গ্রুপ ‘জি’তে শেষ ম্যাচের আগে জমে উঠেছে হিসাব-নিকাশ। দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে মিসর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইরানের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট, একই পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে বেলজিয়াম। সবার নিচে থাকা নিউজিল্যান্ডের আছে ১ পয়েন্ট।
ফলে এখনো চার দলের সামনেই খোলা আছে নকআউটে ওঠার সুযোগ। শনিবার (২৭ জুন) সকালে একদিকে মুখোমুখি হবে মিসর ও ইরান, অন্য ম্যাচে খেলবে বেলজিয়াম ও নিউজিল্যান্ড। তবে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে মিসর-ইরান ম্যাচে, কারণ এই লড়াই থেকেই বদলে যেতে পারে পুরো গ্রুপের চিত্র।
প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ অবস্থানে চলে আসে মিসর। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকো সমতা ফেরান, এরপর ৬৭ মিনিটে গোল করেন মোহাম্মদ সালাহ। শেষ দিকে বদলি নেমে ত্রেজেগে নিশ্চিত করেন জয়। ফলে গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসে আফ্রিকার দলটি।
অন্যদিকে ইরান দেখিয়েছে ভিন্ন চরিত্র। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র। পরে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেয় বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে। দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে। পুরো ম্যাচে সংগঠিত রক্ষণ আর শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে আমির ঘালেনোইয়ের দল। এমনকি বেলজিয়াম একজন কম নিয়ে খেললেও ইরান নিজেদের রক্ষণভাগ ভাঙতে দেয়নি।
এই ম্যাচে মিসরের বড় ভরসা মোহাম্মদ সালাহ। আগের ম্যাচে গোল করে ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই আক্রমণ সাজাতে চাইবেন কোচ হোসাম হাসান। তার সঙ্গে থাকবেন মোস্তফা জিকো, ত্রেজেগে ও ওমর মারমুশ। মাঝমাঠে থাকবেন মোহানাদ লাশিন ও মারওয়ান আতিয়া। মিসরের সুখবর হলো, নতুন কোনো চোট বা নিষেধাজ্ঞার সমস্যা নেই।
ইরানের শক্তি তাদের রক্ষণ আর পাল্টা আক্রমণ। মেহদি তারেমিকে সামনে রেখে আক্রমণে উঠবে দলটি। মাঝমাঠে সামান ঘোদ্দোস ও সাঈদ এজাতোলাহিকে ঘিরে থাকবে খেলার নিয়ন্ত্রণ। গোলপোস্টে থাকবেন আলিরেজা বেইরানভান্দ, যিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ক্লিন শিট রেখেছিলেন। ইরানের দলেও নেই চোট বা নিষেধাজ্ঞার ঝামেলা।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াই হতে পারে সালাহ বনাম শোজায়ে খলিলজাদেহ। মিসরের আক্রমণের প্রাণ সালাহকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে ইরানের এই অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ নেতার ওপর। আর মাঝমাঠে মোহানাদ লাশিন ও সামান ঘোদ্দোসের দ্বৈরথও ম্যাচের গতি নির্ধারণ করতে পারে।
সমীকরণও বেশ স্পষ্ট। মিসর জিতলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিতভাবে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ যাবে। ইরান জিতলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে যেতে পারে শীর্ষে কিংবা দ্বিতীয় স্থানে। আর ড্র হলে মিসর অনেকটাই নিরাপদ থাকবে, কিন্তু ইরানকে অপেক্ষা করতে হতে পারে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সামনে কঠিন পরীক্ষা। প্রথম ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ২-২ ড্র করলেও পরে মিসরের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তারা। অন্যদিকে বেলজিয়াম এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি; একটি ড্র মিসরের বিপক্ষে, আরেকটি ইরানের বিপক্ষে। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের সামনে এবার জয়ের বিকল্প নেই। যদিও তাদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজেই। শেষ ম্যাচে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।