ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার লাল কার্ড দেখা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল ফিফা ‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা চিংদাও উপকূলে যৌথ মহড়ায় নামছে চীন ও রাশিয়া চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু বন্ধু দেশকে ছাড়, হরমুজে নতুন ফি আরোপের ঘোষণা ইরানের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ফুটবল: লক্ষ্মীপুরে চ্যাম্পিয়ন ‘জাফরনগর স্মার্ট ভিলেজ’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে স্বামীর দেওয়া আগুনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭১ জন ২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে কে এই মুসলিম রেফারি? বিশ্বকাপ কাঁপানো ভোজিনহাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি! নিরাপত্তা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি, আটক সোহানী শিফা আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে বাংলা একাডেমি ও ঢাবি হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’ ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০ ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় দেখছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু

ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনায় হামের প্রাদুর্ভাবে ২৮৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনায় হামের প্রাদুর্ভাবে ২৮৪ শিশুর মৃত্যু
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম-হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: সংগৃহীত

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশু। এর মধ্যে ২৮৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। 

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তনের ফলে দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারির রূপ দিয়েছে।

হাসপাতালগুলোর করুণ চিত্র

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হামের প্রাদুর্ভাবে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হামের প্রকোপে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে আসা শিশুরাও সংক্রমিত হয়েছে এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে।

গত ৭ এপ্রিল ঢাকা শিশু হাসপাতালে কণিকা আক্তারের ছয় মাস বয়সি যমজ কন্যা রিসা হামে মারা যায়। একই আইসিইউ বেডে তার আরেক কন্যা রুহি এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে এ ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে। সারা দেশে তখন সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সংকটের সূত্রপাত

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শিশু টিকাদানে ঈর্ষণীয় সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়ে আসছিল। ইউনিসেফ এবং গাভি (Gavi)-এর সহায়তায় নিয়মিত হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হতো। কিন্তু সায়েন্স ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইউনিসেফ সে সময় এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল যে, এর ফলে টিকাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে টিকার সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশজুড়ে রুটিন টিকাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ও ঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এবং দ্রুতই তা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ছড়িয়ে পড়ে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলমগীর জানান, ২০২৪ সাল থেকে দেশে ভিটামিন-এ বিতরণের তিনটি ক্যাম্পেইন বন্ধ ছিল। শিশুদের অপুষ্টি ও ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি হামের মৃত্যুহার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জবাবদিহিতা ও আইনি পদক্ষেপ

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও ক্ষোভ বাড়ছে। ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাস দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান সায়েন্সকে দেওয়া এক ইমেইলে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা জরুরি আইনের পরিবর্তে প্রচলিত নিয়মে টিকা কেনার উদ্যোগ নেন। তবে কোথায় ভুল হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

বর্তমান নির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগতে পারে।

রাজু/রিফাত/

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলা একাডেমির সভাপতি, সৎ সাহসী, সত্যবাদী, নির্ভীক, নির্মোহ ও নিবেদিত দেশপ্রেমিক, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মননশীল জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর। এমন মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজকর্মী সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী।

রবিবার (৫ জুলাই) মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম ও মা জাহানারা খাতুন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬১ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি মুনির চৌধুরী, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও নীলিমা ইব্রাহিমের মতো বিদগ্ধ শিক্ষকের সংস্পর্শে এসে প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন। এ সময় তিনি শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, একজন চিন্তাবিদ ও পথপ্রদর্শক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নজরুল রচনাবলীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন এবং ১৯৮২ সাল থেকে ‘লোকায়ত’ নামক প্রগতিশীল সাময়িকপত্র সম্পাদনা করে আসছিলেন।

সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

তিনি একুশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২), নৈতিকতা : শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি (১৯৮১), রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৯), আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা (২০০৪), রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ (২০০৮) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনুবাদ করেছেন বার্ন্ট্রান্ড রাসেলের ‘রাজনৈতিক আদর্শ এবং নবযুগের প্রত্যাশায়’। এ ছাড়া ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা ও আকবরের রাষ্ট্রসাধনা’ তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের দুই সন্তান অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন ও ফয়সল আরেফিন দীপন। শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ছেলে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ, হতাশ এই বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, উভয়পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।’

এটি সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় বিচার ব্যবস্থা নিয়ে। ফলে আবুল কাসেম ফজলুল হক শুধু একজন লেখক বা অধ্যাপক নন; তিনি ছিলেন এক প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, যিনি সাধারণ মানুষের মুক্তি ও সমাজের অগ্রগতি নিয়ে ভাবতেন। তাঁর প্রবন্ধ, গবেষণা ও সম্পাদনা বাংলাদেশের চিন্তা জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি সমকালীন সমাজে প্রগতির আলোকবর্তিকা হয়ে আছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বাদ ফজর মিরপুরের পল্লবীর মসজিদুল আমান মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।  

এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অধ্যাপক আবুল কাসেমের লাশ যথাক্রমে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা বাংলা একাডেমি, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা শহিদ মিনার এবং দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অপরাজেয় বাংলায় রাখা হবে।

এসএন/

৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ পিএম
৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ৬ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। 

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

রবিবার (৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ১৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসামের বরাক উপত্যাকা এবং মায়ানমারের পার্বত্য এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (৫ জুলাই) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখককে হারালো।

তিনি বলেছেন, তার মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক রবিবার বিকেলে রাজধানীতে ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

এসএন/

সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। 

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জয়নাল আবেদীন মানিক, রবিন তাজ, মামুন লস্কর সরকার, মো. হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম এবং মো. ইসমাইল ওরফে রুবেল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, গত বছরের শেষের দিক থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেইজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে বিভিন্ন অজ্ঞাত ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে ভাবমূর্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে র‍্যাব ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়। পরে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১৪ জন ডিআইজি রয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ হতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, ডিআইজি এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মঈনুল হক, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জামিল হাসান, ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা, অতিরিক্ত ডিআইজি এস. এম. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

রিফাত/