ইসলামি শরিয়তের বিধান মোতাবেক প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, স্থায়ী, সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। শরিয়তের নিদের্শনার আলোকে মোট ১০ শ্রেণি মানুষের ওপর রমজানের রোজা ফরজ। যথা―
১. মুসলমান―মুসলিম ব্যক্তির জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। (আদ-দুররুল মুখতার, ২/৩৮১)
২. বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক―নাবালগের ওপর রোজা ফরজ নয়। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৩৮১)।
৩. সুস্থ ব্যক্তি―শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার বিধান নেই। তবে সাধারণ অসুখ-বিসুখ হলে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকা ঠিক হবে না। যদি কেউ এমন অসুস্থ হন যে, রোজা রাখলে তার প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বা রোজা রাখার কারণে তার মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলে সে ক্ষেত্রে রোজা রাখতে হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৪২১)
৪. সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী―পাগলের ওপর রোজা ফরজ নয়। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৮১)
৫. স্বাধীন―পরাধীন ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৩৮১)
৬. সজ্ঞান―অর্থাৎ যিনি রোজা রাখবেন তিনি নিজ জ্ঞানে বা স্বেচ্ছায় আল্লাহর হুকুম পালন করবেন। কারও জোরাজুরিতে নয়। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৩৮১)
৭. মুকিম―স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। মুসাফিরের ওপর রোজা ফরজের ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৯০৬৭)
৮. পবিত্র―নারীদের হায়েজ বা নেফাস থেকে মুক্ত হতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৩৮১)
৯. সক্ষমতা―রোজা রাখার দ্বারা শারীরিক কোনো ক্ষতি হলে, রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৩৮২)
১০. প্রতিবন্ধকতা মুক্ত―রোজা পালনের প্রতিবন্ধকতাসমূহ থেকে মুক্ত হওয়া।
অপরদিকে মোট ১০ শ্রেণির মানুষের রোজা রাখতে হবে না। তারা হলেন―
১. কাফের বা অমুসলিম―কারণ, তারা ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না।
২. অপ্রাপ্তবয়স্ক―অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখা ফরজ নয়।
৩. পাগল―পাগল বলতে সাধারণত যার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, তাকে বোঝায়।
৪. অতিশয় বৃদ্ধ―এমন বয়স্ক মানুষ, যিনি ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে পারেন না। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৪২৫-২৭)।
৫. অক্ষম―রোগব্যাধি বা শারীরিকভাবে এমন অক্ষম ব্যক্তি, যার রোজা রাখার সামর্থ্য ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই—তাদের ওপরও রমজানের রোজা পালনের বিধান নেই। (আদ্দুররুল মুখতার, ২/৪২২)
৬. মুসাফির―মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রোজা রাখাই উত্তম। অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোজা রাখবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৯০৬৭ )
৭. অসুস্থ―যেসব রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ভবিষ্যতে বা পরবর্তী সময়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার জন্য রমজানের রোজা পালন থেকে বিরত থাকার অনুমতি রয়েছে। (আলমুহীতুল বুরহানি, ৩/৩৫৯)
৮. ঋতুবতী নারী―ঋতুকালীন নারীর জন্য রোজা রাখা জায়েয নয়; বরং নিষেধ। পরবর্তী সময়ে ছুটে যাওয়া রোজাগুলোর কাজা করতে হবে। (ফাতওয়া তাতারখানিয়া, ৩/৪২৮)
৯. গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী―যদি গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী রোজা রাখার কারণে তার নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা হয়, তবে সে রোজা ভাঙতে পারবে এবং পরে নিরাপদ সময়ে সে রোজার কাজা আদায় করে নেবে। (আল-মুহিতুল বুরহানি, ৩/৩৫৯)
১০. সাহায্যকারী―অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে রোজা ভেঙে ফেলতে বাধ্য ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে ওই রোজাটির কাজা আদায় করবে।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক