ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী ‘মাদক ছাড়ুন, না হলে বিপদে পাশে কাউকে পাবেন না’ শিয়াল ও ছাগল বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা প্রজাপতির অভিমান মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি: কার্লোস তেভেজ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় খুন, অবশেষে ধরা মূল আসামি এলপিজি সিলিন্ডারের মতো তেলের দামও কমবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নের আর্জেন্টিনা কোচের কড়া জবাব নিয়োগ দেবে মীনা বাজার ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু আগস্টে শিবচরে কাভার্ড ভ্যানেরচাপায় নিহত ২, আহত ২ মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মতলবে ছেলের হাতে মা খুন

জানাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৪৮ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৪৪ এএম
জানাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া
জানাজা নামাজের ছবি। ইন্টারনেট

কোনো মুসলমানের মৃত্যুর পর তার গোসল, কাফন, জানাজা নামাজ ও দাফনের ব্যবস্থা করা অন্য মুসলিমদের কর্তব্য। এ নামাজ ফরজে কেফায়া (অর্থাৎ মহল্লার কিছুসংখ্যক লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে)। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।

 

জানাজার নামাজ পড়ার পদ্ধতি হলো, মৃত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী; ইমাম তার সিনা বরাবর দাঁড়াবে। আল্লাহর ইবাদত হিসেবে জানাজা আদায়ের নিয়ত করতে হবে। এভাবে নিয়ত করবে—‘জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায় করছি।’ এরপর তাকবিরে তাহরিমা বলবে এবং কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। এরপর নাভির নিচে হাত বেঁধে সানা পড়বে। নামাজের সানার চেয়ে একটু ভিন্ন। সানাটি হলো—

 

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ

 

বাংলা উচ্চারণ: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা, ওয়া তাবারকাসমুকা, ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা সানা-উকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।’

 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনার। আপনি সব ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র। আপনার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ, আপনার মহত্ত্ব বড়, আপনার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই। 

 

সানা পড়ার পর তাকবির বলে নামাজে পঠিতব্য দরুদ শরিফ পড়বে। দরুদ শরিফ হলো—

 

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করো, যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করো, যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১২৯১)

 

এরপর তাকবির বলে দোয়া পড়বে। মৃত যদি নাবালক পুরুষ বা নারী হয়, তাহলে এই দোয়াটি পড়া—

 

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَنَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلٰى الْاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلٰى الْاِيْمَانِ

 

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হাইয়িনা ওয়া মাইয়িতিনা, ওয়া শাহিদিনা ওয়াগা ইবিনা, ওয়া সাগিরিনা ওয়া কাবিরিনা, ওয়াজাকারিনা ওয়া উংসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহ ইহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান।’

বাংলা উচ্চারণ: হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং অনুপস্থিতদের, ছোট এবং বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। (তিরমিজি, হাদিস: ৯৪৫)

 

মৃত যদি ছেলে শিশু হয় তবে এই দোয়া পড়া—

 

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفِّعًا

 

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতও, ওয়াজআলহু লানা আজরাও, ওয়া জুখরাও, ওয়াজ আলহু লানা শা ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।’

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়। 

 

আর মেয়ে শিশু হলে এই দোয়া পড়া—

اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًاً , وَّاجْعَلْهَا لَنَا أَجْرًا وَّذُخْرًا , اَللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا شَفِيْعَةً وَّمُشَفَّعَة

 

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারাতও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া জুখরাও, ওয়াজ আলহা লানা শা ফিআতাও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।’

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়। 

 

চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। প্রথম তাকবির ছাড়া অন্য কোনো তাকবিরের সময় হাত ওঠানো যাবে না, হাত ছাড়াও যাবে না। এই চার তাকবির বলা জরুরি। একটি না বললেও নামাজ শুদ্ধ হবে না। উল্লিখিত সব দোয়া ধীরে ধীরে পড়তে হবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৭২৩৮, আল আযকার, ইমাম নববি, পৃষ্ঠা: ৩৬৭)

সাক্ষাৎকার ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’
ছবি: খবরের কাগজ

আধুনিক জীবনযাত্রার নানা স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে মানুষ ক্রমেই প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এমনই এক বহুল আলোচিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হিজামা বা কাপিং থেরাপি। হিজামার উপকারিতা, ইসলামে এর অবস্থান, নিরাপদ চর্চা এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন হিজামা থেরাপিস্ট সৈয়দ নুর নবী, ডিএমএস, ডিপিএম, সিপি। তিনি হাই লেভেল ওয়েলনেস (যুক্তরাজ্য) থেকে হিজামা থেরাপিতে সনদপ্রাপ্ত, ওএমটি ট্রেনিং (যুক্তরাজ্য) থেকে আইডিএমসিটি এবং ইউডেমি থেকে এএইচডিসিটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত তিব্ব হিদায়া হিজামা সেন্টারের ফাউন্ডার ও প্রধান হিজামা থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

হিজামা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামা বা Wet Cupping Therapy একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ কাপের মাধ্যমে ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে সাকশন বা নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরপর ত্বকের ওপরের স্তরে Superficial Incision দেওয়া হয়। হিজামা শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি পদ্ধতি। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক থেরাপি হিসেবে পরিচিত।

ইসলামে হিজামার গুরুত্ব কী? এ বিষয়ে কি কোনো সহিহ হাদিস রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে হিজামা গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে হিজামা হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা। (আবু দাউদ, ৩৮৫৭)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি ফেরেশতার যে দল সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তারা সবাই বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন। (তিরমিজি, ২০৫২) সুতরাং মুসলমানদের কাছে এটি শুধু একটি থেরাপি নয়, বরং সুন্নাহ পালনের একটি মাধ্যমও।

বর্তমানে মানুষ কেন হিজামার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে?

