কোনো মুসলমানের মৃত্যুর পর তার গোসল, কাফন, জানাজা নামাজ ও দাফনের ব্যবস্থা করা অন্য মুসলিমদের কর্তব্য। এ নামাজ ফরজে কেফায়া (অর্থাৎ মহল্লার কিছুসংখ্যক লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে)। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
জানাজার নামাজ পড়ার পদ্ধতি হলো, মৃত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী; ইমাম তার সিনা বরাবর দাঁড়াবে। আল্লাহর ইবাদত হিসেবে জানাজা আদায়ের নিয়ত করতে হবে। এভাবে নিয়ত করবে—‘জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায় করছি।’ এরপর তাকবিরে তাহরিমা বলবে এবং কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। এরপর নাভির নিচে হাত বেঁধে সানা পড়বে। নামাজের সানার চেয়ে একটু ভিন্ন। সানাটি হলো—
سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ
বাংলা উচ্চারণ: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা, ওয়া তাবারকাসমুকা, ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা সানা-উকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনার। আপনি সব ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র। আপনার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ, আপনার মহত্ত্ব বড়, আপনার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই।
সানা পড়ার পর তাকবির বলে নামাজে পঠিতব্য দরুদ শরিফ পড়বে। দরুদ শরিফ হলো—
اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করো, যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করো, যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১২৯১)
এরপর তাকবির বলে দোয়া পড়বে। মৃত যদি নাবালক পুরুষ বা নারী হয়, তাহলে এই দোয়াটি পড়া—
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَنَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلٰى الْاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلٰى الْاِيْمَانِ
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হাইয়িনা ওয়া মাইয়িতিনা, ওয়া শাহিদিনা ওয়াগা ইবিনা, ওয়া সাগিরিনা ওয়া কাবিরিনা, ওয়াজাকারিনা ওয়া উংসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহ ইহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান।’
বাংলা উচ্চারণ: হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং অনুপস্থিতদের, ছোট এবং বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। (তিরমিজি, হাদিস: ৯৪৫)
মৃত যদি ছেলে শিশু হয় তবে এই দোয়া পড়া—
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفِّعًا
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতও, ওয়াজআলহু লানা আজরাও, ওয়া জুখরাও, ওয়াজ আলহু লানা শা ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
আর মেয়ে শিশু হলে এই দোয়া পড়া—
اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًاً , وَّاجْعَلْهَا لَنَا أَجْرًا وَّذُخْرًا , اَللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا شَفِيْعَةً وَّمُشَفَّعَة
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারাতও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া জুখরাও, ওয়াজ আলহা লানা শা ফিআতাও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। প্রথম তাকবির ছাড়া অন্য কোনো তাকবিরের সময় হাত ওঠানো যাবে না, হাত ছাড়াও যাবে না। এই চার তাকবির বলা জরুরি। একটি না বললেও নামাজ শুদ্ধ হবে না। উল্লিখিত সব দোয়া ধীরে ধীরে পড়তে হবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৭২৩৮, আল আযকার, ইমাম নববি, পৃষ্ঠা: ৩৬৭)