বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই কঠিন সমীকরণ মেলাতেই দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিল ইকুয়েডর। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টই নয়, নিশ্চিত করেছে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গাও। যদিও হারলেও ‘ই’ গ্রুপের সেরা হিসেবেই নকআউটে উঠেছে জার্মানি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ছিল পুরোপুরি জার্মানদের। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্লোরিয়ান উইর্টজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে লিরয় সানে জাল খুঁজে নেন। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।
তবে সেই গোল নিয়ে আপত্তি তোলে ইকুয়েডর। তাদের দাবি ছিল, গোলের আগে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ পেদ্রো ভিতেকে ফাউল করেছিলেন। কিন্তু রেফারি সেই দাবি নাকচ করে গোলের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে ইকুয়েডর। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নিলসন আনহুলোর শক্তিশালী শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন ম্যানুয়েল নয়্যার। তাতেই ১-১ সমতায় ফিরে প্রথমার্ধ শেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। কর্নার থেকে কেভিন রদ্রিগেজের হেডে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান গনসালো প্লাতা। নয়্যারকে পরাস্ত করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
বাকি সময় লিড ধরে রাখে ইকুয়েডর। আর শেষ বাঁশি বাজতেই উদ্যাপনে মেতে ওঠেন দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। জার্মানির বিপক্ষে এই জয় তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হয়ে থাকবে।
গ্রুপ পর্ব শেষে তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। সমান ৬ পয়েন্ট পেয়েও রানার্সআপ হয়েছে আইভরি কোস্ট। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। অন্যদিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এর টিকিট কেটেছে ইকুয়েডর। আর মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ কুরাসাও।
সালমান/