৪৩তম বিসিএসের সর্বশেষ গেজেটে বাদ পড়া চাকরি প্রত্যাশীরা তাদের নিয়োগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে তারা এ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ২২২ জন গেজেট বঞ্চিত প্রার্থী।
এদিন সকাল থেকে সচিবালয়ের সামনে অপেক্ষা করেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি ৪৩তম বিসিএস-এ বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীরা। তবে তাদের কাঙিক্ষত চাকরিতে নিয়োগ পেতে একটি আবেদন সন্ধ্যার কিছু আগে জনপ্রশাসনে মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে জমা দিতে পেরেছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাদ পড়া চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ৪৩তম বিসিএস-এর সর্বশেষ গেজেটে বাদ পড়া এসব চাকরিপ্রত্যাশী চাকরিতে যোগদানের দাবি নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। কেন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে সে কারণ জানতে চান তারা। একই সঙ্গে চাকরিতে সুযোগ না পেলে এ সময় আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশপদে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুসারে ২২ হাজার ও ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগ দিতে হবে।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএস-এর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নতুন প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লেন ১৬৮ জন।
২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলে ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডারে ২ হাজার ৮০৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। ক্যাডার পদে ২ হাজার ১৬৩ জন ও নন-ক্যাডারে ৬৪২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশের দীর্ঘ ১০ মাস পর ১৫ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়, সেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েন ৯৯ জন। নতুন প্রজ্ঞাপনসহ সব মিলে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়েন ২৬৭ জন।
৪৩ বিসিএস থেকে বাদ পড়া চাকরি প্রত্যাশীরা বলেন, এই সরকারের আমলেই ৩০ ডিসেম্বর গেজেটে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন মোট ২৬৭ জন বাদ হয়েছেন। নতুন করে ভেরিফাই হয়ে বাদ পড়েছেন ২২২ জন। মেডিকেল না করায় বাদ পড়েছেন ৪৫ জন।
বাদ পড়া চাকরি প্রত্যাশী মাহবুব আলম বলেন, ‘বাদ দিয়েছে কেন, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।’
আরেক প্রত্যাশী রাকিব হাসান বলেন, ‘রাষ্ট্রদোহী অথবা ফৌজদারি মামলার কোনো অজুহাত না থাকলেও, কি কারণে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি।’
৪৩ বিসিএস থেকে বাদ পড়া সাকিব আহমেদ বলেন, ‘২০২০ থেকে ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো আমরা চাকরিতে যোগ দিতে পারিনি। আজ এসেছে, কেন আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তার কারণ জানতে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে আমাদের ১৭ নভেম্বর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে আরেক গেজেটে ১ জানুয়ারি যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর আরেক গেজেটে ২৬৭ জনকে বাদ দিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত হয়েও চাকরিতে যোগ দিতে না পারলে আমাদের আদালতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’