একা নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। জামাতে নামাজ পড়া ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন, ‘রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)
জামাতের নামাজে দাঁড়ানোর সঠিক পদ্ধতি হলো, ইমামের সঙ্গে একজন পুরুষ মুক্তাদি (ইমামের অনুসরণকারী) থাকলে সে ইমামের ডানপাশে দাঁড়াবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘একবার আমি আমার খালার (উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা (রা.) ঘরে রাতযাপন করলাম। নবি (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর সঙ্গে নামাজে দাঁড়ালাম। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৯৯)
মুসল্লি একজন হলে ইমামের ডানদিকে তার বরাবর দাঁড়াবে। ঠিক বরাবর দাঁড়ালে যেহেতু কখনো মুক্তাদি ইমামের সামনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে; তাই কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন, ‘মুক্তাদি এভাবে দাঁড়াবে যে, তার পায়ের আঙুল ইমামের পায়ের গোড়ালি বরাবর থাকবে।’
মুক্তাদি একাধিক পুরুষ হলে তারা ইমামের পেছনে কাতার করে দাঁড়াবে। নারীদের কাতার সর্বাবস্থায় পুরুষদের কাতারের পেছনে হবে। এমনকি নারী মুক্তাদি একজন হলেও এবং মাহরাম হলেও সে পেছনে দাঁড়াবে। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সুলাইম (রা.)-এর ঘরে নামাজ আদায় করেন। (রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন) আমি ও একজন বালক তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। আর উম্মে সুলাইম (রা.) আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৮৭১; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৯১; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক