রাষ্ট্র নারীকে নাগরিক হিসেবে গণ্য না করে কেবল শরীর বা শ্রমের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন নারী অধিকার কর্মীরা।
তারা বলছেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থাই ধর্ষক তৈরি করছে এবং তাদের আশকারা দিচ্ছে, যার ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নারী সংহতি’র ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘রূপান্তরের প্রত্যাশা : নারীর নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারীর অবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কৃষিখাত ও প্রাণিজ আমিষের উৎপাদনে নারীর অবদান শতভাগ হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নারীদের অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি আমাদের দেশেও প্রশাসনিক সভা-সমিতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জোর দিতে হচ্ছে। নারীরা সক্রিয় না হলে প্রকৃত রূপান্তর সম্ভব নয়।’
গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আখতার নির্বাচনের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার কমিশনে ৩০০ আসনে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সেই হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে যে নারীরা সামনে ছিলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বা সংসদে তাদের ঠাঁই হলো না- এটি উদ্বেগের বিষয়।’
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্র কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না। এই বিচারহীনতা ও ‘মেনে নেওয়া’র সংস্কৃতি ভাঙতে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীর পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা আদায় করে নিতে হবে।
নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া ফেরদৌসি রব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা, ড. বুশরা জামান, সীমা দাস শিমু এবং শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলামসহ অনেকে।
জয়ন্ত সাহা/নাঈম