সৈয়দ নুর নবী: বর্তমানে মানুষ আগের তুলনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক সচেতন। তারা শুধু রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং সুস্থতা বজায় রাখা, ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের দিকেও আগ্রহী হচ্ছেন। এ কারণেই হিজামা ধীরে ধীরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কোন কোন সমস্যায় হিজামা উপকারী?

সৈয়দ নুর নবী: একসময় সাধারণ মানুষ হিজামাকে মূলত ঘাড়, কাঁধ, কোমর, পিঠ ও হাঁটু ব্যথার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাইগ্রেন, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অনিদ্রা, নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ, এলার্জি এবং গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অনেক মানুষ হিজামা গ্রহণ করে উপকার পাচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় হিজামার উপকারিতার তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

হিজামা করার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো সময় বা সুন্নাহ তারিখ রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হাদিসে চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি (চন্দ্রমাসের) ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করবে, তা তার জন্য বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্যের কারণ হবে। (ইবনে মাজাহ, ৩৪৮৬) এছাড়া হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা গ্রহণ করতেন। (তিরমিজি, ২০৫১)

ফকিহরা বলেছেন, এ তারিখগুলোতে হিজামা করা মুস্তাহাব বা উত্তম বলে বিবেচিত হলেও জরুরি চিকিৎসাগত প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট তারিখের অপেক্ষা না করে যেকোনো সময় হিজামা করা বৈধ। সুন্নাহ তারিখের ফজিলত স্বীকার গ্রহণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক হিজামার অনুমতি ইসলামে রয়েছে।

হিজামা করার সময় কি ব্যথা লাগে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্ম ইনসিশন দেওয়া হয়, সেটি খুব অগভীর হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ শুধু হালকা খোঁচা অনুভব করেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু রোগী হিজামা করার সময় এতটাই স্বস্তি অনুভব করেন যে, তারা হিজামার বেডেই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার অনেক রোগী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেছেন, তারা কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করেননি; বরং হালকা সুড়সুড়ি ধরনের অনুভূতি হয়েছে। প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতিতে হিজামা করা হলে এটি সাধারণত সহনীয় একটি প্রক্রিয়া।

মজার বিষয় হলো, রোগীরা হিজামা শেষে ব্যথার কথা নয়, বরং শরীরের হালকা অনুভূতি, স্বস্তি এবং প্রশান্তির কথাই বেশি উল্লেখ করেন।

প্রথমবার যারা হিজামা করতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

সৈয়দ নুর নবী: প্রথমবার হিজামা করতে আগ্রহীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো–প্রথমে হিজামা সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করুন এবং একজন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট নির্বাচন করুন। হিজামা করার আগে নিজের স্বাস্থ্যগত তথ্য, পূর্বের রোগ, নিয়মিত গ্রহণ করা ওষুধ বা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থা থাকলে তা অবশ্যই থেরাপিস্টকে জানানো উচিত। এতে রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

যারা এখনো হিজামা সম্পর্কে দ্বিধায় আছেন, তাদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামাকে অলৌকিক কোনো চিকিৎসা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই, আবার কম জানার কারণে অবহেলাও করা উচিত নয়। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক ও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা সঠিকভাবে এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত। সচেতনতা, বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা এবং নিরাপদ চর্চাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ নুর নবী: আমি মনে করি বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কারণ, হিজামা কোনো নতুন বিষয় নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চর্চিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে Hijama একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় Therapy হিসেবে চর্চা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও হিজামা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা, প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প থেরাপি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে হিজামা ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ঘটলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও হিজামা আরও ব্যাপক আকারে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর দরবারে নবিজির দোয়া-বদদোয়া উভয়ই গ্রহণীয়। নবিজি (সা.) যার জন্য দোয়া করেছেন সে ইহকাল ও পরকালে সফল। আর যার জন্য বদদোয়া করেছেন তার উভয় জাহান ধ্বংস। আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকেও সে বরখাস্ত। তাই আমাদের উচিত নবিজির বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকা। 

সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী: ইসলামে সুদ সম্পর্কিত সব কাজ কর্ম হারাম। আল্লাহর নবি (সা.) সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর ওপর লানত করেছেন।’ (মুসলিম, ১৫৯৮)

ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা: ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টিই হারাম। যারা ঘুষ দেবে আর গ্রহণ করবে নবিজি তাদের সবাইকে লানত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, ৩৫৮০)

নারী-পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারী: ইসলামে নারী-পুরুষের আলাদা পোশাক পরিচ্ছেদ ও সাজসজ্জা রয়েছে। নারী-পুরুষের কেউ যদি একে অন্যের বেশ ধারণ করে তাহলে আল্লাহর নবি তাদের লানত করেছেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন।’ (বুখারি, ৫৮৮৫)

শরীরে উল্কি (ট্যাটু) আঁকা ও অঙ্কনকারী: মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীর মহান আল্লাহর দান। নিজ ইচ্ছায় কোনো অঙ্গের ক্ষতি করা বা কোনো কিছু অঙ্কন করা মহাপাপ। নবিজি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) উল্কি আঁকে এবং আঁকায় এমন ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন। (বুখারি, ৫৯৩১)

হিল্লার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি: তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কৌশল অবলম্বন করে বিয়ে করা হারাম। আর ইসলামে এই পদ্ধতিকে হিল্লা বলা হয়। নবিজি হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়কেই লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়ের ওপরই লানত।’ (বুখারি, ২৬৩৯)

লেখক: খতিব, ভবানীপুর জামে মসজিদ, গাজীপুর

৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৫ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক