান করতে লাগল। বিশ্রামও নিতে লাগল।
মা তাকে নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে নিতেন। এক দিন ডাক্তার বললেন, ‘খুকুমণি, তুমি এখন আগের চেয়ে ভালো আছ। একটু বিশ্রাম নাও, খুব শিগগিরই তুমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে।’
এক দিন সকালে, খুকুমণির জ্বর চলে গেল। সে আনন্দে উল্লাস করতে লাগল। ‘আমি সুস্থ! আমি সুস্থ!’ বলে সে তার মা-বাবাকে ডাকতে লাগল।
খুকুমণি যখন সুস্থ হলো, তখন সে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য বের হলো। বন্ধুদের দেখেই সে আনন্দিত। কিন্তু সে তাদের বলল, ‘শোনো, আমরা এখন থেকে সবসময় সতর্ক থাকব। এডিস মশা থেকে আমাদের নিরাপদে থাকতে হবে।’
বন্ধুরা খুকুমণিকে কথা দিল, সবাই মিলে যার যার ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখবে। তারা শিখল, সতর্ক থাকা আমাদের সবার দায়িত্ব।
মেহেদী আল মাহমুদ