বরিশালে মোটরসাইকেলচালক ফয়সাল আহমেদ প্রিন্স হত্যার অভিযোগে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা এ রায় দেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রাসেল হাওলাদার (৩০)। যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন- একই গ্রামের বেল্লাল হোসেন (৩৩), শাহিন মিয়া (৩২) ও ইদ্রিস হাওলাদার (৩০)।
ওই মামলার অপর আসামি সৈয়দ মৃধা খলিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত ফয়সাল আহমেদ প্রিন্স বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার খয়রাবাদ গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু জানান, ২০১৯ সালের ৪ মার্চ উপজেলার বালিগ্রামে মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে আসে আসামিরা। পরদিন ৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে বালিগ্রামের সড়কে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক ফয়সালকে একা পেয়ে পথরোধ করে। পরে লোহার হ্যান্ডেল ও রড দিয়ে মাথায়-মুখে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে ফয়সালে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ইউসুফ হাওলাদারের দোকানের পেছনে লুকিয়ে রাখে।
ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে লুট করা মোবাইল ফোন, টাকা ও মোটরসাইকেলের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়। শহিদুল নামে স্থানীয় একজন এসে মারামারি থামানোর সময় মোবাইল ফোনে ফয়সালের ছবি দেখতে পান। পরে শহিদুলের ঘরের পেছনে মোটরসাইকেল দেখতে পেয়ে নিহতের বাবা নুরুল ইসলামকে খবর দেন। তিনি এসে মোটরসাইকেল শনাক্ত করেন। পরে স্থানীয়রা ওই চারজনকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ফয়সালকে হত্যা করে মরদেহ লুকানোর কথা স্বীকার করে।
পরে পুলিশকে খবর দিলে ৬ মার্চ সকালে আসামিদের দেখানো স্থান থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ফয়সালের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক নকীব আকরাম হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে বিচারক ২৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার (৯ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী ও নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হলে আমার ছেলের আত্মার শান্তি পাবে।’