ছবি: সংগৃহীত
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও লিওনেল মেসি তা মিস করেন। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।
সমতায় ফিরতে প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে লিওনেল মেসি কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলের জন্য বল সাজিয়ে দেন। ২০ গজ দূর থেকে ডি পলের নেওয়া নিচু শট অবশ্য সহজেই ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাকে মোহাম্মদ সালাহর বাড়ানো পাস ধরে এগিয়ে যান মোস্তাফা জিকো। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। কিন্তু আক্রমণ শুরুর আগে মারওয়ান আতিয়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর মনিটর দেখে সেই গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এরপর আক্রমণে উঠে গোল আদায় করে ছাড়েন জিকো। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠিয়ে মিশরের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন তিনি। আবারও দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ তৈরি করেন মোহাম্মদ সালাহ। দ্রুতগতির আক্রমণে বল নিয়ে এগিয়ে ডান প্রান্তে হাইসেম হাসানের কাছে পাস দেন তিনি। এরপর হাসান পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ক্রস করলে ছুটে আসা জিকো নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। আর তাতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর।
এরপর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ডান প্রান্ত থেকে মেসি নিখুঁতভাবে বল ভাসিয়ে দেন মিশরের পেনাল্টি বক্সে। সেখানে একদম ফাঁকায় থাকা টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান। তাতে স্কোরলাইন হয় ২-১।
এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি। বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। তার সেই শটটি ক্রসবারে লেগে জড়ায় জালে। তাতে সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনা।
আর ইনজুরি সময়ে (৯০+৩) মিশরের জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ডি-বক্সের কাছে মোহাম্মদ সালাহর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন হুলিয়ান আলভারেজ। এরপর দারুণ দক্ষতায় ডান প্রান্তে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের উদ্দেশে নিখুঁত পাস বাড়ান তিনি। তিনি জায়গা তৈরি করে পেনাল্টি বক্সে ক্রস পাঠান। সেই ক্রস থেকে এনজো দুর্দান্ত হেডে বলকে দূরের কোণায় পাঠিয়ে দেন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইরের কোনো সুযোগ ছিল না তা ঠেকানোর।
আর তাতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় মিশরের। দুই গোলের লিড ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিল তারা। অন্যদিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
এসজি/