দীর্ঘ দেড় দশক লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ ফুটবল বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিল। ক্লাব ফুটবল হোক আর বিশ্ব মঞ্চের প্রতিযোগিতা; সবখানেই দুই তারকার আধিপত্য। সময়ের পরিক্রমায় সেই মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়ের লেখা চলছে। কিন্তু এরপর কি হবে? এখানে ফুটবলপ্রেমীদের সৌভাগ্যবান বলতেই হয়। নতুন দ্বৈরথের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। এ প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে হাজির দুই মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আজ যাদের মুখোমুখি দ্বৈরথ দেখা যাবে।
এমবাপ্পের দল ফ্রান্স ও হালান্ডের নরওয়ে এরই মধ্যে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই। বোস্টনে বাংলাদেশ সময় আজ (২৬ জুন) রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে দর্শকরা সেই উত্তর জানতে উদগ্রীব তো থাকতেই। তবে সবচেয়ে বেশি থাকবে এমবাপ্পে-হালান্ড লড়াই দেখতে।
মাঠে দুই তারকার খেলার কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যা এই দ্বৈরথকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পের পায়ে রয়েছে বিদ্যুৎ গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতা। বাম প্রান্ত থেকে ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে বক্সের ভেতর বা বাইরে, উভয় ক্ষেত্রেই কোনাকুনি শটে গোল করতে দক্ষ তিনি। সেনেগাল ও ইরাক, ফ্রান্সের প্রথম দুই ম্যাচেই জোড়া গোল পেয়েছেন তিনি। সুবাদে এবারও গোল্ডেন বুটের দাবিদার হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোল করার মালিকও বনে গেছেন। এবারের বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) দখলে। ১৮ গোলে লিওনেল মেসি সেটি দখলে নিয়েছেন। আর এমবাপ্পে ১৬ গোলে ক্লোসাকে ছুঁয়ে মেসির ঘাড়ে গরম নিশ্বাস ফেলছেন।
নিজের প্রথম বিশ্বকাপে কম যাচ্ছেন না আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার যেন গোল করার এক ‘স্বয়ংক্রিয় রোবট’। বক্সের ভেতর বল পেলেই তা জালে জড়িয়ে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। উচ্চতা, শারীরিক শক্তি আর দুর্দান্ত ফিনিসিং সেন্স দিয়ে বিশ্বের যেকোনো রক্ষণভাগকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে পারেন। এমবাপ্পের মতো প্রতি ম্যাচেই জোড়া গোল করছেন তিনি। দুই ম্যাচ থেকে ৪ গোল করে তিনিও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়টা ভালোই দৌড়াচ্ছেন। ম্যানচেস্টার সিটি তারকা ক্লাব ফুটবলে যেমন একের পর এক গোল করেছেন, সেই পারফরম্যান্সটা বিশ্বকাপেও অনুবাদ করে চলেছেন। এরই মধ্যে বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাবটাও নিজের করে ফেলেছেন তিনি।
গোল সমান হলেও বিশ্বকাপের এই মঞ্চে অভিজ্ঞতায় নিঃসন্দেহে এগিয়ে এমবাপ্পে। একটা নয়, আগেই দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। উভয় বিশ্বকাপের ফাইনালে দাপট দেখিয়েছেন। একটিতে চ্যাম্পিয়ন, অন্যটিতে রানার্স আপ। সে তুলনায় বিশ্বমঞ্চে হালান্ড একেবারে নতুন। তবে গোল করার অভিজ্ঞতাটা একেবারে কম নয়। ক্লাব ফুটবলে তো বটেই, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তার প্রমাণ রেখেছেন তিনি। ফলে বোস্টনে আজ যখন ফ্রান্স ও নরওয়ে মুখোমুখি হবে; তখন হাজারও ক্যামেরার লেন্সের কেন্দ্রে থাকবেন এই দুই তারকা।