নদীর পাশে পাখিপুর নামে একটি গ্রাম ছিল। খুবই শান্ত। সে গ্রামে একটি ছোট্ট স্কুল ছিল। সকাল হলেই স্কুলে যাওয়ার শব্দে গ্রামের পাখিরাও যেন গান গাইত। সেই স্কুলেই পড়ত রিমি আর রুমি।
রিমি একটু শান্ত স্বভাবের। খাতা-কলমে সুন্দর করে লেখে, আর প্রতিদিন দুই বেণি করে স্কুলে আসে।
আর রুমি একটু দুষ্টু ও চঞ্চল প্রকৃতির। সে সবার সঙ্গে মিশতে, খেলা করতে ভালোবাসে। তার চোখে যেন দুষ্টু হাসি সব সময় লুকিয়ে থাকে।
ওরা দুজনেই থাকে পাশের বাড়িতে এবং দুজনেই প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, পাশাপাশি বসে, একসঙ্গে খেলাধুলা করে, এমনকি একই রকম জামা পরতেও ভালোবাসে। রিমির মা বলেন, ‘রুমি না থাকলে রিমির মুখে হাসিই যেন ফুটে না।’
একদিন স্কুলে নতুন একটা খেলার সামগ্রী আনা হলো—একটা রঙিন দোলনা। সবাই লাফিয়ে উঠে দোল খেতে লাগল। কিন্তু দোলনায় একসঙ্গে একজনই উঠতে পারে।
রিমি আগে উঠতে চাইল। রুমিও বলল, ‘আমি আগে উঠব!’
কে আগে দোলনায় উঠবে তার জন্য দুজনেই একসঙ্গে দৌড়ে গেল দোলনার দিকে। ধাক্কাধাক্কি করতে করতে রিমি পড়ে গেল মাটিতে। ওর হাঁটুতে কেটে গেল, রক্ত ঝরতে লাগল।
রুমি ভয় পেয়ে গেল। দৌড়ে গিয়ে রিমিকে ধরল, ‘রিমি! রিমি! তুমি ঠিক আছো?’
রিমির চোখে পানি, কিন্তু সে বলল, ‘আমি ঠিক আছি।’
রুমি চিৎকার চেঁচামেচি করে বন্ধুদের ডাকতে লাগল। এরপর তাদের ডাকাডাকি আর চিৎকার শুনে টিচার এসে রিমিকে হেলথরুমে নিয়ে হাঁটুতে ব্যান্ডেজ করে দিলেন। রুমি সারা দিন মন খারাপ করে বসে থাকল।
পরদিন, রিমি হাসিমুখে স্কুলে এল। হাঁটুতে ব্যান্ডেজ।
রুমি দৌড়ে গিয়ে বলল, ‘রিমি, আমি খুব দুঃখিত। আমি দোলনায় আগে উঠতে গিয়ে তোমাকে ধাক্কা দিয়েছিলাম। তুমি রাগ করেছ?’
রিমি হেসে বলল, ‘রাগ করলে কি তুমি আমার বন্ধু থাকতে পারবে?’
রুমি মাথা নিচু করে বলল, ‘না।’
রিমি তার হাত ধরল, ‘তাহলে বন্ধুত্ব থাকুক, খেলা থাকুক, ভালোবাসাও থাকুক!’
দুজন আবার হাত ধরে হেঁটে গেল খেলার মাঠে—এইবার আর ধাক্কা নয়, তারা মিলেমিশে একসঙ্গে পালা করে খেলল এবং তারা বুঝতে পারল বন্ধু মানে কেবল খেলা নয়—বন্ধু মানে যত্ন, ক্ষমা আর ভালোবাসা।