মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রোজা রাখা। রমজানের ৩০ দিন নির্দিষ্ট সময় খাবার না খেয়ে থাকাই কিন্তু শুধু রোজা রাখার উদ্দেশ্য নয়। বরং ক্ষুধা সংযমের মতোই নিজেদের নেতিবাচক দিকগুলো ত্যাগ করার শিক্ষা নেওয়াই রমজানের উদ্দেশ্য। এই রমজানে কিশোর-তরুণদের মধ্যে প্রচলিত কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
অপভাষা বর্জন
স্ল্যাং বা অপভাষার সঙ্গে সারা বিশ্বের তরুণরাই পরিচিত। প্রতি বছর তরুণদের কথার মধ্য দিয়েই প্রচলিত হয় নিত্যনতুন অপভাষা। বন্ধুদের আড্ডায়, মজার ছলে, কাজের বিরতিতে কিংবা রাগ প্রকাশ করতে কখনো অর্থ না জেনেই অনেক অপভাষার প্রয়োগ করেন তরুণরা। তবে অনেক শব্দের অর্থই হয় অবমাননাকর, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক ও কুরুচিপূর্ণ। রমজানের পরিবেশ ইতিবাচক ব্যবহারে উৎসাহ দেয়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে বদলে নিতে পারেন অপভাষা প্রয়োগের অভ্যাস।
রাগ নিয়ন্ত্রণ
রোজা রাখা অবস্থায় বদমেজাজ কিংবা রাগারাগি প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে তো হবেই। পাশাপাশি এই মাস থেকেই চর্চা করতে পারেন মেজাজ নিয়ন্ত্রণের কৌশল। কোনো বিষয়ে উত্তেজনা অনুভব করলে করতে পারেন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। কিছুক্ষণ জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে মন শান্ত হয় ও রাগ কমে আসে।
মাদকদ্রব্য পরিহার
মাদকাসক্তি মূলত নিয়মিত অভ্যাসের ফল। রোজা রাখার মধ্য দিয়ে মাদক গ্রহণের অভ্যাস থেকে বিরত থাকার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি এ সময় বই পড়া, প্রার্থনা, গঠনমূলক কাজের মধ্য দিয়ে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে করে মস্তিষ্ককে মাদক গ্রহণের চিন্তা থেকে দূরে রাখা যাবে।
ঘুমের রুটিন
রাত জাগা ও সকালে দেরি করে ওঠার অভ্যাস অনেক কিশোর ও তরুণদের মধ্যেই আছে। কখনো কখনো এই অভ্যাসই পরিণত হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগে। রমজানে রাতের শেষ ভাগে সাহরি খাবার কারণে পরিবর্তন আসে ঘুমের সময়েও। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন ঘুমের রুটিন তৈরির কাজে। কারও কারও সাহরির আগ পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস। এটি পরিত্যাগ করে রাতে জলদি শুয়ে পড়ুন ও ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিন। সাহরির প্রয়োজনে ঘুম থেকে ওঠা তো হবেই। এর মধ্য দিয়ে রাতে জলদি ঘুমানো এবং সকালে ওঠার অভ্যাসও গড়ে তোলা যাবে।
সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ
রমজান মাস ঘিরে ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গড়ে ওঠে। সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ইফতার আয়োজন, ঈদ পোশাক, অর্থ প্রদানের উদ্যোগ নিয়ে থাকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ বাড়িয়ে তুলতে পারেন আপনিও।
জ্ঞানচর্চা
রমজানজুড়ে সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। তাই এ সময় বাড়িতে নিরিবিলি অনেকটা সময় পাওয়া যায়। এ সময় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও নিজের আগ্রহের বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত, দক্ষতামূলক কাজও আয়ত্ত করতে পারেন।